চাঁপাইনবাবগঞ্জে  লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও গ্রাম এলাকা সহ ছিলো প্রশাসনের ব্যপক তৎপরতা

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭ দিনের কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও প্রশাসনের তৎপরতায় সড়ক ফাঁকা রয়েছে।বুধবার (২৬ মে) জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘূরে দেখা গেছে, সড়কের নিরবতা। সকাল থেকেই বন্ধ রয়েছে শহরের বিপনী বিতান ও দোকান-পাট। সদর উপজেলার রানিহাটী ইউনিয়নের মফস্বলের রামচন্দ্রপুরহাট সহ বিভিন্ন হাট ও গ্রামে লকডাউন ছিলো চোখে পড়ার মতো। জেলা থেকে ছেড়ে যায়নি কোন দূরপাল্লার বাস। এমনকি পন্যবাহী যানবহন ছাড়া অভ্যন্তরীন রুটেও কোন গণপরিবহন চলাচল করছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যদ্রব্য ছাড়া সকল দোকান-পাঠ ও সাপ্তাহিক হাট বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, গতকালের মতো মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১২ টি দল জেলার ৫ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে করা হচ্ছে জরিমানা। এছাড়াও কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে জেলা পুলিশ। জেলা শহরের ২৭টি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানোর পাশাপাশি টহল দিয়ে মানুষকে ঘরে রাখতে কাজ করছে পুলিশ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে প্রবেশ বা চলাচলে বাধা দেয়া হচ্ছে। জরুরি সেবা ছাড়া ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে সকল যানবহন। জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কের কোথাও তেমন গাড়ির চাপ নেয়। অতীব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তেমন কাউকে ঘরের বাইরেবের হতে দেখা যায়নি।

সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানিয়েছেন, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের কারনে নয়, বরং স্থানীয় সংক্রমণের কারনেই এই ভয়াবহ অবস্থার জন্যদায়ী। এখন পর্যন্ত জেলায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়নি। আমরা আশা করছি, ৭দিনের কঠোর লকডাউন বাস্তবায়ন সম্ভব হলে সংক্রমণের হার কিছুটা কমে আসবে।

তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘন্টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ২১২টি স্যাম্পল রেপিট এন্টিজেন টেস্ট করে১৩১ জনের পজেটিভ পাওয়া গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বর্তমানে করোনা রোগী চিকিৎসাধিন রয়েছে ৩৯৩ জন। জেলায় এ পর্যন্ত মোট ১৫০৩ জনের দেহে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আর ১ হাজার ৮৩ জন সুস্থ্যহয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং মারা গেছে ২৮ জন।ভারত থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে মোট ৭২জন। এর মধ্যে একজনের দেহে করোনা সনাক্ত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, গতকালের মতো আজকেও (বুধবার) মানুষকে ঘরে রাখতে মাঠে কাজ করছে প্রশাসন। সকলের সচেতনতাই আবারো আমরা করোনামুক্ত জেলা হিসেবে গণ্য হতে সক্ষম হবে। সকল নাগরিকদের ঘরে রাখতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য মঙ্গলবার দিনভর লকডাউনে মাস্ক না পরা ও স্বাস্থ্য বিধি না মানায় এবং সরকারী আদেশ অমান্য করায় ১১২টি মামলা ও ৮৮ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী খবরচাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় লকডাউনের ২য় দিন লক্ষাধিক টাকা জরিমানা
পরবর্তী খবরশিশু ধর্ষণ চেষ্টার তিনদিন পর থানায় মামলা; এলাকাবাসীর মানববন্ধন

Leave a Reply