27 C
Dhaka
Sunday, December 4, 2022

আদালতে পম্পেও’র বিরুদ্ধে অভিযোগ: আমিরাতের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের আহ্বান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর পুরো সময়জুড়ে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত আরব দেশগুলো বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে বিপুল অংকের অস্ত্র বিক্রি করেছেন। এমনকি ক্ষমতা ছাড়ার আগ মুহূর্তেও ট্রাম্প আমিরাতের কাছে অস্ত্র বিক্রির পদক্ষেপ নেয়ায় তিনি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ‘নিউইয়র্ক সেন্টার ফর ফরেন পলিসি অ্যাফেয়ার’ সেদেশের ফেডারেল আদালতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে দুই হাজার ৩০০ কোটি ডলার মূল্যের মার্কিন অস্ত্র বিক্রি ঠেকানোর আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে তারা দু’দেশের অস্ত্র চুক্তিকে অনুপযুক্ত ও ত্রুটিপূর্ণ অভিহিত করে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে পম্পেওকে বাধ্য করার জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন,  ‘নিইউয়র্ক সেন্টার ফর ফরেন পলিসি অ্যাফেয়ার’এর পক্ষ থেকে পম্পেও’র বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়ের করা থেকে বোঝা যায়, সেদেশের সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরোধী বিভিন্ন সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বেশ সোচ্চার। এর আগেও আমিরাতের কাছে দুই হাজার ৩০০ কোটি ডলার মূল্যের মার্কিন বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অন্যান্য যুদ্ধসামগ্রী বিক্রির বিরুদ্ধে আমেরিকার মানবাধিকার গ্রুপ, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২৯টি সংস্থা এক যৌথ চিঠিতে আমিরাতের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেন ও লিবিয়ায় যুদ্ধে লিপ্ত। এ অবস্থায় তাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা হলে যুদ্ধকবলিত ওইসব এলাকায় বেসামরিক মানুষজন ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং আরো ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।

তবে ব্যাপক অনুরোধ ও সমালোচনা সত্বেও কংগ্রেসে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান দলের সদস্যরা ও হোয়াইট হাউজ রাজতন্ত্র শাসিত এই আরব দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রিতে বদ্ধ পরিকর। এর আগে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রিপাবলিক দলের একজন সিনেটরসহ ডেমোক্রেট দলের সিনেটররা আমিরাতের কাছে দুই হাজার ৩০০ কোটি ডলার মূল্যের মার্কিন অস্ত্র রপ্তানি বন্ধে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানরা সেটাকে নাকোচ করে দেয় এবং অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন এমনকি তিনি অস্ত্র বিক্রি বন্ধের জন্য উত্থাপিত প্রস্তাব পাশ হলেও তাতে ভেটো দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শরীক সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন করার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা আমিরাতের কাছে অস্ত্র বিক্রির তীব্র বিরোধী। এ ছাড়া লিবিয়ার গৃহযুদ্ধেও আমিরাত ধ্বংসাত্মক ভূমিকা রেখেছে। আমিরাত কোটি কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র লিবিয়ায় পাঠিয়েছে যুদ্ধের জন্য। ওই অঞ্চলে নিজের প্রভাব বিস্তার এবং তেল সমৃদ্ধ এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।

যাইহোক ব্যাপক সমালোচনা সত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমিরাতের কাছে অস্ত্র বিক্রিতে বদ্ধ পরিকর হলেও তিনি আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ ক্ষমতায় আছেন। এ অবস্থায় নতুন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আমলে ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।#

সূত্র:- পার্সটুডে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Leave a Reply

লেখক থেকে আরো