বিএনপি জেগে উঠছে : মির্জা ফখরুল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের তত্ত্বাবধায়নে নতুন করে বিএনপিকে সাজানো হচ্ছে, নতুন কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এতে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সৃষ্টি হয়েছে। আর সেজন্যই আজ তাদের (আওয়ামী লীগের) হৃদ কম্পন অনুভূত হয়েছে। এখন তারা ভয় পেয়েছে, কাঁপছে। তারা বিএনপির ওপর চড়াও হয়ে আক্রমণ করছে। ঘরে ঘরে গিয়ে পুলিশি আক্রমণ চলছে, হয়রানি করছে, তল্লাশি চলছে। কেন হচ্ছে, কারণ কি? কারণ, বিএনপি জেগে উঠছে।

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে বিএনপির ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আয়োজিত করোনা ও ডেঙ্গু হেল্প সেন্টারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা তৈরি করতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে, সুচারুভাবে সংবিধান কেটেকুটে তারা নিজেদের মতো করে নিয়েছে। পরে সমস্ত প্রশাসন, বিচার বিভাগ, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সবাইকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসে দলীয়করণ করেছে। আজ আমাদের যে গণমাধ্যম আছে, তাদেরও তারা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। গতকালের পত্র-পত্রিকাগুলো দেখলে আপনারা বুঝতে পারবেন তারা কিভাবে দেশের গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে আমরা যে যুদ্ধ করেছিলাম, সেই যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। জনগণের জানমালের জীবিকা দেওয়ার একটা কথা ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে এ আওয়ামী লীগের হাতে সেদিনও তা বিনষ্ট হয়েছিল। আজও গত ১৪ বছরে তারা বাংলাদেশের সমস্ত অর্জনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বাংলাদেশ তারা একটি অকার্যকর ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করছে।

নেতার কথা বলেন ওবায়দুল কাদের সাহেব। নেতা হচ্ছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি এদেশের দীর্ঘ নয় বছর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারকে পরাজিত করে দেশের জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এখনো গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে তিনি গৃহবন্দি হয়ে আছেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে বেআইনিভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে। আজ আমাদের সারাদেশে বিএনপির ৩৫ লক্ষাধিক মানুষের ওপর মামলা রয়েছে। আমাদের পাঁচ শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের থানায় ধরে নিয়ে তাদের পায়ে গুলি করা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা কিন্তু ভুলে যাইনি সেসব কথা।

স্পষ্ট করে বলতে চাই, পৃথিবীতে কোনো স্বৈরাচার, কোনো এক নায়ক, কোনো ফ্যাসিবাদী শাসক বা কোনো অত্যাচারী শাসক কোনোদিনই টিকে থাকতে পারে নাই। জনতার উত্তাল রেশের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। তখন আর তাদের খুঁজে পাওয়া যায় নাই।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেয়ালের লেখাগুলো পড়ুন, মানুষের মনের কথা বোঝার চেষ্টা করুন। এখনো সময় আছে, পদত্যাগ করেন আপনাদের ব্যর্থতার জন্য। সংবিধানকে লঙ্ঘন করে আপনারা যে অন্যায় করেছেন সেটার জন্য পদত্যাগ করুন। আপনারা জনগণের ভোট আগের রাতে নিয়ে যে অন্যায় করেছেন সেখান থেকে যদি পরিত্রাণ পেতে চান তাহলে অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। অন্যথায় পালাবার পথ খুঁজে পাবেন না।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম প্রমুখ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, এই মুহূর্তে দরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন করবেন, আমরা তা মানি না। এই সরকারকে রেখে কোনো নির্বাচন করা যাবে না। সুতরাং জনগণের দাবি মেনে নিয়ে পদত্যাগ করুন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন, নিজেদের ভালো রাখুন। নইলে দেশে যে এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, তার দায়-দায়িত্ব আপনারা বহন করবেন।

পূর্ববর্তী খবরঢাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১ অক্টোবর
পরবর্তী খবরইভ্যালি-ধামাকাসহ ৪ প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ স্থগিত করল ইক্যাব

Leave a Reply