আজ বেগম রোকেয়া দিবস!

বেগম রোকেয়ার আদর্শ, সাহস ও কর্মময় জীবন অপার প্রেরণার উৎস হয়ে নারী সমাজকে এগিয়ে নিলেও একটি গোষ্ঠী নতুন করে নারীর অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। বেগম রোকেয়ার দর্শন ধারণ করতে না পারায় এমনটি ঘটছে বলে মনে করেন অনেকে।

উনবিংশ শতকে নারীরা যখন অবরোধবাসিনী, সেই সময় নারীর পরাধীনতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন বেগম রোকেয়া। এই উপমহাদেশে মুসলিম নারীর যে অগ্রগতি তা অর্জনে রোকেয়ার দর্শন ও কর্মময় জীবন অন্তহীন প্রেরণার উৎস হিসাবে কাজ করেছে। কিন্তু সেই পুরনো ধর্মান্ধতা নতুন করে আবার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে আর কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে রোকেয়াকে ধারণ করতে না পারার কথা।
এ বিষয়ে নারী অধিকারকর্মী শাহনাজ পারভীন বলেন, প্রতিবাদ করতে গেলেও আমরা ভাবছি যে, আমরা যে প্রতিবাদগুলো করছি তার বিরূপ কোন প্রতিক্রিয়া আমাদের উপর আসবে কি না?

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌসুলি জাহাঙ্গীর আলম তুহিন বলেন, আমরা যদি বেগম রোকেয়াকে সত্যিকারে অনুসরণ করতাম, তাহলে আমাদের বাংলাদেশের নারীরা এত বঞ্চিত হতো না।
বিশিষ্টজনরা বলছেন, তিনি ছিলেন বাংলার তৃণমূল থেকে গড়ে ওঠা নারীবাদের প্রবর্তক।

সাহিত্যিক অধ্যাপক শাহ আলম বলেন, ‍বেগম রোকেয়াকে নিয়ে আরও বেশি পড়াশুনা করতে হবে। তার সম্পর্কে বেশি করে জানতে হবে। একইসঙ্গে রোকেয়ার চাওয়া পাওয়া মূল্যায়ন করতে হবে। তাহলে আর অশক্তি আসতে পারবে না।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে রোকেয়ার বসতিটা রংপুরের পায়রাবন্দে গড়ে উঠেছে বেগম রোকেয়া গবেষণা ও স্মৃতি কেন্দ্র। কিন্তু মাঝে চারদলীয় জোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অবহেলা আর ভ্রান্তনীতির কারণে এর প্রাণ সঞ্চার হয়নি। এর অবকাঠামো পড়ে আছে অনেকটা অনাদর-অবহেলায়।

রংপুর বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, রোকেয়া গবেষণা ও স্মৃতি কেন্দ্র মন্ত্রণালয় পরিবর্তন করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আওতায় নেওয়া হয়। পরে ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এটি নিয়ে সেভাবে কাজ করা হয়নি। এসমস্ত কারণেই কিছুটা পিছিয়ে গেছে এর অবকাঠামো উন্নয়ন।

১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের পায়রাবন্দে এক জমিদার পরিবারে বেগম রোকেয়ার জন্ম। ১৯৩২ সালের এই দিনেই কলকাতায় স্বামীর বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

পূর্ববর্তী খবরকুমড়ার বড়ি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পরিচিতি পাচ্ছে।
পরবর্তী খবরনিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলাকারী ৩ মাস ছিল ভারতে

Leave a Reply