ই-কমার্সে ক্যারিয়ার গড়তে চান নোবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী অন্তর

জোবায়ের আনসারী, নোবিপ্রবি:- পড়াশোনা শেষে সবারই লক্ষ্য থাকে ভালো কোনো সরকারি অথবা বেসরকারি চাকরিতে যোগদানের। তবে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কৃষি বিভাগ থেকে স্নাতক শেষ করা অন্তর ভূইয়া এ ক্ষেত্রে পুরোই ব্যতিক্রম। স্নাতকের পাঠ চুকিয়ে চাকরির পেছনে না ছুটে তিনি পুরোদমে ই-কমার্সে জড়িয়েছেন নিজেকে। এরই মধ্যে কিছুটা সাফল্যের দেখাও পেয়েছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময় হতেই চাকরির প্রতি তেমন আগ্রহ ছিলো না অন্তরের। বরাবরই তিনি স্বপ্ন দেখতেন নিজের মতো করে কিছু করার মাধ্যমে স্বাধীনভাবে পথ চলার। আর তাই পড়াশোনা শেষে নিজের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হাতে নেন। 

সময়টা ২০২০ সালের ২৯ আগস্ট। ‘শুটকিওয়ালা’ নামে ফেসবুক পেইজ খুলে নিজ জেলা কিশোরগঞ্জের বিখ্যাত পণ্য চ্যাপা শুটকি অনলাইনে সারাদেশে বিক্রি শুরু করেন। এরপর ক্রেতাদের চাহিদার কথা চিন্তা করে মিঠা পানির শুটকি এবং সামুদ্রিক বেশকিছু শুটকি যোগ করেন। শুরু থেকেই তিনি নিজের পার্সোনাল ব্র্যান্ডিংয়ের দিকে পূর্ণ ফোকাস রেখেছিলেন। দেশের ৬৪টি জেলাতেই পণ্য ডেলিভারি দিয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট শুটকি বিক্রি হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। এ ছাড়াও আমের মৌসুমে উত্তরবঙ্গের আম নিয়েও কাজ করে লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন।

অন্তর এখন আর পেছনে ফিরে তাকাতে চান না। নিজের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে নতুনভাবে শুরু করেছেন পথচলা। কিশোরগঞ্জের বিখ্যাত সব পণ্য নিয়ে কাজ করা এই তরুণ নিজের ই-কমার্স পেজের নাম দিয়েছেন ‘কেজিফুডকোর্ট’। কেজিফুডকোর্টের স্বত্বাধিকারী তিনি। 

উদ্যোগ শুরুর প্রায় ১০ মাসের মাথায় অন্তর আরো কিছু নতুন পণ্য কিশোরগঞ্জের রাতা চাল, খাঁটি গাওয়া ঘি আর শালুক যোগ করেছেন। রাতা চাল নিয়েও ক্রেতাদের মাঝে বেশ সাড়া পেয়েছেন। এ পর্যন্ত চারটি বিভাগে কিশোরগঞ্জের রাতা চাল ডেলিভারি দিয়েছেন। 

মো. অন্তর ভূইয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করার পরপরই পুরোদমে ই-কমার্সে জড়ানোর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ই-ক্যাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি রাজীব আহমেদ স্যারের। তিনিই আমার অনুপ্রেরণা। ই- কমার্স কি, ই-কমার্সের মাধ্যমে কিভাবে ব্যবসা করতে হয় এসবের কিছুই জানতাম না আমি। রাজীব স্যারের কাছ থেকেই আমি সেসব শিখেছি ডিজিটাল স্কিল ফর বাংলাদেশ গ্রুপ থেকে। গ্রুপে জয়েন হওয়ার পরই ই-কমার্সের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা আমার মাথায় আরো তীব্রভাবে ঢুকে। স্যারের লেখাগুলো পড়ে আমি শেখার চেষ্টা করতাম। স্যারের দেয়া পরামর্শগুলো আমি আমার উদ্যোগে এখন কাজে লাগাই।

পড়াশোনা শেষে অনলাইনে ব্যবসায়ের উদ্যোগ নেয়ার পর পরিবার থেকে বাধা না পেলেও তেমন সাপোর্ট পাননি অন্তর। পরিবার চেয়েছিলো তিনি যেন সরকারি চাকরি করেন। এসব নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্নজনের নানা সমালোচনা পোহাতে হয়েছে তাকে। সমালোচনার কথা বলতে গিয়ে অন্তর ভূইয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে আমি এসব কি করছি, কেউ কেউ আবার এটাও বলেছে ভূইয়া বংশের হয়ে আমি কি না শুটকি বিক্রি করি। আমি এসব কথায় পাত্তা দেইনি কখনো। আমি সবসময় নিজের মতো করে কিছু করার স্বপ্ন দেখতাম। নিজের মেধা আর শ্রম দিয়ে ই-কমার্সেই আমি আমার ক্যারিয়ার গড়তে চাই। আমি জানি আমি যদি এই সেক্টরে লেগে থাকি আমি একটা সময় সফল হতে পারব। আমি যখন সফল হবো তখন সমালোচকরাও আমাকে পূর্ণ সাপোর্ট দেবে।

উদ্যোগ নিয়ে নিজের স্বপ্নের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি চাই আমাদের কিশোরগঞ্জ তথা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার বিখ্যাত পণ্যগুলোকে সবার কাছে পৌঁছে দিতে। আর তা ই-কমার্সের মাধ্যমেই সম্ভব। ক্রেতাদের হাতে খাঁটি নির্ভেজাল পণ্য পৌঁছে দেয়ার পর অন্যরকম একটা প্রশান্তি পাওয়া যায়।

পূর্ববর্তী খবরপাবিপ্রবিতে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উদযাপিত
পরবর্তী খবররাজশাহীর বাঘায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎ শিল্পী

Leave a Reply