30 C
Dhaka
Thursday, September 29, 2022

নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ১১ দফা দাবি কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে দেখার অপেক্ষা 

জোবায়ের আনসারী, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি ঃ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনের উদ্দেশ্যে উত্থাপিত ১১ দফা দাবি নিমম্নরূপ :

১. সোনাপুর – বিশ্ববিদ্যালয় অনতিবিলম্বে রাস্তা সংস্কার ও প্রশস্তকরন। এবং লিংকরোডের মতো সোনাপুর জিরোপয়েন্ট তথা বিশ্ববিদ্যালয়মুখী সড়কে বেরিকেড ও ট্রাফিক বক্স স্থাপন।

২. সোনাপুর জিরো পয়েন্টের নামকরণ করা হবে “অজয় চত্বর”। 

৩. বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় প্রতি ঘন্টায় শিক্ষার্থীদের বাস বা পরিবহন সার্ভিস নিশ্চিতকরণ। 

৪. প্রত্যেক আবাসিক হলে আনুষঙ্গিক সকল সংকট/সমস্যা নিরসনসহ হলের ডাইনিং এ খাবারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ভর্তুকি প্রদান করতে হবে। এবং খাবারের দাম কমিয়ে সুলভ মূল্য করে নির্দিষ্ট খাবারের মূল্য তালিকা প্রদান করতে হবে, খাবারের মানের উন্নয়ন করতে হবে। 

৫. অনতিবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া স্থাপন ও পরিচালনার ব্যবস্থা করতে হবে। 

৬. অনতিবিলম্বে একাডেমিক ভবন-০৩ এর কাজ কতদূর এগিয়েছে তা তদারকি করে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জোর দাবি রইল। অন্যথায়, যে সকল বিভাগ ক্লাসরুম সংকটে ভুগছে তাদের পর্যাপ্ত ক্লাসরুমের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। 

৭. শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের জন্য যাতায়াতের নিমিত্তে মাইজদী-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সকল পরিবহনে নির্দিষ্ট ভাড়ার পরিমাণ নিশ্চিত করতে হবে। 

৮. অজয় মজুমদারের পরিবারের এই দুর্দশা, অভাব/সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সাময়িক আর্থিক সাপোর্টের পাশাপাশি ভবিষ্যতেও যেন পরিবারটা সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে তাই যোগ্যতার ভিত্তিতে তাঁর পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরী প্রদানের জোর দাবি রইল। 

৯. চিকিৎসার অভাবে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ কোনো মানুষ দূর্ঘটনায় কবলিত হয়ে মাইজদী – বিশ্ববিদ্যালয় রুটে তৎক্ষনাৎ মৃত্যুবরণ করতে না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে সোনাপুর এলাকায় একটা ডিজিটাল চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র বা মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য জেলা প্রশাসনের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমন্বয়ে একটা বিহিত ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবি রইল। 

১০. বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা সেবা মান উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় মেডিকেল সেন্টারে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক সকল চিকিৎসার সরঞ্জামের ব্যবস্থা করতে হবে। এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণের নিয়োগসহ সার্বক্ষণিক সেবা চালু করা ও মেডিসিনের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। 

১১. ক্যাম্পাসে রাত নামলে মনে হয় কোনো এক অজপাড়া গাঁয়ে চলে এসেছি। তাই, ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত লাইটিং ব্যবস্থার জন্য ল্যাম্পপোস্টের সংখ্যা বাড়াতে হবে। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হচ্ছে মুক্তমঞ্চ, ছাত্র শিক্ষক মিলনায়তন (TSC)। তাঁর ছিটেফোঁটাও নেই এই ক্যাম্পাসে। তাই, অতিসত্তর TSC/মুক্তমঞ্চ প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা ও সৌহার্দপূর্ণ মনোভাব সৃষ্টির জন্য যথাবিহিত ব্যবস্থা করতে হবে। 

পরিশেষে বলতে চাই, ক্যাম্পাসে প্রায় ৪ বছর অতিবাহিত করে ফেললাম। এর মধ্যে অনেক আন্দোলন দেখেছি শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে। যখনই শিক্ষার্থীরা কোনো দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা তুলে তখনই প্রশাসনের টনক নড়ে। তিনজন শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হলো। আমি বলবো খুন করা হয়েছে। ফৌজিয়া আপুর দূর্ঘটনার পরে প্রশাসন যে যে আশ্বাস দিয়েছিল তাঁর অর্ধেক বাস্তবায়ন হলেও আজকে হয়তো আমরা অজয় মজুমদার কে হারাতাম না। 

আবারও সচেতন চিত্তে বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়াগুলো কারো ব্যক্তি স্বার্থের কাছে যেন বন্দী হয়ে না যায়। 

একদল সচেতন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমাদের যে যে অভিযোগ কিংবা দাবি-দাওয়া উত্থাপিত হলো সেগুলোর প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথেষ্ট আন্তরিক হবে এবং দাবি-দাওয়া গুলোর বিহিত ব্যবস্থা গ্রহন করে হাজারো শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হিসেবে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার ভূমিকায় অগ্রণী হয়ে শিক্ষার্থী বান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সমগ্র দেশ তথা বিশ্বের বুকে এক রোল মডেল হিসেবে অচিরেই পরিচিতি লাভ করবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Leave a Reply

লেখক থেকে আরো