টনিকে মারধরের ঘটনায় ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর যুবদলের যৌথ সংবাদ সম্মেলন

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের আহবায়ক সুলতান আলী বিশ্বাস টনিকে গত বৃহস্পতিবার মারধর করে দূর্বৃত্তরা। টনিকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সেই দিন রাতেই শহরে মিছিল বের করে যুবদলের একাংশের নেতাকর্মীরা।

ঐ মিছিলে হামলা চালিয়ে গত পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নয়নকে মারধর করা হয় এমন অভিযোগ এনে এবং উপজেলা যুবদলের আহবায়ক টনির পক্ষে শুক্রবার রাতে রফিকুল ইসলাম নয়ন নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে, হামলার জন্য পৌর যুবদলের আহবায়ক জাকির হোসেন ‍জুয়েলসহ যুবদলের একাংশের নেতাকর্মীদের দায়ী করেন।

উপজেলা যুবদলের আহবায়ক টনিকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় ঈশ্বরদীর যুবদলের কোন নেতাকর্মী জড়িত নয় দাবি করে ও রফিকুল ইসলাম নয়ন এর সংবাদ সম্মেলনর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (১৫ জানুয়ারি) পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা ও পৌর যুবদলের একাংশ।

ঈশ্বরদী শহরের পশ্চিমটেংরী ব্রাদাস ক্লাবে উপজেলা ও পৌর যুবদলের একাংশ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন উপজেলা যুবদলের ‍যুগ্ম আহবায়ক এনামুল হোসেন আতিয়ার।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ঈশ্বরদী উপজেলা ‍যুবদলের আহবায়ক সুলতান আলী বিশ্বাস টনিকে কে বা কারা আঘাত করেছে তা আমাদের জানা নেই। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি কুচক্রী মহল অপরাজনীতির খেলায় মেতে উঠেছে এবং জনৈক রফিকুল ইসলাম নয়ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছে। এতে তিনি পৌর যুবদলের আহবায়ক জাকির হোসেন জুয়েল, যুগ্ম আহবায়ক রাশেদুল ইসলাম রিপন ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সোনা মনিকে সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আমরা তার মিথ্যা অভিযোগের তীব্র নিন্দা, ঘৃণা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এনামুল হক আতিয়ার আরো বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর যাবত অবৈধ ভোটার বিহীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম এবং জাতীয় সকল কর্মসূচী সফল ভাবে পালন করেছে জাকারিয়া পিন্টুর নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা। এদের মধ্যে সকল কর্মসূচী সফলভাবে পালন করতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন জাকির হোসেন জুয়েল, রাশেদুল ইসলাম রিপন ও মাহামুদ হাসান সোনামনি। এজন্য তাদের ২০/২৫ টি মামলা মাথায় নিয়ে প্রতিনিয়ত আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে।

দলের এ সকল নিবেদিত প্রাণ নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করা দলের মধ্যে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে আমরা মনে করছি। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদেরকে হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করা এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করায় আমরা তীব্র নিন্দা জানিয়ে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে লিখিতভাবে এবং পত্রিকার মাধ্যমে রফিকুল ইসলাম নয়নকে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানাচ্ছি। অন্যথায় সকল দায়দায়িত্ব রফিকুল ইসলাম নয়নকে বহন করতে হবে।

এসময় পৌর যুবদলের আহবায়ক জাকির হোসেন ‍জুয়েল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, টনি বিশ্বাসের ওপর হামলার ঘটনায় আমাকে দায়ী করা হয়েছে। এতে আমি অবাক হয়নি। কারণ তিনি একজন নেতাকে খুশি করতে এরচেয়েও বেশি কিছু বলতে পারেন। তবে আমি এতটুকু বলতে পারি এ ঘটনার সঙ্গে ঈশ্বরদী যুবদলের কোন নেতাকর্মী জড়িত নয়।

পৌর বিএনপি নেতা এস এম ফজলুর রহমান বলেন, এসব সাজানো নাটক। একটি কুচক্রী মহল এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে একটি নাটক সাজিয়েছে। তিনি আরো বলেন, যুবদলের আহবায়ক আহত হয়েছেন এজন্য যুবদল বা বিএনপি নেতারা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করতে পারে। কিন্তু জনৈক রফিকুল ইসলাম নয়ন সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করার কে? সে কি পদে রয়েছে? দলের কে তাকে সংবাদ সম্মেলন করার দায়িত্ব দিয়েছে?

উপজেলা বিএনপির একাংশের সভাপতি আহসান হাবীব বলেন, রফিকুল ইসলাম নয়নকে আমরা কখনও কোনদিন রাজপথে দেখিনি। সে দলের নিবেদিত প্রাণ ও পরিশ্রমী যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে টনিকে মারধরের অভিযোগ এনেছেন। এটি একটি চক্রান্ত। সাহসী যুবদলের এসব নেতারা আন্দোলন সংগ্রামে যেন রাজপথে নামতে না পারে সেজন্য সে এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। এসব মিথ্যা অভিযোগ। আমরা এসব অভিযোগের নিন্দা জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র বিএনপি নেতা খায়রুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপি নেতা বিষ্টু সরকার, আমিনুর রহমান স্বপন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম, সদস্য সচিব মেহেদি হাসান, পৌর ‍যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক রেজাউল হক মুকুল, পৌর স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক মামুনুর রশীদ নান্টু, সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান জুয়েল প্রমূখ।

পূর্ববর্তী খবরএকাদশ সংসদের ষোড়শ অধিবেশন শুরু রোববার
পরবর্তী খবরঈশ্বরদীতে নান্দনিক “ফুড ওয়েভ” রেস্টুরেন্ট এর শুভ উদ্বোধন

Leave a Reply