প্লাটিলেট কি?

প্লাটিলেট কি?

প্লাটিলেট কি? আসুন জেনে নি প্লাটিলেট কিঃ প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা হলো রক্তের এক ধরনের ক্ষুদ্র কণিকা, যা রক্ত জমাট বাঁধতে ও রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে সাহায্য করে।

স্বাভাবিক মানুষের রক্তে অণুচক্রিকার হার প্রতি ১০০ মিলিলিটারে দেড় লাখ থেকে চার লাখ। সাধারনত ৪ জন ডোনার থেকে ০১ ব্যাগ প্লাটিলেট করে, কিন্তু এখন উন্নত প্রযুক্তির কল্যাণে “এফেরোসিস” মেশিনের মাধ্যমে ১ জন ডোনার থেকেই ১ ব্যাগ প্লাটিলেট বের করা যায়।

যে জন্য এফেরোসিস মেশিন বা প্লাটিলেট মেশিন দ্বারা এক জন ডোনারের কাছ থেকে ২৫০ মিলির মতো রক্ত নিয়ে মেশিনে প্রসেসিং করে প্লাটিলেট বের করে রক্তের বাকী অংশটুকু আবার ডোনারের শরীরে পুশ ব্যাক করে দেয়। এইভাবে ৬/৭ বার করে। প্রতি ধাপে ১০-১৫ মিনিট সময় লাগে। মোট ১ ঘন্টা বা ১ ঘন্টা ১৫-২০ মিনিট সময় লাগে (বিঃদ্রঃ মেশিন ভেদে এবং ডোনারের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী সিস্টেম একটু আলাদা হয়)। সিবিসি টেস্ট ও প্লাটিলেট দেওয়া, মোট মিলিয়ে ২ ঘন্টা সময় ধরে রাখতে হবে।

# তবে এফেরোসিস পদ্ধতিতে মেশিনে প্লাটিলেট দানের ক্ষেত্রে কিছু জিনিস জেনে রাখা জরুরী। তা হলো এই পদ্ধতিতে প্লাটিলেট দিতে হলে অবশ্যই ডোনারের ওজন ৫৫ কেজি +…., নূন্যতম ১৮ বছর বয়স, ভেইন তুলনামূলকভাবে মোটা এবং ডোনারের শরীরে প্লাটিলেট ও হিমোগ্লোবিন কাউন্ট ভালো থাকতে হবে। প্লাটিলেট কালেকশন এর আগে ডোনারের শরীরে কাউন্ট দেখে নেওয়া হয়।

এই পদ্ধতিতে কিছু পরিমান রক্ত মেশিনে যাবে এবং সেখান থেকে প্লাটিলেট আলাদা করে আবার বাকী উপাদান শরীরে চলে আসবে। এভাবে কয়েক সাইকেলে ১ ব্যাগ সংগ্রহ করা হয়। একারনেই মূলত ভেইন মোটা থাকা প্রয়োজন। তাছাড়া এটা অনেক ব্যায়বহুলও বটে! স্কয়ার, ইউনাইটেড, অ্যাপোলো হাসপাতালে এক ব্যাগ প্লাটিলেট নিতে ২৫০০০+ টাকা লাগে! তবে পিজি হাসপাতালে ১২০০০-১৩০০০ টাকার মত খরচ হয়।

# প্লাটিলেট দিলে ১০-১৫ দিন পর আবার সে প্লাটিলেট দিতে পারে, কারন অণুচক্রিকা ছাড়া অন্য কিছু নেওয়া হয় না। আর অণুচক্রিকার জীবন কাল ৩ দিন যা ২/৩ দিনেই শরীরে ব্যাক করে। আরও একটা ব্যাপার হল প্লাটিলেট ডোনার একাই ৪ জন ডোনারের কাজ করছে। এতে বাকী ৩ জন ডোনার অন্য রোগীকে বাচাঁতে পারবে।

#তবে সাধারণভাবে ১ ব্যাগ রক্ত দেওয়ার ৪ মাস এর মধ্যে কোনোটাই দেওয়া যাবেনা।

# রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে যাওয়াকে থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া (Thrombocytopenia) বলে। সাধারণত ডেঙ্গু জ্বর হলে এই অণুচক্রিকা অথবা প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে যেতে পারে। রক্তে প্লাটিলেটের লেভেল কমে গেলে শরীরের খুব বেশি ক্ষতি সাধারণত হয় না। প্লাটিলেট কমে যাওয়ার প্রধান এবং অন্যতম লক্ষণ হল রক্তপাত।

কিন্তু এটি কমে গেলেই যে তা মারাত্মক ব্যাপার বা রক্ত বা প্লাটিলেট দিতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। দেখা গেছে, প্লাটিলেটের সংখ্যা ২০ হাজার পর্যন্ত নামলেও রোগীর মারাত্মক কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই। এর নিচে বা এর সঙ্গে নাক, দাঁত বা অন্য কোনো স্থান থেকে রক্তপাত হলে বা রোগী ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে চলে গেলে খুবই সীমিত কিছু ক্ষেত্রে প্লাটিলেট দেওয়ার প্রশ্ন আসে। রক্তের প্লাটিলেট সংখ্যা কেবল ডেঙ্গু জ্বরেই নয়, আরও নানা ভাইরাস জ্বরেও কমতে পারে। এমনকি বিভিন্ন ওষুধের প্রতিক্রিয়ায়ও সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। শরীরে রক্তস্বল্পতা দেখা দিলেও প্লাটিলেট কমে যেতে পারে। তবে সাধারণ ভাইরাস জ্বরে প্লাটিলেটের সংখ্যা এত কমে না, বড়জোর ৯০ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত কমে। আর ডেঙ্গুতে এটি ৫০ হাজারের নিচে প্রায়ই চলে যায়। সেটা অবশ্যই সাময়িক এবং আপনি যদি সুস্থ-সমর্থ ব্যক্তি হন, তবে একে মোকাবিলা করার যথেষ্ট রসদ আপনার দেহেই আছে। জ্বর হওয়ার সাত থেকে আট দিনের মাথায় এই সংখ্যা এমনিতেই বাড়তে থাকে এবং সাধারণত আর কমে না। তাই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে অহেতুক আতঙ্কিত হবার কিছু নেই, প্রচুর তরল পান ও বিশ্রাম সুস্থতা এনে দিবে।

প্লাটিলেটের পরিমাণ রক্তপাতের পরিমাণ ১০,০০০ কোন অস্বাভাবিক রক্তপাত নয়।

৫০,০০০-১,০০,০০০ আঘাতে অধিক রক্তপাত হয় সাধারণের তুলনায়।

২০,০০০-৫০,০০০ ছোট আঘাতেও অধিক রক্তপাত

২০,০০০ আঘাত অথবা আঘাত ছাড়া রক্তপাত।

এতো গেল থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া। আবার আইটিপি হলো প্লাটিলেট সম্পর্কিত আরেকটি সমস্যা।

আইটিপি এর পূর্ণরূপ হলো = আইডিওপ্যাথিক থ্রম্বোসাইটোপেনিক পারপিউরা।

এই রোগে শরীরের প্লেটলেটগুলো আপনা আপনিই ধবংস হতে থাকে। থ্রম্বোসাইটোপেনিয়ার ক্ষেত্রে হয়ত কোনো কারনে প্লাটিলেটের পরিমান কমে যায় যেমন: ওষুধের প্রতিক্রিয়ায়, দুর্ঘটনার ফলে রক্তক্ষরনে বা মেয়েদের ক্ষেত্রে মাসিক বা প্রসবকালীন অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের ফলে। কিন্তু আইটিপি এর ক্ষেত্রে কোনো কারণ ছাড়াই রক্তের প্লাটিলেটগুলো নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। মূলত রক্তে হঠাৎ করে এমন কোনো এন্টিবডি তৈরী হয়ে যায় যেটা কি’না দেহের প্লাটিলেটকে রোগের জীবানুর মত মনে করে ধবংস করে দিতে থাকে। আর এই রোগের কারণে স্কিন র্যাস, স্কিনে ছোপ ছোপ দাগ, ইনফেকশন দেখা দিতে পারে। তবে আইটিপি রেয়ার একটি রোগ এবং এটি পুরুষের চেয়ে মহিলা ও শিশুদের বেশি হয়ে থাকে।

# কিছু খাবারের মাধ্যমে রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধি করা সম্ভব।

১. ডালিম:

ডালিম রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর পরিমাণ আয়রন রয়েছে যা প্লাটিলেট বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন ১৫০ মিলিলিটার ডালিমের জুস দুই সপ্তাহ পান করুন। ডালিমের রসের ভিটামিন দূর্বলতা দূর করে কাজে শক্তি দেবে।

২. পেঁপে:

পেঁপে অল্প কিছুদিনের মধ্যে রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। ২০০৯ সালে Asian Institute of Science and Technology in Malaysia এক গবেষণায়

দেখেছে যে, পেঁপের পাতার রস রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধি করে যা ডেঙ্গু জ্বরের কারণে কমে থাকে। পাকা পেঁপের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। এটি প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার পান করুন।

৩. দুধ:

দুধের ক্যালসিয়াম রক্তে প্লাটিলেট গঠনে সাহায্য করে। ক্যালসিয়ামের অভাব হলে রক্তে প্লাটিলেট তৈরির গতি ধীরে হয়ে যায়। দুধের পাশাপাশি টক দই, চিজ, দুধের তৈরি খাবার খাওয়া উচিত।

৪. পালংশাক:

পালংশাক ভিটামিন কে এর অন্যতম উৎস। রক্তজমাট বাঁধতে ভিটামিন কে সাহায্য করে। চার-পাঁচটি পালংশাকের পাতা দুই কাপ।

পূর্ববর্তী খবরটেকসই উন্নয়নের জন্য দরকার নিজস্ব প্রযুক্তি, ভাড়া করা প্রযুক্তি নয়ঃ যবিপ্রবি উপাচার্য
পরবর্তী খবরপরীমণির গাড়িসহ জব্দ করা ১৬ আলামত ফেরত দিতে সুপারিশ

Leave a Reply