আজ বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস।

আজ বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস।

আজ ৩ ডিসেম্বর, আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মর্যাদা সমুন্নতকরণ, অধিকার সুরক্ষা, প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে সচেতনতার প্রসার ও উন্নতি সাধন নিশ্চিতের লক্ষ্যে ১৯৯২ সাল থেকে জাতিসংঘ ঘোষিত এ দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালন করা হচ্ছে।

অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস পালিত হচ্ছে।

নেতৃত্বের বিকাশ বা অংশগ্রহণ অনেক দূরের বিষয়। বেঁচে থাকতেই রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয় প্রতিবন্ধীদের। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, গণপরিবহন, রাস্তাঘাট, কোথাও প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ নেই। কর্মসংস্থানের পথও বেশ কণ্টকাকীর্ণ। প্রতিবন্ধীদের নিয়ে সরকারের নেই দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা। সে জন্যই বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের প্রতিবন্ধীরা অনেক বেশি অবহেলিত। এমনটাই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বজুড়ে প্রতিবন্ধী দিবসের অনুগামিতার পিছনে আছে এক ঘটনাবহুল জীবনস্মৃতি। ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে বেলজিয়ামে এক সাংঘাতিক খনি দুর্ঘটনায় বহু মানুষ মারা যান। আহত পাঁচ সহস্রাধিক ব্যক্তি চিরজীবনের মতো প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাদের প্রতি সহমর্মিতায় ও পরহিতপরায়ণতায় বেশ কিছু সামাজিক সংস্থা চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কাজে স্বতঃপ্রবৃত্ত ভাবে এগিয়ে আসে। এর ঠিক পরের বছর জুরিখে বিশ্বের বহু সংগঠন সম্মিলিত ভাবে আন্তর্দেশীয় স্তরে এক বিশাল সম্মেলন করেন। সেখান থেকেই প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে বিস্তারিত সব তথ্যের হদিশ মেলে। সেখানে সর্বসম্মতভাবে প্রতিবন্ধী কল্যাণে বেশকিছু প্রস্তাব ও কর্মসূচি গৃহীত হয়। খনি দুর্ঘটনায় আহত বিপন্ন প্রতিবন্ধীদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস পালন করতে আহ্বান জানানো হয়। সেই থেকেই কালক্রমে সারা পৃথিবীর প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর দিন হয়ে উঠেছে।

দিবসটি উপলক্ষে উন্নয়নের মূলধারায় প্রতিবন্ধীদের একীভূতকরণ এবং ক্ষমতায়নের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তর, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দেশব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

পূর্ববর্তী খবরপাবনার চাটমোহরে র‌্যাব কর্তৃক ২কেজি গাঁজাসহ ১জন গ্রেফতার।
পরবর্তী খবরমেহেরপুরে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মানববন্ধন।

Leave a Reply