ইয়েমেন যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে ওমান: পরিস্থিতি পরিবর্তনের আভাস

ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের আগ্রাসন শুরুর পর ষষ্ঠ বছর চলছে। রক্তক্ষয়ী ও চাপিয়ে দেয়া এই যুদ্ধ অবসানের জন্য সবচেয়ে বেশি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে ওমান। গত ৭৪ মাস ধরে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ওমান নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে এসেছে। ওমান একদিকে ইয়েমেনের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনা অন্যদিকে সৌদি ও ইয়েমেনের মধ্যে আলোচনার চেষ্টা চালিয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘের প্রতিনিধি ও ইয়েমেনিদের মধ্যে আলোচনার ক্ষেত্রেও ওমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অর্থাৎ ত্রিমুখী প্রচেষ্ট

যুদ্ধ শুরুর ৭৪ মাস পর এখন ইয়েমেনের ব্যাপারে ওমানের নীতিতে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০১৫ সালে ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের আগ্রাসন শুরুর পর গত ৬ জুন এই প্রথম ওমানের কোনো প্রতিনিধি দল ইয়েমেনের রাজধানী সানা সফরে গেছেন। ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের মুখপাত্র মোহাম্মদ আব্দুস সালাম এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা এবং প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ইয়েমেনের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করার জন্যই ওমানের প্রতিনিধি দল সানা সফরে এসেছে।’ তিনি বলেছেন ‘ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত এ দেশটির জনগণের সেবায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়ার উপায় খুঁজে বের করাও তার সফরের অন্যতম লক্ষ্য।’

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, ওমানের সরকারি প্রতিনিধি দলের সানা সফরের একই সময়ে ইয়েমেনের হুথি সমর্থিত ন্যাশনাল সালভেশন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ওমানের রাজধানী মাসকাটে গেছেন। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন সম্প্রতি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ বিন হামুদ সাঈদীর সঙ্গে টেলিফোনালাপে ইয়েমেন যুদ্ধ বন্ধের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এইসব সফর ও টেলিফোনালাপ থেকে বোঝা যায় ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের অসহায় মানুষের কাছে মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য চেষ্টা জোরদার হয়েছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, ইয়েমেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য জাতিসংঘ কিংবা পাশ্চাত্যের কোন দেশের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতার প্রতি হুথি সমর্থিত ন্যাশনাল সালভেশন সরকারের আস্থা নেই। কেননা তারা সরাসরি সৌদি আগ্রাসনের প্রতি সমর্থন দিচ্ছে। সে কারণেই মধ্যস্থতা করার ক্ষেত্রে ওমানের প্রতি ইয়েমেনের আস্থা রয়েছে।

যাইহোক, ওমানের প্রতিনিধি দল সানা সফরে গিয়ে আনসারুল্লাহ আন্দোলনের নেতা সৈয়দ আব্দুল মালেক বদরুদ্দীন আল হুথির সঙ্গে দেখা করেছেন। এই সাক্ষাতে হুথি নেতা সৈয়দ আব্দুল মালেক বদরুদ্দীন আল হুথি ইয়েমেনের জনগণের কাছে মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেয়া এবং সে দেশে যুদ্ধ বন্ধে প্রচেষ্টা চালানোর জন্য ওমানের সুলতান হিশাম বিন তারেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ওমানের প্রতিনিধিদলকে দেয়া সাক্ষাতে ইয়েমেনের রাজনৈতিক উচ্চ পরিষদের প্রধান মাহদি আল মাশাত সৌদি আগ্রাসন ও নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইয়েমেনের জনগণের ব্যাপারে ওমানের অবস্থানের প্রশংসা করেন।

ওমানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবু বকর আল কোরবিও বলেছেন ওমানের প্রতিনিধিদের সানা সফরের উদ্দেশ্য হচ্ছে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের অবসান ঘটানো। তিনি আরো বলেছেন বিবদমান পক্ষ যদি সংঘাত অবসানে আন্তরিক না হয় তাহলে ওমানের চেষ্টা খুব একটা কাজে দেবে না।

যাই হোক কেউ কেউ মনে করছেন ওমানের প্রতিনিধি দলের সানা সফরের মাধ্যমে সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর খুলে দেয়া এবং বিমান উড্ডয়ন শুরু হতে পারে। সানা বিমানবন্দর চালু হলে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এটা হবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস। সেইসঙ্গে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমান সরকারের মর্যাদাও বহুগুণে বেড়ে যাবে।

সুত্রঃ পার্সটুডে।

পূর্ববর্তী খবরপাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ!
পরবর্তী খবরমোহনপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মতিন, সাঃ সম্পাদক মামুন

Leave a Reply