আর্জেন্টিনায় গর্ভপাত বিল পাস, বিক্ষোভ অব্যাহত।

আর্জেন্টিনায় গর্ভপাত বিল পাস, বিক্ষোভ অব্যাহত।

 

আর্জেন্টিনায় গর্ভপাতকে বৈধতা দিতে একটি বিল পাস করেছে দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ। দেশটিতে নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে গর্ভপাতকে বৈধতা দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল। পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত এক ভোটাভুটিতে ওই বিলের পক্ষে ভোট দেন ১৩১ জন আইনপ্রণেতা। বিপক্ষে ভোট দেন ১১৭ জন। বিবিসির এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

 

আইনে পরিণত হতে হলে বিলটিকে অবশ্যই পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে পাস হতে হবে। এ বছরের মধ্যেই সিনেটে এ ভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আর্জেন্টিনায় গর্ভপাত ঘটালে অনেক নারী মামলার মুখোমুখি হয়ে থাকেন।

প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজ এই বিলের প্রস্তাব দেন। বিলটি আইনে পরিণত হলে গর্ভধারণের ১৪ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাত ঘটানোর অধিকার পাবেন স্থানীয় নারীরা। বর্তমানে দেশটিতে শুধু ধর্ষণের শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে বা মাতৃত্বজনিত কারণে নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে গর্ভপাত ঘটানোর অনুমতি রয়েছে।

বিলের ওপর পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে গত বৃহস্পতিবার থেকে গত শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২০ ঘণ্টার বিতর্কে অংশ নেন আইনপ্রণেতারা। পরে বিলটির ওপর ভোটাভুটি হয়। সিনেটের ভোটে বিলের পক্ষে-বিপক্ষে জোর লড়াই হতে পারে। এর আগে ২০১৮ সালে গর্ভপাতকে বৈধতা দিয়ে আনা একই রকম একটি বিল নিম্নকক্ষে পাস হলেও সিনেট তা প্রত্যাখ্যান করে।

প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দেজ বলেন, ‘আমি একজন ক্যাথলিক। কিন্তু আমাকে সবার জন্য আইন করতে হবে।’ বৃহস্পতিবার তিনি আরও বলেন, এটি জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। একই দিন রোমান ক্যাথলিক চার্চ আবারও গর্ভপাতের বিরোধিতা করেছে। তবে দেশটির নারী, জেন্ডারবিষয়ক মন্ত্রী এলিজাবেথ গোমেজ অ্যালকোর্টা বলেন, ‘আমরা আমাদের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছি।’

এই বিলের প্রতিবাদে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছে লাতিন আমেরিকার দেশটিতে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, গর্ভপাত একটি হত্যাকাণ্ড। জানা যায়, ১৯৮৩ সাল থেকে অনিরাপদ গর্ভপাতের কারণে দেশটিতে কয়েক হাজার নারীর মৃত্যু হয়েছে।

পূর্ববর্তী খবরআফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলেএকের পর এক রকেট হামলায় অন্তত একজন নিহত ও আরো দু’জন আহত হয়েছে।
পরবর্তী খবরভাস্কর্য অবমাননার বিরুদ্ধে দিনাজপুর হাকিমপুর হিলিতে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত ।

Leave a Reply