বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জন্মদিন আজ

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের আজ জন্মদিন। ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরোনো ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তবে তার পৈতৃক নিবাস নরসিংদীতে। বাবা মৌলভী আবদুস সামাদ, তার মা সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন।  

মুক্তিযুদ্ধে মতিউরের অসম সাহসিকতার জন্য তিনি সর্বোচ্চ জাতীয় খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

১৯৬১ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দেন তিনি। ১৯৬৩ সালে রিসালপুর পিএএফ কলেজ থেকে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। কমিশনপ্রাপ্তির পর তিনি করাচির মৌরিপুর (বর্তমান মাসরুর) এয়ার বেজের ২ নম্বর স্কোয়াড্রনে জেনারেল ডিউটি পাইলট হিসেবে নিযুক্ত হন। এখানে তিনি টি-৩৩ জেট বিমানের ওপর কনভার্সন কোর্স সম্পন্ন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় মতিউর রহমান ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে ছিলেন।

১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে বাৎসরিক ছুটিতে এসে তিনি প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন। এ কারণে মার্চে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়া হয়নি আর। পাকিস্তান থেকে বিমান সংগ্রহের লক্ষ্যে ৯ মে তিনি কর্মস্থলে ফিরে যান। নিয়মিত কাজের আড়ালে তিনি বিমান ছিনতাই করে যুদ্ধে যোগদানের পরিকল্পনা করেন।

১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট তিনি করাচির মশরুর বিমানঘাঁটিতে শিক্ষার্থী মিনহাজ রশীদের কাছ থেকে টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান করায়ত্তে নিয়ে পালিয়ে আসার চেষ্টা করেন। এ সময় ভারতীয় সীমান্তের ৩৫ মাইল দূরে থাট্টায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে শহীদ হন এই দেশপ্রেমিক বীরসেনানী। তার মৃতদেহ ঘটনাস্থলে থেকে প্রায় আধ মাইল দূরে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। করাচির মাসরুর বেসের চতুর্থ শ্রেণির কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

প্রায় ৩৫ বছর পাকিস্তানের ওই কবরেই শায়িত ছিলেন বাংলাদেশের এই বীরশ্রেষ্ঠ। ২০০৬ সালের ২৩ জুন মতিউর রহমানের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পুনরায় তাকে পূর্ণ মর্যাদায় ২৫ জুন শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে দাফন করা হয়।

পূর্ববর্তী খবর‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ায় পদ হারালেন আ.লীগ নেতা
পরবর্তী খবরআন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নির্বাচিত হলেন যবিপ্রবির ৩ কর্মচারী নেতা

Leave a Reply