প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবছর বরাদ্দের টাকা হরিলুট।

মোঃ ফখরুল ইসলাম সুমন, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি :- কুড়িগ্রামের উলিপুরে দক্ষিণ সাদুল্যা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন অর্থ বছরে কয়েকটি প্রকল্পের নাম ভাঙিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে।

উপজেলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি হওয়ার সুবাদে প্রতি অর্থ বছরেই তার প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের নামে প্রায় প্রতিটি বরাদ্দই দিতে বাধ্য হন উপজেলা শিক্ষা অফিসার। ইতিপূর্বে এ সবের কারণে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাথে বিবাদ হয় সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের। দক্ষিণ সাদুল্যা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৯/২০ অর্থ বছরে স্লিপ এর ৭০ হাজার টাকাসহ পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ ছিলো ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা ।

প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবছর বরাদ্দের টাকা হরিলুট।

সরেজমিনে দেখা যায়, দরজা, জানালা, ওয়াল প্লাস্টার, গৃহ রং ও আসবাবপত্র মেরামতের জন্য বরাদ্দ থাকলেও কাজের কাজ হয়েছে নামকাওয়াস্তে। শুধুমাত্র চুনকাম করে সমুদয় টাকা লোপাটের চিত্র ছাড়া আর কিছুই নেই ওই প্রতিষ্ঠানের কাজে। সেই চুনকামও উঠে গেছে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই। প্লাস্টার করা হয়নি বারান্দা ও বিভিন্ন স্থানে খসে যাওয়া ওয়ালেরও।

এমনকি ওয়ালে লেখা বিদ্যালয়ের নামও কালো রং করতে কার্পন্যতার বাকি নেই ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের। হলুদ রং দিয়ে লেপ্টে দেয়া হয়েছে সেই নাম। ফলে নাম ফলকহীন হয়ে পড়েছে দক্ষিণ সাদুল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২০১৮/১৯ অর্থ বছরেও স্লিপ এর বরাদ্দ ছিলো ৭০ হাজার টাকা। ওই টাকা ব্যয় খাতের ধরনও একইরকম। আরো পিছিয়ে দেখলে ২০১৭/১৮ অর্থ বছরে মেরামতের জন্য বরাদ্দ ছিলো ১ লক্ষ টাকা। এ বিষয়ে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে কথা হলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আসলে আমাদের বলার কিছুই নেই আমরা প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ভাবেই তার কাছে জিম্মি। এমনকি তার সুপারিশ ছাড়া শিক্ষা অফিসে কোনো কাজ হয় না।” প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “ কোনো টাকাই আত্মসাৎ করা হয় নাই। বিদ্যালয়ে কক্ষ বৃদ্ধি করতে পার্টিশন দিয়েছি ও শিক্ষার্থীদের জন্য সিলিং ফ্যান কিনেছি।”

একই প্রতিষ্ঠানে বারংবার বরাদ্দের ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাদিরউজ্জামান বলেন, “আমি নতুন এসেছি এ সব বিষয়ে আমার বলার কিছুই নেই।” এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের কমিটির সভাপতি মোজাফফর হোসেনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি সেল ফোন রিসিভ করেননি।

তবকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, “সংস্কার সংক্রান্তসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য বিষয়ের কোনো মিটিং এ আমাকে ডাকা হয় না শুধু স্বাক্ষর নেয়ার দরকার হলে তখন ডাক পড়ে।”

পূর্ববর্তী খবরমেহেরপুরে ইউপি সদস্য ব্যাক্তিগত উদ্যোগে আসহায়দের মাঝে ১২শ কম্বল বিতরন।
পরবর্তী খবরপৌর নির্বাচনে আ’লীগ মেয়র পদে মনোনয়ন পেলেন ইছাহক মালিথা।

Leave a Reply