ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাচনে আ’লীগ প্রার্থী প্রচারনায় এগিয়ে বাকি দুই দলের প্রার্থী এখনো নামেননি।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাচনে আ’লীগ প্রার্থী প্রচারনায় এগিয়ে বাকি দুই দলের প্রার্থী এখনো নামেননি।

ঈশ্বরদী প্রতিনিধিঃ আগামী ১০ ডিসেম্বর ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ। তিনটি বড় দলই এ নির্বাচনে অংশ নিলেও ভোট নিয়ে খুব একটা উৎসাহী নয় স্থানীয় ভোটাররা।
তবে নিরুত্তাপ এ ভোটের মাঠেও দলীয় প্রার্থী নিয়ে প্রচারনা শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
ঈশ্বরদী পৌর এলাকা ও ৭ ইউনিয়নের ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ে আ’লীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করে পথসভা, নির্বাচনী আলোচনা ও ভোট প্রার্থনা করেছেন।

বাকি দুই দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে কিন্তু দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে এখনও মাঠে নামেনি।
প্রতিদিনই ধানের শীষ ও লাঙলের প্রার্থীরা গুটি কয়েক নেতাকর্মী নিয়ে স্বল্প পরিসরে ভোট প্রার্থনায় নামলেও তাদের পক্ষে এলাকা ভিত্তিক নেতাকর্মীরা এখনও প্রচার-প্রচারণায় নামেননি।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৮ মার্চ ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বিশ্বাস। ২০২০ সালের ২ এপ্রিল পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী আলহাজ্ব শামসুর রহমান শরীফ ডিলু বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর পর এই আসনে উপনির্বাচনের জন্য গত ২৩ আগষ্ট তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে বেছে নেন তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বিশ্বাসকে। ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নুরুজ্জামান বিশ্বাস। নুরুজ্জামান বিশ্বাস সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনার। সেই ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন।

তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ নির্বাচনে প্রার্থী হতে তিনজন মনোনয়নপত্র জমা দেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত আলহাজ্ব নায়েব আলী বিশ্বাস, বিএনপির আজমল হক সুজন ও জাতীয় পার্টির শাহেন শাহ গাউসুল আজম।

স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচন এলেই সবার মধ্যে উৎসব উৎসব ভাব তৈরি হয়। বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা বাড়িতে এসে কুশল বিনিময় করেন। তারা যেখানেই যান, সেখানেই লোকজন জমায়েত হয়ে সমাবেশের রূপ ধারণ করে। তবে এ উপনির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তেমন আগ্রহ নেই। এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থী বা নেতাকর্মী এলাকায় জোরেসোরে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেনি। এ কারণে এবার নির্বাচন অনেকটা নিস্প্রভ।

এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল বারী সরদার বলেন, উপনির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান প্রার্থী দিয়েছে। এজন্য দলীয় নেতাকর্মীরাও ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। কিন্তু আমরা নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি।

তবে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, নায়েব আলী বিশ্বাস আওয়ামী লীগের বর্ষিয়াণ নেতা। রাজনীতির মাঠে তিনি সক্রিয়। একজন সৎ ও আদর্শবান নেতা হিসেবে ঈশ্বরদী জুড়ে তার সুনাম রয়েছে। তাকে মনোনয়ন দেয়ায় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ভোটাররাও খুশি। এ দেখেই অন্যান্য দলের প্রার্থীরা আগেভাগে গুটিয়ে গেছেন।

ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা বলেন, আলহাজ্ব নায়েব আলী বিশ্বাস দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ একজন নেতা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ন্যায় ও নিষ্ঠাবান নেতা হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত। শেষ বয়সে নায়েব আলী বিশ্বাসকে জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ মূল্যায়ন করেছেন। সেজন্য দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সবাই খুশি। তার বিজয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী।

একই কথা শোনা গেল আলহাজ্ব নায়েব আলী বিশ্বাসের মুখেও। তিনি বলেন, সারা জীবন মানুষের ভালোবাসা নিয়ে রাজনীতি করেছি। মানুষের ভালোবাসাই আমার সম্বল। এ নির্বাচনে জনগণ বিপুল ভোটের ব্যবধানে নৌকাকে বিজয়ী করবে।

তবে ভোটের মাঠে উপস্থিতি যেমনই হোক, বিএনপির প্রার্থী আজমল হক সুজন বলছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তির আন্দোলন হিসেবে আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জয় আমাদেরই হবে।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী গাউসুল আজম বলেন, গণমানুষের কাছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জনপ্রিয়তা রয়েছে। আমি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকব। ভোটারদের নিকটে যাচ্ছি। ভোট ও দোয়া চাচ্ছি।

পূর্ববর্তী খবরচাঁপাইনবাবগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল
পরবর্তী খবরচট্টগ্রামে করোনার টিকা মিলবে ফেব্রুয়ারিতে!

Leave a Reply