20 C
Dhaka
Thursday, February 2, 2023

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথে থাকছে তিনটি জংশন

দুই জেলার বহু কাঙ্ক্ষিত বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি বেড়েছে। রেলপথ নির্মাণে স্থানগুলো পরিদর্শন শেষে তিনটি রেল জংশন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বগুড়ার কাহালু উপজেলায় একটি, বগুড়া সদর রেলওয়ে স্টেশনে একটি ও অপর একটি জংশন নির্মাণ করা হবে শাজহানপুর উপজেলার রানীরহাটে। তিনটি জংশন নির্মাণ এবং রেলপথ তৈরি হলে ঢাকার সঙ্গে বগুড়ার যোগাযোগে ১১২ কিলোমিটার সড়ক কমে আসবে।

জানা যায়, বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। এই দুই জেলার মধ্যে সরাসরি রেল পথ না থাকায় উত্তরাঞ্চলের ট্রেনগুলোকে যাত্রী ও কৃষিপণ্য নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বর্তমানে বগুড়ার সান্তাহার জংশন হয়ে, নাটোর, পাবনা, ঈশ্বরদী, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া হয়ে যমুনা নদীর উপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুতে পৌঁছাতে হয়। শুধুমাত্র বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে তিনটি জেলার পথ ঘুরে বঙ্গবন্ধু সেতুতে পৌঁছাতে সময় লেগে যায় প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘন্টা। আর প্রায় ৪০৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৮ থেকে ৯ ঘন্টা। আর সড়ক পথে ২০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বাসে করে ঢাকা যেতে সময় লাগে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা।

বগুড়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুতে সরাসরি ট্রেনযোগে পৌঁছাতে সময়ে লাগবে ১ ঘণ্টা থেকে সোয়া ১ ঘণ্টা। বাসে করে ঢাকায় যেতে ২০০ কিলোমিটার ও ট্রেনে করে পাড়ি দিতে হয় ৪০৫ কিলোমিটার। বগুড়া থেকে সরাসরি বঙ্গবন্ধু সেতুতে ট্রেন সার্ভিস চালু হলে বগুড়াসহ উত্তরের জেলার ট্রেন যাত্রীদের ১১২ কিলোমিটার পথ কমে আসবে। সেই সাথে খরচ কমে গিয়ে উত্তরের ট্রেন যাত্রীদের আর্থিকভাবে সাশ্রয় হবে। এছাড়া সড়ক পথ হয়ে বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, গাইবান্ধা, রংপুর, নীলফামারি, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট কুড়িগ্রাম জেলার ঢাকাগামীরা যাতায়াত করে। এ কারণে সড়ক ও রেলপথে সব সময় যানজট লেগেই থাকে। যানজটের কারণে ঢাকা পৌঁছাতে হয় নানা দুর্ভোগ নিয়ে। এই দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জসহ উত্তরের বাসিন্দারা রেলপথ নির্মাণের দাবি তোলেন। এই পথটি নির্মাণ হলে উত্তরের ১০ জেলায় আর্থিকগতি আরও বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টায় ঢাকায় যাওয়া সম্ভব হবে।

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় দু’টি রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা হবে। একটি হলো- বগুড়া স্টেশন থেকে ২ হাজার ৬০০ ফুট পশ্চিমে অবস্থিত বগুড়া শহরের রেল লাইল পর্যন্ত। এরপর বগুড়া রেল লাইল থেকে সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুর এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার এবং অপরটি হলো বগুড়ার কাহালু স্টেশন থেকে রাণীরহাট পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার রেলপথ। এজন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। তবে প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি যেহেতু চালু রয়েছে সেহেতু ব্যয় এখনই বলা যাচ্ছে না। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণের জন্য তিনটি জংশনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বগুড়ার কাহালু উপজেলায় একটি, বগুড়া সদর রেলওয়ে স্টেশনে একটি ও অপর একটি জংশন নির্মাণ করা হবে শাজহানপুর উপজেলার রানীরহাট নামক স্থানে। তিনটি জংশন নির্মাণের মধ্যে দিয়ে পূর্ণতা পাবে বগুড়া-সরিাজগঞ্জ রেলওয়ে পথ। প্রকল্প মোতাবেক নতুন ওই রেলপথে জংশন ছাড়াও আরও ৭টি স্টেশন স্থাপন করা হবে। এগুলো হলো- রাণীরহাট, আড়িয়াবাজার, শেরপুর, চান্দাইকোনা, রায়গঞ্জ, কৃষাণদিয়া ও সদানন্দপুর। প্রস্তাবিত ৮৪ কিলোমিটার রেলপথের জন্য মোট ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ার সীমানায় ৫২ কিলোমিটার রেলপথের জন্য ৫১০ একর এবং সিরাজগঞ্জ অংশের ৩২ কিলোমিটার অংশের জন্য প্রয়োজন আরও ৪৫০ একর জমি।

এদিকে, বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ডুয়েল গেজ ডাবল-ট্র্যাকের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুটি হবে দেশের সবচেয়ে বড় রেল সেতু। সেতুটি দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। মোট ৫০টি পিলারের মধ্যে ৩৪টির কাজ চলছে। গত ২ সেপ্টেম্বর সেতুর পূর্ব প্রান্তে ৪৭ ও ৪৮ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হয় প্রথম সুপার স্ট্রাকচার স্টিল স্প্যান। সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল অংশে নদীর দুই পাড়ে দুটি প্যাকেজে দেশি-বিদেশি কর্মী প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে সেতুটির নির্মাণ কাজ চলছে। ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু রেল সেতুটির নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করছে জাইকা।

রেলওয়ে বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ৯ এপ্রিল সিরাজগঞ্জে এবং ২০১৫ সালে বগুড়ায় দলীয় এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ রেলপথ উপহার দেওয়ার ঘোষণা করেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টারের কার্যালয় থেকে জানা যায়, বর্তমানে বগুড়া থেকে রেলযাত্রীরা নওগাঁ সীমানা হয়ে নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ হয়ে ঢাকা যাচ্ছে। আর বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ নতুন রেলপথ নির্মাণ হলে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে ঢাকায় পৌঁছে যেতে পারবে আগের থেকে কম সময়ে ও কম খরচে। এতে করে যাত্রী সংখ্যাও বাড়বে এবং কৃষিপণ্য সহজে পরিবহনসহ ব্যবসার প্রসারতা বাড়বে।

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম ফিরোজ জানান, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ হলে ১১২ কিলোমিটার পথ কমে আসবে। বগুড়াসহ উত্তরের মানুষের উন্নয়ন তো অবশ্যই হবে। রেলপথটি নির্মাণের জন্য বগুড়া এলাকায় তিনটি জংশন করা হচ্ছে। টেন্ডার প্রক্রিয়াসহ প্রকল্পের সকল কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল কাজ শেষ করা হবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Leave a Reply

লেখক থেকে আরো