করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন নিলেন রিজভী

করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার (২৬ জুলাই) দুপুর পৌনে ১২টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) গিয়ে টিকা নেন তিনি।

বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার টিকা নিয়েছেন তিনি।

গত ১৬ মার্চ করোনা আক্রান্ত হন রুহুল কবির রিজভী। ১৭ মার্চ তাকে চিকিৎসার জন্য রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১ এপ্রিল হঠাৎ করেই রিজভীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এবং অক্সিজেন লেভেল কমে গেলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় দীর্ঘ প্রায় দুই মাস পর তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ আছেন।

এদিকে স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন, আমরা ২০২২ সালের মধ্যে দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করছি।

তিনি বলেন, আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ প্রায় ১৪ কোটি টিকা ডোজ কিনতে যাচ্ছে। অন্যদিকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী মাসগুলোতে প্রয়োজনীয় বাকি টিকা সংগ্রহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে ইতোমধ্যে ক্রয় প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি বলেন, চীনের সিনোফার্ম থেকে তিন কোটি, রাশিয়ার স্পুটনিক ভি এক কোটি, সাত কোটি জনসন অ্যান্ড জনসন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার ৬৫ লাখ, অ্যাস্ট্রাজেনেকা থেকে ৩০ লাখ টিকা পাওয়ার চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ডিজিএইচএস-এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ টি কোভিড-১৯ টিকা সংগ্রহ করেছে এবং ২৫ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৭৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ প্রথম ডোজ পেয়েছে এবং ৪৩ লাখেরও বেশি লোক টিকার দ্বিতীয় ডোজ পেয়ে কোর্সটি শেষ করেছে। এখনও পর্যন্ত নিবন্ধিত মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ১৮ লাখ।

আলম বলেন, টিকা গ্রহণের পর গ্রামাঞ্চলেও একটি পূর্ণ মাত্রায় টিকাকরণ প্রচারণা শুরু করা হবে এবং ‘আমরা খুব শিগগিরই এই টিকাগুলো পাওয়ার জন্য আশাবাদী’।

ডিজিএইচএস প্রধান বলেন, আমরা প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষকে টিকা দেব। ২০২২ সালের মধ্যে ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ১৩ কোটি মানুষকে টিকা দান অভিযান ত্বরান্বিত করতে প্রাপকদের নিবন্ধনের জন্য বিকল্প উপায় অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

করোনার মারাত্মক ডেল্টা ভেরিয়েন্টের নির্মম আক্রমণের প্রেক্ষাপটে কর্তৃপক্ষ প্রাপকদের বয়সসীমা ৩০ থেকে কমিয়ে ১৮ বছর করার একদিন পরে ডিজিএইচএস এই প্রধানের মন্তব্য আসে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক শনিবার এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন এবং আইসিটি বিভাগকে জাতীয় সুরক্ষা অ্যাপটি সংশোধন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের প্রাথমিকভাবে টিকা পাওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। টিকাকরণ প্রচারাভিযানটি এই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি চালু করা হয়েছিল। এর পর তিনবার বয়সসীমা সংশোধন করা হয়।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী কোভিড-১৯ টিকাকরণ অভিযান শুরু হয়।

পূর্ববর্তী খবর“বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা দর্শন ও বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা”শীর্ষক ওয়েবিনার
পরবর্তী খবরঅ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন আসছে, যুক্ত হবেন ইপিআই কর্মীরা

Leave a Reply