বিশ্ববিদ্যালয়ে সিজিপিএ-৪ আউট অব ৪ পাওয়া অসম্ভব কিছু না

বিশ্ববিদ্যালয়ে সিজিপিএ-৪ আউট অব ৪ পাওয়া অসম্ভব কিছু না
সজীব আহমেদ

জোবায়ের আনসারী, নোবিপ্রবিঃ- গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের টেংরাখোলার মিঞাবাড়ির এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম সজীব আহমেদের। গ্রামের অন্য কিশোরদের মতোই দুরন্তপনায় কেটেছে তার শৈশব। শিক্ষাজীবনের প্রারম্ভে নিজের মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে মফস্বলের স্কুল ও কলেজ থেকে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে পান জিপিএ-৫। পরে ভর্তি হন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগে। বিভাগটির দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেখানেও কৃত্বিত্বের স্বাক্ষর রাখেন সজীব। ভালো ফলাফলের সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করেন। নিয়মিত পড়াশোনা করে স্নাতকের ফলাফলে সিজিপিএ ৩.৮৮ পেয়ে ২য় স্থান অধিকার করেন তিনি। স্নাতকের ফলাফল ও শিক্ষকদের উৎসাহ নিজের প্রতি নিজের আস্থাকে বহু গুণ বাড়িয়ে দেন। স্নাতকোত্তরে আরো বড় সাফল্যের স্বপ্ন দেখতে থাকেন সজীব। নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে বিভাগের প্রথম ও একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে স্নাতকোত্তরে ফোর আউট অব ফোর পাওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। শুধু পড়াশোনা নয়, এক্সট্রা কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসেও ছিল তার অংশগ্রহণ।

সজীব আহমেদ বলেন, অনেকেই মনে করে সিজিপিএ বাড়াতে হলে সারা দিন পড়াশোনা করতে হবে। এ ধারণাটি সত্য নয়। পড়াশোনার পাশাপাশি আমি বিভাগের ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল দলের নেতৃত্ব দিয়েছি, এমনকি বিশ্বিবিদ্যালয়ের ভলিবল দলেরও অধিনায়কত্ব করেছি। এ ছাড়া বিভাগ আয়োজিত দেয়ালিকা, ফেয়ারওয়েল, অলিম্পিয়াডসহ অধিকাংশ কাজে অংশগ্রহণ করেছি। এসবের পরও সিজিপিএ ধরে রাখতে পেরেছি। আমার মতে সিজিপিএ বাড়ানোর সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো নিজের হ্যান্ডনোট নিজে তৈরি করা। এর পাশাপাশি দৈনিক মনোযোগের সাথে ক্লাস করা, ক্লাসনোট নেওয়া আর পরীক্ষার খাতায় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা। যাদের পড়া মুখস্থ হয় না তাদের জন্য আমার পরামর্শ হলো, কাঙ্ক্ষিত প্রশ্নটি দেখে দেখে এক বা দুইবার লেখা, আশা করি আয়ত্ত হয়ে যাবে। সত্যি বলতে সিজিপিএ ফোর আউট অব ফোর অসম্ভব কিছু না। পরিকল্পনামাফিক পরিশ্রম করলে সব সম্ভব। তিনি বলেন, ভালো সিজিপিএ গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায় এবং যেকোনো ধরনের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখে। আর অ্যাডিশনাল অ্যাচিভমেন্ট, পাবলিকেশন বা যেকোনো ধরনের স্কিল উন্নত করার সুযোগ গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পরেও থাকে কিন্তু একবার পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলে আপনি আর সিজিপিএ বাড়ানোর সুযোগ পাবেন না। তবে তার মানে এই না যে আপনাকে অতিরিক্ত অর্জনে বিমুখ করছি। শুধু বলতে চাচ্ছি সিজিপিএ-কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বাকি সব করবেন। 

সজীবের জীবনে অনুপ্রেরণা তার পরিবার ও শিক্ষকরা। তিনি বলেন, আমার পরিবার এবং আমার শিক্ষকরা আমাকে স্বপ্ন দেখানোর পাশাপাশি তা বাস্তবায়ন করতে প্রতিনিয়ত সহযোগিতা করেছেন। শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতার হাত ধরে ইচ্ছা আছে বিশ্বের নামকরা কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করার, যা দেশের উচ্চশিক্ষার প্রসারে সাহায্য করবে।

সজীব আহমেদ আরো বলেন, নতুন বিভাগ হওয়ায় শুরু থেকে শিক্ষকস্বল্পতা ও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাবের কারণে  সেশনজট ছিল। এত সব সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও শিক্ষকরা সব সময়ই আমাদের প্রতি যত্নশীল ছিলেন, যা আমাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে। বর্তমানে আমাদের বিভাগে ৯টি ব্যাচ রয়েছে। বিভাগের ৯ বছরে অনেক কিছুরই উন্নতি হয়েছে, বেড়েছে শিক্ষকসংখ্যা, বিভাগ পেয়েছে নিজ একাডেমিক ফ্লোর ও ল্যাবরেটরি।

পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেও এখনো নিজের বিভাগের কারিকুলামকে নিজের ভেতর ধারণ করি, বিভাগকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি আর বিশ্বাস করি বিভাগের সব সমস্যা কেটে যাবে আমাদের শিক্ষক ও স্টাফদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর আন্তরিকতার মধ্য দিয়ে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ বেদনায় সংকটে উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন দৈনিক সত্যের সকালে।আজই পাঠিয়ে দিন sottersokal@gmail.com

পূর্ববর্তী খবরশিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিনের জন্য রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালু করল ইউজিসি
পরবর্তী খবরপ্রেমিকার শ্বশুরবাড়িতে দেখা করতে গিয়ে বেরসিক জনতার হাতে ধরা প্রেমিক

Leave a Reply