নওগাঁর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নদী পাড়ের স্থানীয় সম্পত্তি দখল ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

আতাউর শাহ্, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁয় তুলশীগঙ্গা নদী ১০ কিলোমিটার পুন:খননে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ নদী পাড়ে বসবাসরতদের কৃষি জমি, বসত ভিটা সরকারি ভাবে অধিগ্রহণ না করেই খনন শুরু করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তোভোগীরা। ফলে অনেকেই সম্পত্তি হারিয়ে আগামীতে সংসারের খরচ মেটাবেন কিভাবে সে দু:চিন্তাতেই রয়েছেন। স্থানীয়দের ক্ষতিগ্রস্থ্য না করতে বিভিন্ন দপ্তরের অভিযোগ দিয়েও কোন কাজ হয়নি অন্যদিকে প্রতিবাদ করলেই দেওয়া হচ্ছে হুমকি-ধুমকি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। নামছাম কাজ করেই নদী খননের বরাদ্দকৃত টাকা কর্তারা হরিলুটের প্রতিযোগিতায় রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্থ্যদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ্যরা।

নওগাঁর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নদী পাড়ের স্থানীয় সম্পত্তি দখল ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

নওগাঁ পাউবি সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ শহরের তুলশীগঙ্গা সেতু থেকে চককতুব রেগুলেটর (স্লুইটগেইট) পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার নদী পুন:খননের প্রথমে ব্যায় ধরা হয়েছিল ৭ কোটি ৩ লাখ টাকা। পরবর্তিতে খননে কাজে ১০ ভাগ কমে ব্যায় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। আগামী বছর জুন মাস পর্যন্ত এই কাজের মেয়াদ রয়েছে। গত বছর এই কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। ইত্যে মধ্যে ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।  

সরেজমিনে জানা গেছে, নওগাঁ সদর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামে তুলশীগঙ্গা নদীর তীরে বাড়ি কৃষক মোজাম্মেল হকের। বাড়ির পাশেই ব্যক্তিগত কৃষি জমি মাত্র ২ বিঘা ৩ কাঠা (৪৩ কাঠা)। এই জমি থেকে উৎপাদিত ফসল দিয়ে মেটানো হচ্ছিল পরিবারের ৬ জনের খাদ্যসহ অন্যান্যে চাহিদা। গত বছর নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে নদী তীরবর্তী এলাকায় জমি অধিগ্রহণ না করেই নদী পুন:খনন কাজ শুরু করে। এতে নদীর মধ্যে মোজাম্মেল হকের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি জমি কেটে নদীর মধ্যে কেটে নেওয়া হয়েছে। আবার নদী খননের সময় ফেলে রাখা মাটি তার জমি থেকে অপসারণ করে করতে ১৮ হাজার খরচ করতে হয়েছে। মাত্র ১০ কাটা দিয়ে কিভাবে সংসারের খরচ মিটাবেন সেই দু:চিন্তাতেই রয়েছেন মোজাম্মেল হক।

নওগাঁর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নদী পাড়ের স্থানীয় সম্পত্তি দখল ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

শুধু মোজাম্মেল হকই নন। পাউবি থেকে জমি অধিগ্রহণ না করায় তুলশীগঙ্গা নদীর তীরে বসবাসরত তার মতো শতশত কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছেন। রাণীনগর উপজেলার বাহাদুরপর গ্রামের ইমরান হোসেন, চকমনো গ্রামে জালাল উদ্দিন সদর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের জাহিদুই ইসলামসহ অন্যরা জানান, ১৯২০, ৬২ সালের রেকর্ড ভুক্ত পৈত্রিক জমি-জমা নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন নোটিশ ছাড়াই বা অধিগ্রহণ না করেই জোর করে খনন করে নদী মধ্যে নিয়েছেন। ফলে তারা লাখ লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে। অনেকেই সম্পত্তি হারিয়ে পথে বসেছেন। প্রতি বাদ করলেই বিভিন্ন ভাবে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
সদর উপজেলার চুনিয়াগাড়ী গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, তুলশীগঙ্গা নদীর শেষপ্রান্তে দক্ষিণ দিকে ছোট যমুনার সাথে মিলিত হয়েছে। বর্ষ মৌসুমে ছোট যমুনা নদীতে ব্যাপক পানি থাকায় তুলশীগঙ্গা নদীর পানি নেমে যেতে পারে না। ফলে চন্ডিপুর ইউনিয়ন ও এর পাশের রাণীনগর উপজেলার ৭/৮টি গ্রামের মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে গত বন্যায় ধানসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

চন্ডিপুর গ্রামের হোসেন আলীসহ অন্যরা জানান, মাত্র ১০ কিলোমিটার পুন:খননে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যায় করা হচ্ছে। পরিকল্পনাহীন কাজের জন্যে সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্চায় যাচ্ছে অন্যদিকে বর্ষ মৌসুমে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে শতশত বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নদী খননের উপকারের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছেন তারা।

সদর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বেদারুল ইসলাম জানান, কোন কাজ করতে ২০ ভাগ ক্ষতি হলে সেটা মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু এই নদী খনন কাজে ৮০ ভাগই ক্ষতি হয়েছে এলাকাবাসিদের। তুলশী নদী খননের কৃষকদের ক্ষতির হাতে থেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন দপ্তরের একাধিকবার অভিযোগ দিলেও সংশ্লিষ্টরা কর্ণপাত না করেননি। অপরদিকে নদী খননে বরাদ্দকৃত টাকা হাতিয়ে নিতে পাউবির কর্তাগণ ও ঠিকাদার তৎপর রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।  

নদী খননের ফলে বর্ষা মৌসুমে কিছু নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছেন বলে স্বীকার করে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফউজ্জামান খান দাবি করেন, নদীর জমিতেই নদী খনন করা হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও রয়েছে এই প্রকল্পে।#

পূর্ববর্তী খবরশৈলকুপা আগুন পুড়ে ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতি।
পরবর্তী খবরনওগাঁয় প্রচন্ড শীতে যুবকের মৃত্যু

Leave a Reply