ইট ভাটা গুলোতে শিশু শ্রমিকেরর সংখ্যা বেশী !

এম হামিদুর রহমান লিমন, রংপুর অফিস:

দিন দিন পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে ইট ভাটার সংখ্যা। ইট ভাটা গুলো তাদের কার্যক্রম সিজন ভিত্তিক করে থাকেন। বছরে ছয় মাস কাজ চলে আর ছয়মাস বন্ধ। অক্টোবর মাসের ২য় সপ্তাহ থেকে শুরু করে মার্চ এর শেষ সপ্তাহ পযর্ন্ত কার্যক্রম চলে। কেউবা চালায় এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পযর্ন্ত। এতে অনেক পরিবার অভাব অনাটন কিছুটা দূর করতে সক্ষম হয়। কিন্তু এই ইটভাটা গুলোতে প্রাপ্ত বয়স্কদের চেয়ে শিশু শ্রমিকের সংখ্যাই বেশী। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ শিশু শ্রমের দেশ বলে গণ্য হবে। সেখানে আজকের শিশুদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ বলা হয়। শিশুরা স্কুল মুখি না হয়ে হচ্ছে শ্রম মুখি আর বিক্রয় করছে শ্রম।

ইট ভাটা শ্রমিক নুর আলম (৩০) বলেন, বর্তমান আমাদের যুবকদের বা প্রাপ্ত বয়স্কদের পাশা পাশি শিশু যাদের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের নিচে তাদের সংখ্যাই বেশী। আবার কিছু কিছু দেখা যায় ৮ থেকে ১৪ বছরের শিশু। এই ৮ থেকে ১৪ বছরের শিশুদের দিয়ে দিয়ে ইট ভাটার মালিকরা কম টাকায় ইট ঘুরিয়ে নেয়। আবার ইট বানানো হলে তা সারি আকারে গুছিয়ে নেয় বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, যাদের বয়স ১৪ থেকে ১৭ তাদের দিয়ে ইট ভাটার লেবার সর্দাররা কম মুজুরি দিয়ে রাতারাতি টাকা ওয়ালা বুনে যায়। পরিবারের অভাবের দুর্বতলাকে পুজি করে টাকার লোভ দেখিয়ে ইটভাটার মালিক ও লেবার সর্দাররা শিশুদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শিশু শ্রম শিশুদের ক্ষতি হচ্ছে যেটা বাবা মায়েরা বুঝছে না। অভাবের কারণে ছেলেকে স্কুলে না পাঠিয়ে পাঠাচ্ছে ইট ভাটায় কাজ করার জন্য। যেটা ঐ শিশুর ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিচ্ছে। শিশু শ্রমের কারণে শুধু শিশুরাই হুমকির মুখে পড়ছে তা নয় দেশ ও জাতীও হুমকির মুখে পড়ে যাচ্ছে দিন দিন। দিন দিন যে হারে শিশু শ্রমের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই হারে শিশুদের নেশায় আশক্তি হবার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দাবি করেন ইট ভাটার শ্রমিকরা।

কথার ছলে এক শিশু শ্রমিকের ( নাম প্রকাশে অনিছুক) সাথে কথা বলে জানা যায় যে, আমি ইট ভাটায় কাজ করি। ইট বানাই। আমি অভাবের কারণে স্কুল যাইতে পাড়ি নাই। আমি চতুর্থ শ্রেণী থেকে লেখা পড়া করেছি। তার পর অভাবের কারণর লেখা পড়া করতে পাড়ি নাই। তাই বাবা সাথে ইট ভাটায় এসে ইট বানাই। যা পাই তাই দিয়ে কোন রকম সংস্যার চলে যায়। তবে সরকার বা কেউ যদি আমাকে আবার লেখাপড়ার সুযোগ করে দেয় তাহলে আমি আবার লেখা পড়া শিখে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কিছু করতাম বলে দাবি সেই শিশুর।

অভিবাকরা জানান, আমরা আমাদের পরিবারের অভাবের কারণে শিশুদের জোড় করে কাজ করার জন্য ইটভাটা সহ কলকারখানায় পাঠাই দেই টাকা উপার্জন করার জন্য। আরো বলেন, আমাদের ছেলেরা স্কুলে যেতে চায় না। আবার কখন কখন অভাবের কারণে তাদের লেখাপড়ার খরচ বহন করতে পাড়ি না। তাই বাধ্য হয়েই তাদের জোর করে কাজ করার জন্য পাঠাই বিভিন্ন জায়গায়। শিশুদের অল্প বয়সে কাজে পাঠানোর জন্য তাদের মৃত্যর মুখে ঠেলে দিচ্ছে বা তাদের জীবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলে অকোপটে শিকাড় করেন নেন অভিবাভকরা।

রংপুরের সোনি ব্রিকস, এম পি বি মের্সাস, মাহাফুজ বিক্রস, এ আর এস ব্রিকস, বস , ডন, সহ বেস কয়েকটি ইট ভাটায় ঘুড়ে দেখায় যায় যে প্রাপ্ত বয়স্কদের চেয়ে শিশু শ্রমিকের সংখ্যাই বেশী। শিশু শ্রমিকদের নিয়ে সকল ইটভাটার মালিকদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা টালবাহানা করে সব সময় এড়িয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ এবারে কথাও বলতে চায়না। যদি এভাবে চলতে থাকে শিশু শ্রম বিক্রয়। শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশ ও জাতি হুমকির মুখে। এ ভাবে দিন দিন শিশু শ্রম বৃদ্ধি হলে বাংলাদেশ একদিন মেধা শূন্য হয়ে যাবে। তাই শিশু শ্রম বন্ধ করতে সরকার, প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও উর্ধ্বতম কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন ব্যাক্তিবর্গ ও অভিবাভকগণ।

পূর্ববর্তী খবরকাশ্মীরের বিষয়ে হচ্ছে ওআইসি, ক্ষুদ্ধ ভারত !
পরবর্তী খবরবাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল বিভাগের বেদখল জায়গা উদ্ধারের পরিকল্পনা।

Leave a Reply