ফকির আলমগীরের মৃত্যু : বাংলাদেশের গণসঙ্গীতে এক অপূরনীয় শূন্যতা

ফকির আলমগীরের মৃত্যু : বাংলাদেশের গণসঙ্গীতে এক অপূরনীয় শূন্যতা

কিংবদন্তি গণসংগীতশিল্পী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৩ জুলাই ২০২১ তারিখে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

স্বাধীনতার পর ফকির আলমগীর পপ ঘরানার গানে যুক্ত হন। পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে বাংলার লোকজ সুরের সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি বহু গান করেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার গাওয়া  ‘ও সখিনা’, ‘সান্তাহার জংশনে দেখা’, ‘বনমালী তুমি’, ‘কালো কালো মানুষের দেশে’, ‘মায়ের একধার দুধের দাম’, ‘আহা রে কাল্লু মাতব্বর’-সহ বেশ কিছু গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এর মধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছিলেন ফকির আলমগীর।

গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এই শিল্পী। ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান’, ‘গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান’, ‘আমার কথা’, ‘যারা আছেন হৃদয় পটে’সহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছে তার। তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা। এ ছাড়া বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি, জনসংযোগ সমিতির সদস্যসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশের গণসংগীতে অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে ফকির আলমগীর একুশে পদক পান। এছাড়াও ‘শেরেবাংলা পদক’, ‘ভাসানী পদক’, ‘সিকোয়েন্স অ্যাওয়ার্ড অব অনার’, ‘তর্কবাগীশ স্বর্ণপদক’, ‘জসীমউদ্‌দীন স্বর্ণপদক’, ‘কান্তকবি পদক’, ‘গণনাট্য পুরস্কার’, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক মহাসম্মাননা’, ‘ত্রিপুরা সংস্কৃতি সমন্বয় পুরস্কার’, ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড যুক্তরাষ্ট্র’, ‘জনসংযোগ সমিতি বিশেষ সম্মাননা’, ‘চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড বিশেষ সম্মাননা’ ও ‘বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ’ পুরস্কারে তাকে ভূষিত করা হয়।

ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে বাংলাদেশের গণসঙ্গীতে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। গণমানুষের শিল্পী হিসেবে তিনি আজীবন বেঁচে থাকবেন আমাদের হৃদয়ে।

দৈনিক সত্যের সকাল/ জোবায়ের (নোবিপ্রবি)

পূর্ববর্তী খবরহতাশ করলেন আব্দুল্লাহ হেল বাকিও
পরবর্তী খবরযুদ্ধের জন্য মার্কিন সেনা প্রয়োজন নেই: ইরাকি প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Reply