কঠোর পরিশ্রমী, বিপ্লবী ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা হবে: ইরানের নয়া প্রেসিডেন্ট রাইসি

সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রাইসি

ইরানে অনুষ্ঠিত ১৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হলেন সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রাইসি। তিনি ইরানের অষ্টম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলেন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ড. মোহসেন রেজায়ীর চেয়ে ১ কোটি ৫৫ লাখ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

চূড়ান্ত বিজয় ঘোষণার পর ধর্ম ভিত্তিক জনগণের শাসন ব্যবস্থার আওতায় নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রাইসি এক বিবৃতিতে তিনি নিজেকে দেশের সমস্ত মানুষের খাদেম বা সেবক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তিনি কঠোর পরিশ্রমী, বিপ্লবী ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তুলবেন। ইসলামি বিপ্লবী সরকারের দায়িত্বশীল হিসেবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ১৮ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে তিনি ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘প্রবল আবেগপূর্ণ’ বলেও উল্লেখ করেন।

নির্বাচনে বিজয়ের আগে ইব্রাহিম রাইসি এক সাক্ষাতকারে তার শাসনকে গণভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও ইসলামি বিপ্লবী চেতনা ভিত্তিক এই তিন মূল নীতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, সবারই এটা জেনে রাখা উচিত আমার সরকার দুর্নীতিকে কোনোভাবেই টলারেট করবে না এবং প্রশাসনের কোথাও আমরা দুর্নীতির সুযোগ দেব না।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিজয় ঘোষণার পর রাইসি এক ভাষণে তার সরকারকে নয়া অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সূচনাকারী হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত মানুষের অভিন্ন দুঃখদুর্দশা লাঘবে তার সরকার এমনভাবে কাজ করবে যাতে সর্বত্র ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, ইরানের জনগণ চায় না কোনো একজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ক্ষমতা ছেড়ে দেবে এবং আরেকজন এসে তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে দেশের সুযোগ সুবিধাগুলোকে নিজেদের মধ্যে ভাগ বণ্টন করে নেবে। তাই নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকারের পরিবর্তন আসতে হবে অর্থাৎ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার ও আস্থার তৈরি হয়।

আরো প্রায় ৪৫ দিন পর নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। নতুন প্রেসিডেন্টের হাতে এমন সময় নির্বাহী ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে যখন নিষেধাজ্ঞাসহ নানা কারণে ইরানের অর্থনীতির বেহাল দশা। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে বর্তমান সরকারের শেষ সময় পর্যন্ত মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ ৪৫ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে যা কিনা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির ফলে জিনিসের দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে জনগণের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে আগামী নতুন সরকারের জন্য তা বিরাট চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতির ভূয়সী প্রশংসা করে জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, দেশ ও জাতির সেবার যে সুযোগ এসেছে তার গুরুত্ব যেন সবাই বোঝে।

যাইহোক, ইরানের জনগণের উদ্দেশ্যে নতুন প্রেসিডেন্টের দেয়া বক্তব্য থেকে বোঝা যায় দেশ গঠনে পরিবর্তনের নতুন হাওয়া লেগেছে এবং জনগণের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার হয়েছে।

সুত্রঃ পার্সটুডে।

পূর্ববর্তী খবরকরোনাকালে ঢাবির পরীক্ষা, উপস্থিতি শতভাগ
পরবর্তী খবরক্ষমতায় থাকা মানে মানুষের সেবার সুযোগ : প্রধানমন্ত্রী

Leave a Reply