বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ

বাংলার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতার স্বপ্ন দ্রষ্টা, অবিসাংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরছি আমি নাজমুল হোসেন।

বঙ্গবন্ধু আমার কাছে একজন জীবনের থেকেও বড় ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবনদর্শন আমাকে সবসময় প্রভাবিত করেছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পিছনে অনেকের সম্মিলিত চেষ্টা থাকলেও, বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে।

একটা কথা আমাকে সব সময় ভাবায়, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আজ বাংলাদেশে কোন অবস্থানে থাকতো! দেশের এবং দেশের মানুষের প্রতি তার ছিল নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল যে দেশের মানুষকে তিনি নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসলেন, তাদের হাতেই তাকে অমানবিকভাবে মৃত্যুবরণ করতে হলো। আমাদের সকলের উচিত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সত্যিকার অর্থে মনে ধারণ করে সোনার বাংলাদেশ গড়ে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর ঋণ শোধ করা।

— সেতু কর্মকার, রসায়ন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

শেখ মুজিব মানেই বাংলাদেশ….. শোনো, একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি, প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে ওঠে রণি।

বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ।। বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ হচ্ছে একই শব্দের প্রতিশব্দ। যেমন বঙ্গবন্ধু না আসলে এদেশে মুক্তিযুদ্ধের সূত্রপাত হতো না। তেমনি মুক্তিযুদ্ধ না হলে এদেশ স্বাধীনতার স্বাধ পেতো না এবং সৃষ্টিই হতো না একটি স্বাধীন বাংলাদেশের।

সর্ব প্রথম মুসলিম লীগের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতির পথে যাত্রা। সেই থেকে ধীরে ধীরে তিনি হয়ে উঠেন পূর্ব বাংলার অসাম্প্রদায়িক ও গণতন্ত্রের প্রাণপুরুষ।

মুক্তির সনদ নামে পরিচিত ৬ দফা থেকে শুরু করে ৭ই মার্চের ১৮ মিনিটের ভাষণ, স্বাধীনতার ঘোষণা, স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার সংগ্রাম সবই পরিচালনা করেছেন শেখ মুজিবুর রহমান অসীম দক্ষতা ও যোগ্যতায়।মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার মতো অসাধারণ বজ্রকন্ঠ ছিলো তার।সাধারণ জনগণের প্রতি অগাদ ও অসীম ভালোবাসা, অকৃত্রিম দেশপ্রেম, অমায়িক ব্যক্তিত্ব, উপস্থিত বুদ্ধি তাকে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতায় পরিনত করেছে। তার হাত ধরেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো।

মুক্তিযুদ্ধে তার অতুলনীয় অবদানের জন্য জাতি তাকে “ জাতির জনক” উপাধি দিয়েছিলেন। সমস্ত জাতিকে তিনি মুক্তি ও স্বাধীনতার চেতনায় ঐক্যবদ্ধ ও উদ্বুদ্ধ করেছেন। তার আত্মত্যাগ জাতিকে মহান মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। তাই আজও তিনি দেশপ্রেমিক প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে চির অম্লান হয়ে রয়েছেন।

কবি অন্নদাশঙ্কর রায়ের ভাষায় বলতে হয়- যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।

— সুরাইয়া আক্তার, রাত্রী ইতিহাস বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

বঙ্গবন্ধু’ শব্দটা কেবল একটা নাম নয়, এটি বাঙালি জাতির একটি গর্বের প্রতীক।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শৈশব থেকেই ছিলেন দুর্দান্ত, সাহসী, উদ্যমী এবং সত্যের পথে বিনয়ী।

বাল্যকাল থেকেই তিনি ছিলেন মানব দরদী।তাঁর রাজনৈতিক জীবনের হাতেখড়ি মুলত স্কুল জীবন থেকেই। ১৯৩৯ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল পরিদর্শনে আসলে উক্ত স্কুলের ছাদ দিয়ে পানি পড়া বন্ধ করতে ছাদ মেরামতের দাবি তোলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

সেই দাবি তোলার বিষয়টা তাঁকে প্রভাবিত করে তোলে তাঁর ব্যক্তি জীবনে। একটা সময় সে নিজের কাঁধে তুলে নেয় বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে ঠাঁই মেলানোর।

তাঁর এ প্রচেষ্টার সফলতার হাত ধরেই আজ আমরা একটি স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক। বিশ্ব মানচিত্রে যখন বাঙালির আশ্রয় নিয়ে দুই দেশের মানুষের মধ্যে টানাহেঁচড়ার সাক্ষী পুরো পৃথিবী, ঠিক তখনই পূর্ব পাকিস্তানের নায়ক হয়ে দেশকে রক্ষার দায়িত্ব নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে বেশ কয়েকটি সংগঠন গড়ে তোলেন। তাঁর এ প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে ঠাঁই পেল ‘বাংলাদেশ’ নামের ছোট্ট একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। দূর হলো বাঙালির জাতির প্রতি অনাচার। যেন, গভীর তিমির রজনীর পর উদয় হলো এক নতুন সূর্য। আর এ সূর্যেরই প্রতিফলন হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করার পূর্বের যে কালো অধ্যায়ের সাক্ষী বাঙালি জাতি, সেই কালো অধ্যায়টার পরবর্তীতে সোনালী সূর্য ফুটিয়ে তোলার সাক্ষী পুরো পৃথিবী।

বাঙালির কথা বলতেই যে নামটা চোখের কোণায় জ্বল জ্বল করে ওঠে, সেই নামটা হলো শেখ মুজিবুর রহমান। যে মানুষটার অবদানের প্রতিফলন এই বাঙালি জাতি, সেই মানুষটা আজ আমাদের মধ্যে নেই। ‘নেই’, শব্দটা নিতান্তই নিছক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে রয়েছে। তাঁর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় এই স্বাধীন বাংলার মুক্ত আকাশের অঙ্গ জুড়ে, ধানের মাঠে ঢেউ খেলানো উদাসী বাতাসে, সে বেঁচে রয়েছে আঠারো কোটি জনতার হৃদয়ে।

শিরিন আক্তার পুষ্প, বাংলা বিভাগ ইডেন মহিলা কলেজ

পূর্ববর্তী খবরপুরো শহর তালেবানের দখলে
পরবর্তী খবরচৌদ্দগ্রামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উদযাপন

Leave a Reply