ভাস্কর্য বিতর্ক নিয়ে আমার কিছু কথা; মোঃ আনাস মোল্লা।

ভাস্কর্য বিতর্ক নিয়ে আমার কিছু কথা

ভাস্কর্য বিতর্ক নিয়ে আমার কিছু কথা; মোঃ আনাস মোল্লা।

বর্তমানে দেশে ভাস্কর্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে । দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ এবং ইসলামী ভিত্তিক দল গুলো প্রতিনিয়ত পাল্টা পাস্টি কর্মসূচি করছে।এরি মধ্যে কুষ্টিয়া বঙ্গবন্ধুর নব নির্মিত ভাস্কর্য ভাঙচুর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভাস্কর্য ভাঙচুর এর ঘটনা ঘটেছে আবার এদিকে হেফাজতের আমির বাবু নগরী এবং যুগ্ম-সম্পাদক মামুনুল ও আরাক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমির ফজলুল করীম এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্র দৌহিত্রার মামলা হয়েছে।

এই নিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার নানা মন্তব্য করছে পাশাপাশি আলেম ওলামারাও নানা রকমের আলোচনা সমালোচনা করছে ।

এই নিয়ে আজ বিকালে বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ, মোহনপুর উপজেলা শাখা সাধারণ সম্পাদক এবং সাংবাদিক ব্যাক্তিত্ব মো আনাস মোল্লা তার নিজস্ব ফেসবুক প্রোফাইল একটি পোস্ট করেছেন।তিনি তার পোস্টে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছে। তার আলোচনার বিষয় ছিলো ” ভাস্কর্য বিতর্ক নিয়ে আমার কিছু কথা।

নিচে পাঠকদের উদ্দেশ্যে তার পোস্টটি সরাসরি তুলে ধরা হলো :- দেশের যা অবস্থা দেখছি তাতে না লিখে পারলাম না।

১  আমি প্রথমেই প্রশ্ন রাখতে চাই আমেল ওলামাদের কাছে :- বাংলাদেশ কি সংবিধান অনুযায়ী ইসলামী শরিয়ার দেশ ?

২  দ্বিতীয় প্রশ্ন রাখতে চাই কিছু বুদ্ধিজীবীদের কাছে :- ইসলাম মানে কি সৌদী আরব , ইরাক , ইরান বা তুরস্ক , পাকিস্তান?

এবার আসি মূল আলোচনায় :- আপনারা আলেম ওলামারা বলছেন যে ভাস্কর্য/মূর্তি/প্রতিমা তৈরী করা ইসলাম অবৈধ এবং হারাম। আরো বলছেন এটা পবিত্র কোরআন বা হাদিসে আছে , এটা আমি মানি এবং আমি আপনাদের যুক্তির সাথে একমত যে এই কথাটা পবিত্র কোরআন ও হাদিসে আছে তবে আমি বলতে চাই বাংলাদেশে কি কোরআন এবং হাদিসের আইন বা ইসলামী শরীয়া আইন দ্বারা চলে ?

প্রশ্নটির উত্তর হলো না।কারণ আমাদের দেশ চলে সংবিধান ও পেনাল কোডের মাধ্যমে। যেখানে মূর্তি বা ভাস্কর্য কোনোটা তৈরি করতে কোন বাঁধা নেই।

আরো পড়ুন:- ভাস্কর্য বিতর্ক

বাংলাদেশ যদি ইসলামী শরিয়ার আইন দ্বারা চলতো তবে তাহলে চুরি করলে হাত কাটা হতো, মদ খেলে দোর্রা মারা হতো ইত্যাদি আইন কোরআনে আলোকে হতো।

তবে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ধর্ম যেহেতু ইসলাম এবং এই দেশের ৮৮.২% মানুষ মুসলিম তাই আপনারা আলেম ওলামারা এই ভাস্কর্যের বিষয় টা নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় বা সরকারের সাথে শান্তিপূর্ণ আলোচনা করতে পারতেন কিন্তু আপনার তা না করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করছেন, সরকার বিরোধী আন্দোলন করছেন এবং সরকার পতনের চেষ্টা করছেন ধর্ম কে পূজী করে !!!!

এটা কখনোয় মনে নেওয়ার মতো না !

আপনারা কেনো বঙ্গবন্ধুর মতো মহান নেতার ভাস্কর্য ভাঙ্গতে গেলেন? যার জন্য এই দেশ স্বাধীন হয়েছে তার সম্মানে আপনার কেনো আঘাত করলেন? এটি কি আপনাদের ভুল ছিলো না ?

আমি আলেম ওলামারাদের পরামর্শ দিতে চাই আপনারা আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা হতে বেরিয়ে আসুন এবং ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় এর সাথে আলোচনা করুন।

আর আমি সেই সকল বৃদ্ধিজীবি দের বলতে চাই :- ইসলাম কে কোন দেশ , জাতী বা রাষ্ট্রের সাথে তুলনা করবেন না কারণ ইসলাম মানে হলো পবিত্র কোরআন এবং হাদিস।

পরিশেষে বলতে চাই :- এই বিষয় টা নিয়ে নোংরা রাজনীতি না করে সরকারের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করুন এর সমাধান আসবেই ইনশাআল্লাহ।

মনে রাখবেন একটি কথা বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ। তাই তার অস্তিত্ব বা সম্মানে আঘাত করলে তা কখনো মনে নেবে না এই দেশের জনগণ। তারপরও যদি আপনার ভুল করতে চান তাহলে আপনার রাজপথে প্রতিহত করা হবে।

মো আনাস মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ, মোহনপুর উপজেলা শাখা।

তথ্যসূত্র:- উইকিপিডিয়া , বাংলাদেশের সংবিধান, বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং ইসলামী স্কলারদের বিভিন্ন বক্তব্য

পূর্ববর্তী খবরপৃথিবীর সর্ববৃহৎ নিরাপত্তা বাহিনী বাংলাদেশের
পরবর্তী খবররূপপুর পারমানবিক প্রকল্পের ঠিকাদারি কোমম্পানিতে নির্মানাধীন ভবনে দুর্ঘটনায় শ্রমিক আহত ১৫।

Leave a Reply