পাবনার ঈশ্বরদী থানার এসআই অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন।

পাবনাঃ- পাবনার ঈশ্বরদী থানার এসআই আব্দুল হালিমের অপসারণ দাবিতে এবং চা দোকানদার আব্দুল মাজেদ কালিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে পাবনা আটঘরিয়ার সারুটিয়া বাজারে।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকালে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় সারুটিয়া বাজার সমিতি ও সর্বস্তরের এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৩০ নভেম্বর এলাকার সবচেয়ে ভালো মানুষ বলে খ্যাত চা দোকানদার আব্দুল মাজেদ কালিয়াকে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে ৫৩ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করে এসআই আব্দুল হালিম। এর আগেও ওই এসআই সহ আরও একজন এসআই ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে উল্লেখিত সোর্সের মাধ্যমে এই মাজেদ কালিয়াকে একাধিক মামলা দিয়ে নাজেহাল করে।

পাবনার ঈশ্বরদী থানার এসআই অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন।

এসব কারণে আব্দুল মাজেদ কালিয়াকে ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে গ্রেফতার পূর্বক জেলহাজতে প্রেরণ করার প্রতিবাদে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।

সারুটিয়া বাজার সমিতি ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আয়োজিত এসব কর্মসূচীতে বক্তব্য দেন, বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী, পল্লী চিকিৎসক দুলাল মিয়া, ফিড ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম, স্থানীয় আওয়ামীলীগ সভাপতি আকবর আলী বিশ্বাস, মানবাধিকার কর্মী মিজানুর রহমান বুটিয়া, সারুটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের সহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, চা দোকানদার আব্দুল মাজেদ কালিয়া নিজে কোন প্রকার ধুমপান করেন না। তারমত ভাল মানুষ এলাকায় খুব কমই আছে। অথচ তাকে পুলিশের সোর্স শরিফুল ও শহিদুল এর মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পুলিশ অফিসাররা তার দোকানে ইয়াবা রেখে তাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে সম্মান হানী ঘটানোসহ পরিবারকে ক্ষতি করা হয়েছে।

বক্তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে আরো বলেন, আব্দুল মাজেদ কালিয়াকে গ্রেফতারের পর ঈশ্বরদী থানার ওসি সেখ নাসির উদ্দীনকে বিষয়টি জানালেও তিনি কোন গুরুত্ব দেননি বা পদক্ষেপ নেননি।পুলিশের সোর্স শরীফ ও শহিদুল এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় নানাভাবে অত্যাচার নির্যাতন চালায়।

বক্তারা আরও বলেন, দেশ মাদকমুক্ত হোক এটা আমরা চাই, কিন্তু ভালো মানুষকে মাদক নির্মুলের নামে হয়রানি করা এটা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

তারা বলেন, এইসব বিষয়গুলো মৌখিক ভাবে ঈশ্বরদী থানার ওসি শেখ নাসির উদ্দিনকে জানানোর পরও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এমনকি আব্দুল মাজেদ কালিয়া মাদক ব্যবসায়ি কি না তা এলাকায় তদন্ত না করেই তাকে ইয়াবা দিয়ে গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এহেন কর্মকান্ডের জন্য ওসি শেখ নাসির উদ্দিন ও এসআই হালিমের অপসারণ দাবী করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ওসি শেখ নাসির উদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার কাছে কেউ এই বিষয় নিয়ে কোন অভিযোগ দেয়নি বা কোন বিষয় মুখেও বলেননি। তাই বিষয়টি নিয়ে তদন্তের কারণ দেখিনা।

পূর্ববর্তী খবরপাবনার চাটমোহরে “কিডস্ ফুটবল কাপ” এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হলো।
পরবর্তী খবরসাকিবের বডি ল্যাংগুয়েজ পরিষ্কার বুঝিয়ে দিচ্ছে এগুনো চেনা রূপে ফিরতে পারেনি।

Leave a Reply