অনলাইনে পরীক্ষা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে অধিকাংশ কুবি শিক্ষার্থী!

করোনা মহামারীর কারণে দেড় বছর ধরে বন্ধ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। দীর্ঘ সময় ধরে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় সেশনজটের কবলে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। সেশনজট থেকে মুক্ত হতে অনলাইনে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চান অধিকাংশ শিক্ষার্থী।

সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতি পরিচালিত এক অনলাইন জরিপে দেড় হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। যার মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইনে পরীক্ষা দিতে চান। এছাড়া ২৫ জুন চলমান চূড়ান্ত পরীক্ষা বন্ধ হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী।

জানা যায়, করোনা সংক্রমণের ফলে গত বছরের ১৭ মার্চ হতে বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় গত বছরের ২০ ডিসেম্বর ও গত ১৩ জুন হতে দুই দফায় সশরীরে চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়া শুরু করে। কিন্তু করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় দুইবারেই পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তখন থেকে অনলাইনে পরীক্ষার নেওয়ার দাবি করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, দীর্ঘসময় ধরে বন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়। যার ফলে আমরা বড় সেশনজটের মধ্যে আছি। আমরা আটকে থাকলেও আটকে নেই চাকরির বাজার। বরং অস্থতিশীল হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় অনলাইনে চূড়ান্ত পরীক্ষার বিষয়ে ভাবতে হবে।

একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী মানজুরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ সময়ে অনলাইনে পরীক্ষা নিয়ে সেশনজট থেকে মুক্তি করে দিচ্ছে। অথচ আমরা পিছিয়ে রয়েছি। শিক্ষার্থীদেরকে ৪ বছর অনার্স শেষ করতে সময় লাগে ৬ বছর। এই সেশনজট থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী অনলাইনে পরীক্ষা দিতে নারাজ। তারা জানান, এদেশে অনলাইন ব্যবস্থা এখনও তৈরি হয়নি। পার্বত্য অঞ্চলে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। এছাড়া সবার পর্যাপ্ত আধুনিক ডিভাইস নেই। সেসব বিবেচনা করে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়া জরুরি।

এদিকে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী ডিজেস্টার রিকভারী গাইডলাইন প্রণয়ণ করতে আগ্রহী বিশ্ববিদ্যালয়। তাই ২৪ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় ডিজেস্টার রিকভারী গাইডলাইন প্রণয়ণ ও অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে দুইটি কমিটি করা হয়েছ। তবে দুইটি কমিটি দুইটি এখনো কার্যক্রম শুরু করেনি।

ডিজেস্টার রিকভারী গাইডলাইন প্রণয়ণ কমিটির আহ্বায়ক রশিদুল ইসলাম শেখ বলেন, কমিটি হয়েছে তবে আমি এখনো চিঠি পাইনি। চিঠি হাতে পেলে নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে কাজ শুরু করব।

শিক্ষার্থীরা চাইলে অনলাইনে চূড়ান্ত পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, এখনও কোনো বিশ্ববিদ্যালয় সেভাবে অনলাইন পরীক্ষা শুরু করেনি। যারা শুরু করেছে তাদের বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সব এলাকায় ভাল নেটওর্য়াক নাই। সবাই পরীক্ষায় বসতে পারবে না। তাহলে কিভাবে সম্ভব? করোনা সংক্রামণ কিছুটা কমলে আমরা সশরীরে পরীক্ষার কথা ভাবছি। তবে শিক্ষার্থীরা চাইলে অনলাইনে পরীক্ষার বিষয়টি ভেবে দেখব।

অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত পরীক্ষাগুলো অনলাইনে নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে আমরা কমিটি করে দিয়েছি। আমাদের পক্ষ হতে ইউজিসির সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী ভাইভা, প্রেজেন্টেশনগুলো এখন অনলাইনেই নিচ্ছি।

দৈনিক সত্যের সকাল/ মাঈনুদ্দীন (কুবি)

পূর্ববর্তী খবরপাবনায় ২৫ লাখ টাকার গাঁজাসহ ২ জন আটক!
পরবর্তী খবরমোংলা বন্দর কতৃপক্ষের সংবাদ সম্মেলন

Leave a Reply