মৌসুমসূচক টুর্নামেন্ট ফেডারেশন কাপের জন্য দলগুলোর প্রস্তুতি

Photo collection: - Daily Inqilab

ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুমকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দলগুলো। মৌসুমসূচক টুর্নামেন্ট ওয়ালটন ফেডারেশন কাপ মাঠে গড়াচ্ছে ২২ ডিসেম্বর থেকে। ২০২০-২১ মৌসুমের জন্য নিজেদের শক্তি পরখ করতেই প্রথম টুর্নামেন্ট ফেডারেশন কাপের জন্য অংশগ্রহণকারী বেশিরভাগ ক্লাবই প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে। বিপিএলের ১৩ ক্লাবেরই খেলার কথা ফেডারেশন কাপে। তবে অর্থ সংকটের কারণ দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা ফুটবল থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে। অর্থের অভাবে দল চালানোর মতো সামর্থ্য নেই বলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আর ফুটবল খেলবে না। এমন ঘোষণায় পরই দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে হতাশা দেখা দেয়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)ও হতাশ মুক্তিযোদ্ধার ফুটবল না খেলার ঘোষণায়। তবে তারা বলেছে ক্লাবটি যাতে ফুটবলে থাকে তার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করবে বাফুফে। যদিও এখন পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটেনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের। মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি বিজড়িত ক্লাবটি যদি শেষ পর্যন্ত অর্থের অভাবে ফেডারেশন কাপে অংশ না নেয় তাহলে বিজয়ের মাসে তা হবে সবচেয়ে লজ্জাজনক ঘটনা।

ফেডারেশন কাপকে সাধারণত লিগের প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট হিসেবেই ধরা হয়। নতুন দল গঠনের পর কোন ক্লাবের কেমন শক্তি, কোথায় দুর্বলতা? মূলত এসব পরখ করা হয় ফেডারেশন কাপে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত মৌসুম মাঝপথে পরিত্যক্ত হওয়ায় এবার ফুটবলাররা পুরোনো ক্লাবেই খেলবেন। ক্লাব ও ফুটবলারদের সমঝোতায় জার্সি বদলের ঘটনা আছে। তবে তা খুবই কম। তাই পরিত্যক্ত মৌসুমে ক্লাবগুলোর যে শক্তি ছিল, অনেকটা তেমনই থাকার কথা নতুন মৌসুমে। তবে বেশিরভাগ ক্লাবে বিদেশি পরিবর্তন করায় শক্তির তারতম্য হয়েছে। ফেডারেশন কাপের মাধ্যমেই সেই শক্তির পরখ হবে মাঠে।

গত মৌসুমে শুধু ফেডারেশন কাপই হয়েছিল। ফেডারেশন কাপ শেষে লিগ শুরু হলেও করোনাভাইরাসের কারণে প্রথমে স্থগিত ও পরে বাতিল করা হয়। সর্বশেষ ফেডারেশন কাপের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। ফাইনালে তারা ২-১ গোলে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটিকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে প্রথম শিরোপা জিতেছিল। আবাহনী গত ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালেই উঠতে পারেনি। রহমতগঞ্জের কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ে তারা। তবে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড শেষ চারে উঠলেও আবাহনীর মতো তারাও শিকার হয় রহমতগঞ্জের। জায়ান্ট কিলার খ্যাত পুরনো ঢাকার দলটি কোয়ার্টার ফাইনালে আবাহনীকে এবং সেমিফাইনালে মোহামেডানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল।

এবার বসুন্ধরা কিংস, আবাহনী, মোহামেডানের পাশাপাশি শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ও সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবও শিরোপার লড়াইয়ে থাকতে নিজেদের প্রস্তুত করছে। নিয়মিত অনুশীলনে এখন ঘাম ঝরাচ্ছেন তাদের ফুটবলাররা। সর্বশেষ আসরের রানার্সআপ রহমতগঞ্জকেও হিসেবে রাখছেন ফুটবলপ্রেমীরা। তারাও প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। তবে সব হিসেব বদলে দেবে মাঠের পারফরম্যান্স। যারা ভালো খেলবে, তাদের ঘরেই যাবে মৌসুমের প্রথম ট্রফি।

পূর্ববর্তী খবর‘প্রেমের সম্পর্ক ভাঙলে মেয়েরা ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করে’
পরবর্তী খবরপ্যারিস চুক্তির লক্ষ্য অর্জনে উন্নত বিশ্বকে তাগাদা দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Leave a Reply