বিধিনিষেধ মানতে নারাজ খুলনা নগরবাসী; একদিনে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৭১ জন

শুক্রবার খুলনার বিভিন্ন এলাকায় বিধি নিষেধ অমান্য করে অধিকাংশ নগরবাসীদের অবাধ চলাচল করতে দেখা যায়। প্রতিদিনই শোনা যাচ্ছে বুকফাটা কান্না আর স্বজন হারানোর আর্তনাদ। প্রতিদিনই এমন চিত্র নগরীর সরকারি ও বেসরকারি করোনা হাসপাতালের।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র মতে, শনিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই ২৪ ঘন্টায় খুলনা বিভাগে ৯ জেলায় ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে খুলনাতে ২৩ জনের। একের পর এক রেকর্ড ভাঙ্গছে করোনার মৃত্যুতে। মৃত্যুতে শীর্ষে রয়েছে খুলনা, শনাক্তে শীর্ষে যশোরে। বিভাগে ১০ জেলায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয় ১ হাজার ৬৫৬ জন।

জানা যায়, খুলনা মেডিকেল কলেজ পিসিআর ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩০১ জন খুলনা মহানগর ও জেলার। এদের মধ্যে ১১০ জনের করোনা পজেটিভ এসেছে।

 

এদিকে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে খুলনা নগরীর খুলনা সদর, সোনাডাঙ্গা, গল্লামারী, পাওয়ার হাউজ মোড়, ডাকবাংলা ও রূপসা এলাকায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও তা’ মানতে অনীহা দেখা গেছে। শুক্রবার সকাল থেকে সোনাডাঙ্গা, গল্লামারী, ময়লাপোতা ফেরিঘাট খালিশপুরে স্বাভাবিকভাবে দোকানপাট খোলা ছিল। বিকালের দিকে এইসব এলাকায় বিভিন্ন বয়সী মানুষের অবাধ আড্ডা দেখা যায়। এসব স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মানা, সামাজিক দূরত্ব বা মাস্কের ব্যবহার নেই। নগরীর বিভিন্ন স্থানে চায়ের দোকানও খোলা রয়েছে। সেখানে সাধারণ মানুষকে জড়ো হতে দেখা যায়।

বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে রূপসা ও গল্লামারী মোড়ের চিত্র ছিল প্রতিদিনের মতোই। এই ক্ষেত্রে কোন নিয়মই মানছে না নগরবাসী। থাকছে না শারীরিক দূরত্ব, উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি।

তবে সকাল থেকে নগরীর সড়কে পুলিশ ও র‌্যাবের উপস্থিতি ছিল। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়েছে প্রশাসন। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সাত জনকে জরিমানা করে র‌্যাব।

জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জরুরি সেবা ব্যতিত এই সময়ে মধ্যে ওইসব এলাকার সকল দোকানপাট, মার্কেট, শপিং মল বন্ধ থাকবে। কাঁচাবাজার ও নিত্য প্রয়োজনীয় মুদি দোকান বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। তবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার ও তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ওষুধের দোকান সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে এবং হোটেল রেস্তোরাঁগুলো প্যাকেজজাত খাবার সরবরাহ করতে পারবে। সন্ধ্যার পর রাস্তার মোড়ে বা কোন স্থানে একের অধিক কেউ অবস্থান করতে পারবে না বা একসঙ্গে চলাফেরা করা যাবে না।

প্রতিবেদন : ফারিয়া পিংকি
ভিডিও এবং ছবি: আহাদ শিকদার।

পূর্ববর্তী খবরকুবিতে সুশান্ত পালের সাথে ক্যারিয়ার বিষয়ক ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত
পরবর্তী খবরবাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন পিটার হাস

Leave a Reply