বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল বিভাগের বেদখল জায়গা উদ্ধারের পরিকল্পনা।

Image Collection : - Google

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল বিভাগের বেদখল জায়গা উদ্ধারের পরিকল্পনা।

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার ও রক্ষায় বৃহৎ মাস্টার প্ল্যান হাতে নিয়েছে ভূ-সম্পত্তি বিভাগ। চলতি ডিসেম্বর মাস থেকে লাগাতার এই উচ্ছেদ অভিযান চলবে।

পূর্বাঞ্চলের ভূ-সম্পত্তির তথ্য বলছে, রেলওয়ের ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের আওতায় রয়েছে ৩১ হাজার ৭০০ একর জমি। ঢাকায় ২৪ হাজার একর আর চট্টগ্রামে ৭ হাজার ৭০০ একর জমি। দুই বিভাগে রেলের অপারেশনাল কাজে ব্যবহার হচ্ছে ১০ হাজার একর জমি। বেদখলে আছে দুই হাজার একর। বাকি জমির কোথাও কোথাও চলছে উন্নয়ন। আবার কোথাও দেয়া আছে লিজ।

রেল সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বিভাগের দোহাজারী থেকে আখাউড়া পর্যন্ত রেলের ভূমির পরিমাণ ৭ হাজার ৭০০ একর। যার মধ্যে অপারেশনাল (কাউন্টার, রেল লাইন, অফিস) কাজে ব্যবহার হচ্ছে আড়াই হাজার একর। অবৈধ দখলে আছে ৬ শ একর জমি। বাকি জমি ব্যবহার হচ্ছে রেলের কোয়াটার ও লিজের মাধ্যমে। চট্টগ্রামে রেলের জমি ব্যবহারে লাইসেন্স আছে প্রায় ৭ হাজার। তবে জমি লিজ দিয়ে রেল সম্পদ আহরণ করলেও বঞ্চিত হচ্ছে অবৈধ দখল হওয়া জমি থেকে। শুধুমাত্র চট্টগ্রাম শহরেই বেদখলে আছে রেলের প্রায় ২০ একর জমি। সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এ ২০ একর জমির আনুমানিক মূল্য হাজার কোটি টাকা। একইভাবে, শুধুমাত্র ঢাকা শহরে অবৈধ দখলে রয়েছে রেলের প্রায় ৫০ একর জমি। যার আনুমানিক মূল্য চার হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে পুরো ঢাকা বিভাগে (আখাউড়া-সিলেট) অবৈধ দখলে রয়েছে ১৪শ একর জমি। এসব জমিতে জমিদারি করে শত শত কোটি টাকা আয় করছেন দখলদাররা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের এক কর্মকর্তা পূর্বকোণকে বলেন, ‘রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের দুই বিভাগে এখনও বেদখলে আছে প্রায় ২ হাজার একর জমি। যেগুলোতে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। শুধুমাত্র ঢাকা-চট্টগ্রাম দুই শহরে বেদখলে আছে ৫ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের জমি। পুরো পূর্বাঞ্চলে বেদখলে থাকা জমির মূল্য নির্ধারণ করলে তার পরিমাণ দাঁড়াবে অর্ধ লাখ কোটিতে। যা দিয়ে পুরো রেলের বাজেট তৈরি করা সম্ভব’।

চট্টগ্রাম শহরে কোথায় রেলের জমি বেদখলে আছে তার অনুসন্ধানে দেখা যায়, এখনও নগরীর আমবাগান, সেগুন বাগান, এক্সইএন কলোনি, ষোলশহর স্টেশন এলাকা, কদমতলী এসআরবি, আগ্রাবাদ জোড় ডেবা ও পাহাড়তলীসহ বেশ কয়েকটি এলকা। যেখানে রেলের ভূমি দখলে নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বসতি ও কলোনি। এসব স্থানে দখলে থাকা জমির মূল্যই প্রায় হাজার কোটি টাকা।

এদিকে, বেদখলে থাকা এসব জমি উদ্ধারে রেল প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করলেও স্থায়ীভাবে মিলছে না সমাধান। উদ্ধার হওয়া জায়গা রক্ষায় বরাবরই উদাসহীনতার পরিচয় দিয়েছে রেল। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে রেলের কর্মচারী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহল। উচ্ছেদ হওয়া জমি রক্ষায় রেলের মাস্টার প্ল্যান করার কথা থাকলেও এমন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি তাদের। যার বদৌলতে রেলের জমি দখলে নিয়ে আবাসন তৈরি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি মহল।

বেদখলে থাকা বিশাল এ জমি দখলে নিতে এরই মধ্যে বৃহৎ মাস্টার প্ল্যান হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর করিম। তিনি বলেন, ‘লোকবল সংকট ও করোনার কারণে এতদিন উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ ছিল। কিন্তু এরইমধ্যে আমরা আবারও উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছি। ডিসেম্বরে বড় পরিসরে উচ্ছেদে নামব। আমাদের টার্গেট হল রেলের জায়গা দখলমুক্ত করা। এমনকি পরবর্তীতেও যাতে কেউ উদ্ধার হওয়া জমি দখলে নিতে না পারে সেজন্য মাস্টার প্ল্যান করা হচ্ছে। অতিসম্প্রতি আমিন জুট মিল এলাকায় রেলের যে জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে তা রক্ষায় মন্ত্রণালয়ে মাস্টার প্ল্যান পাঠানো হয়েছে। যা প্রতিটি উচ্ছেদের পর চলমান থাকবে’।
অবৈধ দখলে থাকা রেলওয়ের এসব জায়গা উদ্ধার করে উন্নয়ন মূলক কাজে লাগাতে পারলে রেলওয়ের আয় বাড়বে বলে মনে করেন এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন রেলওয়ের অসাধু কিছু কর্মকর্তার কারণে প্রায় সময় উদ্ধার অভিযান ব‍্যাহত হয়।

পূর্ববর্তী খবরইট ভাটা গুলোতে শিশু শ্রমিকেরর সংখ্যা বেশী !
পরবর্তী খবরহাকিমপুরে বিশ্ব এইডস দিবস পালিত।

Leave a Reply