জাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, ৪ আনসার সদস্য বহিষ্কার

জাবি শিক্ষার্থীকে মারধর

সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের ‘অনিয়মের’ প্রতিবাদ করায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নুর হোসাইনকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিচারের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও এক ঘণ্টা ঢাকা আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।

আন্দোলনের মুখে চার আনসার সদস্যকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে স্মৃতিসৌধ কর্তৃপক্ষ। তারা হলেন, ‘মোহর আলী, ওমর ফারুক, রমজান আলী ও যুগল সরকার।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদ এবং চারদফা দাবিতে মানববন্ধন ও এরপর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে আশুলিয়া পুলিশ ও জাবি প্রক্টরের শিক্ষার্থীদের দেয়া দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলে একঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন তারা।

শিক্ষার্থীদের দেওয়া দাবিগুলো হলো- মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয় বহন করা, দোষীদের স্থায়ী বহিষ্কার করা, গ্রেপ্তার করা এবং স্মৃতিসৌধে অনৈতিক কাজ বন্ধ করা।

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) চট্গ্রাম থেকে আসা দুজন ভাগ্নেকে নিয়ে নূর হোসাইন জাতীয় স্মৃতিসৌধে ঘুরতে যান। এ সময় দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ বলে তাদেরকে প্রবেশে বাধা দেন। যদিও ভেতরে টাকা দিয়ে অনেক দর্শানার্থী প্রবেশ করেছিল। টাকা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করেছেন দেখতে পেয়ে প্রতিবাদ করেন নূর। এ সময় ভিতরে থাকা দর্শনার্থীদের ভিডিও করতে গেলে আনসার সদস্যরা তাকে স্মৃতিসৌধের ভিতরে একটি কক্ষে আবদ্ধ রেখে অত্যন্ত নারকীয় কায়দায় শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মকভাবে আঘাত করে। এর মধ্যে নূরের বড় ভাগ্নে ৯৯৯-এ ফোন করলে নিকটস্থ থানা থেকে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে নিউরোসায়েন্স ইন্সটিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্মৃতিসৌধে দায়িত্বরত গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

আহত নূর হোসেন বলেন, বিকেলে আমার দুই ভাগ্নেসহ স্মৃতিসৌধ ঘুরতে যাই। সেখানে অনেককে অর্থের বিনিময়ে প্রবেশ করতে দিচ্ছিল দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা। আমি এর প্রতিবাদ করলে তারা আমাকে রুমে নিয়ে বন্দি করে রাখে। পরে সাত-আটজন আনসার সদস্য আমাকে মারধর করে। তারা আমার মাথাতেও আঘাত করে।

ঢাকা জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের কমান্ড্যান্ট আফজাল হোসেন বলেন, এই চারজন আনসার সদস্যকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তারা যাতে কোথাও কাজ না করতে পারেন, সেজন্য তাদের কালো তালিকায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার সকল খরচের দায়িত্ব নিবে আনসার। আমরা এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম কামরুজ্জামান বলেন, অবরোধের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। শিক্ষার্থীদের চারদফা দাবি শুনেছি তাদেরকে আশ্বাস দিয়েছি। এছাড়া দোষী আনসারদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আনসারদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নিয়েছেন বলেও জেনেছি। আহত শিক্ষার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, আমরা আহত শিক্ষার্থীর সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর রাখছি। এ ঘটনার থানায় অভিযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণ আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দবেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন দৈনিক সত্যের সকালে। আজই পাঠিয়ে দিনsottersokal@gmail.com

পূর্ববর্তী খবরবেকারত্বের অভিশাপে আত্মহত্যা জবি শিক্ষার্থীর
পরবর্তী খবরশিক্ষার্থীদের শতভাগ টিকা দিয়েই খুলবে ইবি

Leave a Reply