জীবনের বিনিময়ে হলেও দেশকে মুক্ত করতে চাই

জীবনের বিনিময়ে হলেও দেশকে মুক্ত করতে চাই

 

শেখ মুজিবুর রহমানঃ

আজ থেকে ২৪ বছর আগে স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবার রঙিন আশায় বুক বেঁধে এমনি করেই একদিন জনগণ ভোট দিয়েছিলেন পাকিস্তানের পক্ষে। কিন্তু দিন না যেতেই দেখেছেন পাকিস্তানের জন্মলগ্নে জনগণের দেয়া সুস্পষ্ট ম্যান্ডেটের প্রতি এদেশে এক শ্রেণির নেতার বিশ্বাসঘাতকতার ফলে সব স্বপ্ন তাদের ভেঙে খান খান হয়ে গেছে। কেবল বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষই নয়, সারাদেশের বারো কোটি মানুষই আজ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে নিজ দেশে পরবাসী। পরাধীন আমলেও এ চেহারা এদেশের মানুষের ছিল কিনা তা জনগণই তার বিচার করবেন। স্বাধীনতা-উত্তর জীবনে বিগত ২৩টি বছর ধরে সীমাহীন অত্যাচার-নির্যাতন, লাঞ্ছনা-গঞ্জনা, শোষণ ও বঞ্চনা এদেশের মানুষকে পোহাতে হয়েছে। তার সাক্ষী কেবল আমি বা আমার দলই নয়, সাক্ষী প্রত্যেকটি সাধারণ মানুষ। তাদের সন্তান সালাম-বরকত বুকের রক্ত ঢেলে রাজপথে যে সংগ্রামী চেতনায় আমাদের উদ্বুদ্ধ করে গিয়েছিল, তারই সূত্র ধরে এদেশের আরও কত শত সোনার সন্তানের আত্মদানের পরে হাজার হাজার ছাত্র-শ্রমিক-রাজনৈতিক কর্মী অপরিসীম নির্যাতন ভোগের ফলশ্রুতিতে এদেশের মানুষ আজ তাদের অধিকার ফিরে পেতে চলছে। জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন এদেশের মানুষ আজ তাদের অধিকার ফিরে সংগ্রামের সৃষ্ট ফসল হিসেবে এইবারই সর্বপ্রথম দেশের আপামর মানুষের মতামত নিয়ে তাদেরই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা দেশের ভাবী শাসনতন্ত্র রচনার দায়িত্ব সমাধার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিগত দুই যুগের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণেরই মতামত নিয়ে একটি শাসনতন্ত্র প্রণয়নের যে সুযোগ আজ এসেছে, তার যথাযথ সদ্ব্যবহার ও নির্ভুল প্রয়োগের ওপরই এদেশের আপামর জনসাধারণের ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল।

 

ষড়যন্ত্রের রাজনীতি

 

পাকিস্তানের বিগত তেইশ বছরের ষড়যন্ত্রের রাজনীতি ধারাক্রমে জাতি আজ এক চরম সংকট-সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট থেকে জাতিকে মুক্ত করার জন্য দেশব্যাপী যে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে তাকে উপলক্ষ করে প্রতিপক্ষীয় রাজনীতিকরা সেই পুরাতন প্রক্রিয়াশীল শোষক সম্প্রদায়ের প্রভুদেরকেই আবার ক্ষমতার আসনে বসাবার জন্য উন্মুখ হয়ে উঠেছেন। একটু তলিয়ে দেখলেই তাদের এ কারসাজি বোঝা কঠিন নয়। গণবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল শোষণ-চক্রের এই বাঙালি দালালরা পাকিস্তানের জন্মাবধি নির্বাচন এড়িয়ে জনগণ থেকে নিজেদেরকে সযত্নে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রেখে, কখনও পশ্চাৎদ্বার দিয়ে, কখনও-বা লাজ-লজ্জার মাথা খেয়ে সরাসরি গিয়ে কুচক্রী ও কায়েমি স্বার্থের সঙ্গে হাত মিলিয়ে গণস্বার্থের সমাধির ওপর নিজেদের ভাগ্যের ইমারত গড়েছেন। আবার আন্দোলন দেখলেই পিঠটান দিয়ে আরাম কেদারায় শুয়ে নতুন কোনো সুযোগের প্রতীক্ষায় দিন গুজরান করেছেন। আমাদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের অপপ্রচারের উদ্দেশ্য আর কিছুই নয়। জনগণকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের মুরব্বিদের হয়ে গোপন অভিসন্ধি চরিতার্থ করা।

 

জনগণের ইচ্ছাই শেষ কথা

 

আওয়ামী লীগ জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছায় বিশ্বাসী। আর বিশ্বাসী বলেই তাদের হয়ে জনন্মাবধি তারা সংগ্রাম করে এসেছে। জনগণের অভিরুচি অনুযায়ী দেশ শাসিত হোক- এই কামনাই তাদের সংগ্রামী চেতনার মূল উৎস। তাই পাকিস্তানের জন্মলগ্নেই জনগণের সুস্পষ্ট ম্যান্ডেটের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে দেশকে যখন বিপথে পরিচালিত করার ষড়যন্ত্র হয়, তখন তা নস্যাৎ করার জন্য তারা দেশব্যাপী জাতীয়ভিত্তিক সাধারণ নির্বাচন চেয়েছে। আর জনগণের প্রতি আস্থাহীন দেশ ও দেশের সম্পদ লুট করে ভাগ্য গড়ার নীতিতে বিশ্বাসী আমাদের প্রতিপক্ষীয় এক শ্রেণির রাজনীতিক কায়েমি স্বার্থ, আমলাতন্ত্র ও পশ্চিমাঞ্চলের সামন্ত-নেতৃত্ব, জোতদার, জায়গীরদারদের সাথে হাত মিলিয়ে দেশব্যাপী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব প্রচেষ্টাই এ যাবৎ নস্যাৎ করে এসেছেন। আজও সে চেষ্টার বিরাম নেই। সুজলা-সুফলা-শস্যশ্যামলা এই সোনার বাংলাকে শোষণের চারণ ক্ষেত্রে পরিণত করার দুরভিসন্ধিতে মেতে নেপথ্যের এক শ্রেণির কুচক্রী যে মতলব এঁটেছিল, এই বাংলার মীর জাফররাই বারবার সে মতলবের বাস্তবায়নে প্রধান হাতিয়ার হয়ে কাজ করে এসেছে, আর তাই এদেশের তেরো কোটি মানুষের আজ এ দুরবস্থা।

 

বাংলার করুণ ইতিহাস

 

তাই বলি, বাংলা আর বাঙালির ইতিহাস- সিরাজুদ্দৌলা বনাম মীরজাফরের ইতিহাস, বাংলার ইতিহাস- বাংলায় আপামর মানুষ বনাম জনাব মোনেম খাঁদেরই ইতিহাস। এই ইতিহাস বড় করুণ, বড় মর্মন্তুদ। এ ইতিহাস আবার গৌরবদীপ্তও বটে। বাংলার কচি প্রাণ সালাম-বরকতের তপ্ত তাজা রক্তের পিচ্ছিল পথে নূরুল আমীনের; আর সার্জেন্ট জহুর-মনু মিয়া-আসাদ-শম্বু-আলাউদ্দিন আর আনোয়ারদের শোকসন্তপ্ত মাতা-পিতা-ভ্রাতা-ভগিনীর তপ্ত অশ্রুর রোষানলে মোনেম খাঁদের ক্ষমতার আসনচ্যুতিও এদেশের ইতিহাসের কত গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়! তবু শিক্ষা তাদের হয়নি।

 

লেবেল-সর্বস্ব ইসলাম নয়

আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে- আমরা ইসলামে বিশ্বাসী নই। এ কথার জবাবে আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য- লেবেল-সর্বস্ব ইসলামে আমরা বিশ্বাসী নই। আমরা বিশ্বাসী ইনসাফের ইসলামে। আমাদের ইসলাম হযরত রসুলে করীম (দঃ)-এর ইসলাম, যে-ইসলাম জগৎবাসীকে শিক্ষা দিয়েছে ন্যায় ও সুবিচারের অমোঘ মন্ত্র। ইসলামের প্রবক্তা সেজে পাকিস্তানের মাটিতে বরাবর যারা অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, বঞ্চনার পৃষ্ঠপোষকতা করে এসেছেন; আমাদের সংগ্রাম সেই মোনাফেকদেরই বিরুদ্ধে। যে দেশের শতকরা ৯৫ জনই মুসলমান, সে দেশে ইসলামবিরোধী আইন পাসের সম্ভাবনার কথা ভাবতে পারেন কেবল তারাই, ইসলামকে যারা ব্যবহার করেন দুনিয়াটা ফায়স্থা করে তোলার কাজে।

 

 

আমার জীবনের স্বপ্ন

 

জাতির এ মহাসন্ধিক্ষণে বাংলার জননায়ক শেরেবাংলা পরলোকে, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীও আজ আমাদের মাঝে নেই। মানিক ভাইয়ের ক্ষুরধার লেখনীও আজ চিরতরে স্তব্ধ। প্রাচীন নেতাদের মধ্যে যারা বেঁচে আছেন, তাঁরা অতীতের নিয়মে এখনও পশ্চিমাঞ্চলের সেই কায়েমি স্বার্থের কাছে নিজেদের বিকিয়ে রেখেছেন, নয়তো নির্জীব-নিস্কর্মা হয়ে বসে পড়েছেন, অন্যের শলা-পরামর্শে বশীভূত হয়ে কথায় ও কাজে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। শত প্রতিকূলতার মুখে গর্দান খাড়া রেখে কথা বলার মতো নেতৃত্বের আজ বড়ই অভাব। নিজের সীমাবদ্ধ সামর্থ্যে দেশবাসীর খেদমত করতে গিয়ে অতীতে বহু পরীক্ষার আমাকে সম্মুখীন হতে হয়েছে। আমার সংগ্রামী জীবনের স্বপ্ন ও সাধনার আলোকে বিচার করে নিশ্চিতই আজ আমি বুঝতে পারছি ভাগ্যহত বাংলার- এ দেশের আপামর তথা সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়ার বাসনাকে সার্থক রূপ দেওয়ার যে বিরাট গুরুদায়িত্ব আজ আমাদের সামনে, সে দায়িত্ব আজ আমাকেই স্কন্ধে তুলে নিতে হচ্ছে। এ দেশের ভাগ্যহত মানুষের ভাগ্য প্রণয়নের দায়িত্ব বাংলার মাটি হতে অঙ্কুরিত আওয়ামী লীগকেই গ্রহণ করতে হবে। আমি ও আমার দল সে দায়িত্ব গ্রহণে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, কেবল প্রয়োজন- জনগণের দোয়া আর শুভেচ্ছা, যা কিনা আমাদের এবারের চলার পথে একমাত্র পাথেয়।

 

ব্যক্তিগত কৈফিয়ত হিসেবে জনগণের খেদমতে একটিই মাত্র আমার বক্তব্য : নিজের জীবনের বিনিময়ে যদি এ দেশের ভাবী নাগরিকদের জীবনকে কণ্টকমুক্ত করে যেতে পারি, আজাদী আন্দোলনের সূচনাতে এ দেশের মানুষ মনের পটে যে সুখী-সুন্দর জীবনের ছক এঁকেছিল, সে স্বপ্নের বাস্তব রূপায়ণের পথ কিছুটাও যদি প্রশস্ত করে যেতে পারি, তা হলেই আমার সংগ্রাম সার্থক মনে করব।

 

আমি ক্ষমতার প্রত্যাশী নই। তবু আমার প্রতিপক্ষেরা আমাকে এ অপবাদ দিয়ে চলেছেন। বিগত ২৩ বৎসর ধরে ক্ষমতার আসন আমি কবে কখন আঁকড়ে ধরেছি তার- বিবরণ তারা দেন না। বিগত গোলটেবিল বৈঠকের সময় আমাকে প্রধানমন্ত্রিত্বের পদ গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমি তা দু’পায়ে ঠেলে দিয়েছি। এতে আমার প্রতিপক্ষের বন্ধুদের অনেকে রুষ্টও হয়েছেন। কিন্তু ব্যক্তিগত লাভালাভ বা স্বার্থের বখরায় শরিক হয়ে দেশবাসীর স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়া আমার রাজনীতির লক্ষ্য কোনোদিন ছিল না, আজও নাই। তাই রুষ্ট হলেও প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রলোভনের মুখে বাংলা ও বাঙালির স্বার্থের প্রশ্নে নিজ বিবেককে আমি বিকিয়ে দিতে চাইনি। তাদের দৃষ্টিতে এ আমার অপরাধ হতে পারে, কিন্তু আমার মনে হয় দেশবাসীর দৃষ্টিতে নয়।

 

লোকশক্তির প্রত্যাশী

 

ক্ষমতার প্রত্যাশী আমি নই, তবে শক্তির প্রত্যাশী আমি বটে- কায়েমি স্বার্থসম্পন্ন অনিচ্ছুক মহলের হাত থেকে দেশবাসীর স্বার্থ ছিনিয়ে আনতে শক্তি আমরা চাই-ই চাই। সে শক্তি জোগাতে পারেন কেবল জনগণই। এ কারণে জনগণের খেদমতে একটিই মাত্র আমার প্রার্থনা :জাতীয় পরিষদে দাঁড়িয়ে বাংলার মানুষের হয়ে এক কণ্ঠে আওয়াজ তুলে বাংলা ও বাঙালির স্বার্থ ও অধিকার যাতে আমরা আদায় করে আনতে পারি, তার জন্য জাতীয় পরিষদে বাংলাদেশের ১৬২টি আসনের প্রত্যেকটি আসনে জনগণ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকেই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন। কারণ জনগণের শাসনতন্ত্র চাহিদামতো পাস করিয়ে আনতে হলে অনিচ্ছুক প্রতিপক্ষের মোকাবিলায় আমার চাই নির্ভেজাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতাই হচ্ছে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিজয়ের চাবিকাঠি। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা যদি তারা আমাকে জাতি, ধর্ম ও দলমত নির্বিশেষে দেন, তাহলে আমি ওয়াদা দিচ্ছি- তাদের স্বার্থ ও অধিকার আমি আদায় করে আনবই। আর যদি আপনাদের বিচারে ভুল হয়, আবার যদি পার্লামেন্টে গিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের দরুন বাংলার প্রতিনিধিরা দলে দলে ভাগ হয়ে বসে বেসুরো আওয়াজ তোলেন, তাহলে হাতে পেলেও সবই আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাবে। আর তার অর্থ হবে এ দেশের বারো কোটি মানুষ ও তাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের সর্বনাশ। এ সর্বনাশে আপনি আমি জ্ঞানত শরিক হতে পারি কিনা, তা বিচারের ভার আপনাদের ওপরই আমি ছেড়ে দিচ্ছি।

সকলের প্রতি বন্ধুত্ব

পররাষ্ট্রনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে- আজ বিশ্বজুড়ে যে ক্ষমতার লড়াই চলছে সে ক্ষমতার লড়াইয়ে আমরা কোনোমতেই জড়িয়ে পড়তে পারি না। এজন্যে আমাদের অবশ্যই সত্যিকারের স্বাধীন এবং জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে হবে। আমরা ইতোমধ্যেই সিয়াটো, সেন্টো ও অন্যান্য সামরিক জোট থেকে সরে আসার দাবি জানিয়ে এসেছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কোনো জোটে জড়িয়ে না পড়ার ব্যাপারে আমাদের বিঘোষিত সিদ্ধান্ত রয়েছে। সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ এবং বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী নির্যাতিত জনগণের যে সংগ্রাম চলছে- সে সংগ্রামে আমরা আমাদের সমর্থন জানিয়েছি।

 

‘কারোর প্রতি বিদ্বেষ নয়, সকলের প্রতি বন্ধুত্ব’- এ নীতির ভিত্তিতে বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সাথে আমরা শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থানে বিশ্বাসী। আমরা মনে করি, প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া উচিত, এর মধ্যে আমাদের জনগণের বৃহত্তম স্বার্থ নিহিত রয়েছে। সেজন্যে প্রতিবেশীদের মধ্যে বর্তমান বিরোধসমূহের নিষ্পত্তির উপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা। দেশবাসী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অধিকারী হলেই এসব কর্মসূচি ও নীতিমালার বাস্তবায়ন সম্ভবপর। আগামী নির্বাচন জাতীয় মৌলিক সমস্যাসমূহ বিশেষ করে ৬-দফার ভিত্তিতে স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে গণভোটরূপে আমরা গ্রহণ করেছি।

প্রকৃত গণতন্ত্র

পরিশেষে আমি বলতে চাই, জাতি হিসেবে আমাদের সামনে যে চ্যালেঞ্জ এসেছে, আমরা সাফল্যের সাথে তার মোকাবিলা করবোই। প্রকৃত প্রাণবন্ত গণতন্ত্র দেশে প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। যাদের নিয়ে পাকিস্তান গঠিত, তারা শুধুমাত্র একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যেই একত্রে বসবাস করতে পারে।

 

(১৯৭০ সালের নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রদত্ত বঙ্গবন্ধুর বেতার ভাষণের সংক্ষেপিত ভাষ্য)

পূর্ববর্তী খবরশ্রীমঙ্গলে বিষাক্ত পোটকা মাছ খেয়ে বউ শ্বাশুড়ির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
পরবর্তী খবরকরোনাভাইরাসের নতুন প্রজাতি: ব্রিটেনে বিমানের ফ্লাইট বাতিল করবে চীন

Leave a Reply