30 C
Dhaka
Wednesday, August 17, 2022

বগুড়ায় যমজ ২ বোনের মেডিকেলে চান্স পাওয়ার গল্প

আঁখি ও আলো। একই বৃন্তে দুটি ফুল। বেড়ে উঠাও তাদের একসাথে। একজন হতে চেয়েছিলেন শিক্ষক, অন্যজন আইনজীবী। কিন্তু ভাগ্য বিধাতা যেন তা মানতে নারাজ। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে তারা গেলেন সরকারি আজিজুল হক কলেজে। সেখান থেকে তারা দুজন উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করলেও এবার তাদের আলাদা স্বপ্নের পরির্বতন ঘটলো। দুজনেই প্রস্তুতি নিলেন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জন্য। অবশেষে চান্সও পেলেন তারা।

বলছিলাম বগুড়ার খান্দার এলাকার অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুস সোবহান ও তাসকিনা নাছরীনের যমজ মেয়ে ফারিয়া আঞ্জুম আঁখি ও জেরিন আঞ্জুম আলোর কথা। তারা ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।

বড় বোন আঁখি ৮৩ নম্বর পেয়ে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে এবং আলো ৭৮.২৫ পেয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছেন। আঁখি ও আলোর মা তাছকিনা নাছরিন একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা।

দুই মেয়ের এমন সাফল্যে তিনি বলেন, ‘আমার চার ছেলেমেয়েই এখন ডাক্তারি পড়ছে। এটা অনেক বড় পাওয়া। মহান এই পেশার মাধ্যমে মানুষের সেবা করবে আমার চার সন্তান। বাবা মা’র কাছে এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে! ওরা সবাই যেন মানবিক ডাক্তার হয় এটিই আমার চাওয়া।

আঁখি আমাদের কোন বেস্ট ফ্রেন্ড নেই। আমরাই আমাদের খুব ভালো বন্ধু। তাই সবকিছু একসাথে করতাম। দুজনে স্কুলে যাওয়া, পড়া, খাওয়া, আড্ডা সবকিছুই একসাথে করতাম। আমাদের দুজনের এতো মিল ছিল যে একবার ক্লাস রোলও এক হয়ে গেল। তখন আমরা ক্লাস সেভেনে পড়ি। সেবার আমার রোল এক এবং আলোর রোল ও এক হয়ে যায়। তবে সেকশন আলাদা ছিল। আমি যে বিষয়টা না পারতাম সেটা আলো বলে দিত, আলো কোন কিছু না পারলে সেটা আমি বলে দিতাম। এভাবে দু’বোন সুন্দর ভাবে পড়াশোনা করেছি।

আলো বলেন, আমরা দু’বোন সারাক্ষণ পড়াশোনা করিনি। তবে যে সময়টুকু পড়েছি খুব মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেছি। এডমিশন পরীক্ষার আগে দিনে ৭-৮ ঘন্টা নিয়মিত পড়েছি। এত সময় পড়ার ফলে খারাপ লাগা কাজ করতো। তখন দু’জন ছাদে হাঁটতাম, গল্প করতাম কখনো ম্যাগাজিন গল্পের বই পড়তাম। তারপর এসে আবার পড়তে বসতাম। আর আমরা ছোটবেলা থেকেই পড়তে অনেক ভালোবাসতাম। পড়াশোনার পাশাপাশি বিতর্ক, রচনা লেখা ছাড়াও মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতাম। তবে আমি গেমস খেলতে পছন্দ করি।

মেডিকেল ভর্তির জন্য প্রস্তুতির বিষয়ে আঁখি বলেন, মেডিকেলে প্রস্তুতির জন্য মুল বইটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যে মুল বইটা ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারবে ইনশাআল্লাহ সে ভালো কিছু করবে। আমরা দুই বোন মুল বইগুলো খুব ভালোভাবে পড়েছি। সেইসাথে বাংলা ব্যাকরণ (বোর্ড বই) ,বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় (বোর্ড বই), বিভিন্ন কোচিং এর চটি বই ইত্যাদি পড়তে হবে। এছাড়া আমার কাছে মনে হয় মূল বই ভালোভাবে পড়া এবং বেশি বেশি প্রশ্নপত্র সমাধান করার বিকল্প নেই।

মেডিকেল ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় অনুভূতি জানতে চাইলে আঁখি বলেন, আমি আশাবাদী ছিলাম যে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য হবো। যখন রেজাল্ট দেখলাম তখন অনেক খুশী হয়েছি। আমি পরীক্ষার সময় অনেক নার্ভাস ছিলাম। পরে মাথায় পানি দিয়ে এসে পরীক্ষা দিয়েছিলাম। তারপরও ভাল পরীক্ষা হয়েছিল। সব সময় আমাদের দুই বোনের সিট এক জায়গায় ছিল। শুধু মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় এসে দুজনের সিট পড়ে আলাদা আলাদা কেন্দ্রে।

ভবিষ্যৎ এই পেশার মাধ্যমে কি করবে প্রশ্ন করলে আলো বলেন, সবার কাছে দোয়া চাই যেন ভাল মানুষ হতে পারি। আঁখি বলেন, ভাল মানুষ হতে চাই। যাই করি না কেন তা যেন মানুষের উপকারে আসে।সবশেষে আঁখি ও আলো দুইজনই তাদের সাফল্যের পেছনে তাদের বাবা-মায়ের অবদানকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। এছাড়া ছোটবেলা থেকেই গাইডলাইন দেয়া মেডিকেল পড়ুয়া এক বড় ভাইয়ের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তার। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষক, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Leave a Reply

লেখক থেকে আরো