18 C
Dhaka
Thursday, February 2, 2023

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে দেশের উপকূলীয় বিভিন্ন জেলার ১৮৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলোর কোনোটি আংশিক ভেঙেছে আবার কোনোটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মাঠপর্যায় থেকে এই তথ্য পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগই খুলনা এবং বরিশাল বিভাগে অবস্থিত। ২৬ মে এই ঘূর্ণিঝড় ভারত ও বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হেনেছিল।

উভয় অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটা ঘূর্ণিঝড়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। এবারের ঝড়টির মূল অংশ বাংলাদেশ উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে ওড়িশা উপকূল দিয়ে স্থলভাগে উঠে আসে। যে কারণে তুলনামূলক ক্ষতি কম হয়েছে। এর পরও যেসব প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হিসাবে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা চিহ্নিত করে পাঠিয়েছেন সেগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। কোনোটির টিনের ছাউনি বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। আবার কোনোটির বেড়া বা দেয়াল ভেঙেছে। পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের নামও এসেছে।

মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ গোলাম ফারুক বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এখনো মাঠপর্যায় থেকে নাম আসছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত যত প্রতিষ্ঠানই পাওয়া যাবে সেগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামত কার্যক্রম চালানো হবে। আর এই কাজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার আগেই করার চেষ্টা থাকবে, যাতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বিঘ্নিত না হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাথমিকের তুলনায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেশিগ্রস্ত হওয়ার কারণ হচ্ছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রায় সবই পাকা ভবন। আর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ভবন কাঁচা বা আধাপাকা ভবন। যে কারণে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান কোথাও পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার কোথাও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জানা গেছে, মাউশিতে এখন পর্যন্ত বরিশাল ও খুলনা বিভাগ থেকে মোট ১২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা এসেছে। এর মধ্যে খুলনা বিভাগে আছে ৬৫টি। বাকিগুলো বরিশাল বিভাগের। খুলনা বিভাগে আবার সাতক্ষীরায় ৯টি, খুলনায় ২৬টি এবং বাগেরহাটে ৩০টি।

আর বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠিতে ২১টি, ভোলায় ১৩টি, পটুয়াখালীতে ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এসব স্থানের দুর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই কোটি ৯৭ লাখ ৩২ হাজার টাকা।

ডিপিই সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়ে চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগে মোট ৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তথ্য প্রতিদিনই আসছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে আনুমানিক প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে খুলনা বিভাগের প্রতিষ্ঠানগুলোর। ওই বিভাগেই আছে ৪২টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে কোনোটির ফ্লোর ভেঙে গেছে। কোনোটির দেয়ালে ফাটল ধরেছে। আবার কোনোটির ওয়াশ ব্লক (বাথরুম-টয়লেট) ও টিউবওয়েল নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া জলোচ্ছ্বাসে চেয়ার টেবিল আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে। এসব তথ্য এখন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হবে। চলতি মাসের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হবে।

ডিপিইর উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) নুরুল আমিন জানান, বাংলাদেশে ইয়াসের প্রভাব তেমন একটা ছিল না। তা ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশির ভাগই পাকা ভবন। যে কারণে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল সংস্কারে অর্থ বরাদ্দ আছে। আগামী অর্থবছরের শুরুতে এসব প্রতিষ্ঠানে সংস্কার কাজ শুরু করা যাবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Leave a Reply

লেখক থেকে আরো