পাবনার ভাঙ্গুড়ায় অপহরণের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই পুলিশ যুবককে উদ্ধার করল।

পাবনাঃ- পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ভেড়ামারা গ্রামের নির্জন একটি আম বাগান থেকে রবিবার (২৯ নভেম্বর) দিনগত রাত ৯টার দিকে অপহরণের তিন ঘণ্টা পর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহৃত তরিকুল ইসলাম (২৪) নামে এক যুবককে উদ্ধার করেছে।

এ নিয়ে রহস্যের দানা বেঁধেছে। উদ্ধারকারী পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই সাজেদুর রহমান জানান, একজন যুবককে অপহরণ করে মাত্র ১৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক।

আহত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে ঘটনাটি সত্যিই অপহরণ নাকি ওই যুবকের পিতার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার নাটক সেটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তরিকুল পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর উপজেলার বেড়হাউলিয়া গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে।

পুলিশ ও উদ্ধারকৃত যুবকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কে বা কারা ফরিদপুর উপজেলার বেড়হাউলিয়া বাজারের পাশে একটি ফাঁকা জায়গা থেকে তরিকুলকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।

এর এক ঘণ্টা পর তরিকুলের মোবাইল থেকে তার বাবার কাছে ১৫ হাজার টাকা দাবি করে ফোন করা হয়। টাকা না দিলে তরিকুলকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় অপহরণকারীরা।

এসময় টাকা কোথায় দিতে হবে জানতে চাইলে অপহরণকারীরা তরিকুলের মোবাইল নম্বরে বিকাশ করতে অথবা ভাঙ্গুড়া রেলগেট এলাকায় সশরীরে এসে টাকা দিতে বলেন। তখন তরিকুলের বাবা আব্দুল আজিজের কাছে টাকা না থাকায় আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

এতে আত্মীয়-স্বজনের পরামর্শে আব্দুল আজিজ ভাঙ্গুড়া থানায় মৌখিক অভিযোগ করেন।

এরপর পুলিশ তরিকুলের মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং করে এবং কৌশলে ওই নম্বরে কথা বলে ভাঙ্গুড়া উপজেলার ভেড়ামারা গ্রামে তাদের অবস্থান জানতে পারে।

তখন ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের এএসআই সাজেদুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মোবাইল ট্রেস করে ভেড়ামারা গ্রামে একটি নির্জন বাগানের মধ্যে গিয়ে তরিকুলের গোঙ্গানির শব্দ শুনতে পান। এসময় পুলিশ তরিকুলকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

আহত তরিকুল বলেন, কে বা কারা তাকে মুখ চেপে ধরে মাইক্রোবাসে তোলেন। এরপর তার ফোন থেকে বাবাকে কল করে টাকা চান। কিন্তু পুলিশ আমাকে উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে বুঝতে পেরে অপহরণকারীরা আমাকে মারধর করে নির্জন বাগানে ফেলে চলে যায়।

উদ্ধারকারী পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই সাজেদুর রহমান বলেন, একজন যুবককে অপহরণ করে মাত্র ১৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক। এছাড়া অপহৃত যুবকের বক্তব্যে গরমিল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাই পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করে প্রকৃত বিষয়টি বের করার চেষ্টা করছে।

পূর্ববর্তী খবরচাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন।
পরবর্তী খবরচসিকের পরামর্শ সভায় বক্তাদের অভিমত; চট্টগ্রামের কথা ঢাকায় শোনাতে হবে।

Leave a Reply