যশোরে ফুটবল খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবক খুন

যশোরের ঝিকরগাছায় ফুটবল খেলার সময় মারামারি জেরে নয়ন হোসেন (২৪) নামে এক বাক প্রতিবন্ধী যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। এ সময় আহত হন আরও দুই যুবক।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) ফুটবল খেলার সময় মারামারি হওয়ার জের ধরে শনিবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহত নয়ন হোসেন ঝিকরগাছার পানিসারা ইউনিয়নের টাওরা উত্তরপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। আহতরা হলেন, একই গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে জহুরুল ইসলাম (২৭) ও মৃত হানিফের ছেলে আশা (২০)।আহত জহুরুলকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ও আশাকে ঝিকরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে নিহতের ভাই সুজন জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় খেলার মাঠে যুবকরা মিলে ফুটবল খেলছিলেন। খেলার মধ্যে ল্যাং মারাকে কেন্দ্র করে পানিসারা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য গোলাম সরোয়ারের ছেলে বকুল বিপক্ষ দলের মেহেদীকে মারপিট করে। এ ঘটনার জের ধরে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও মারামারি হয়। পরে শনিবার রাতে মীমাংসার জন্য শালিস হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সন্ধ্যার দিকে মেম্বর সরোয়ার ও তার দুই ছেলে বকুল ও জাহিদ ধারালো দা দিয়ে নয়নকে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় জহুরুল ও আশা ঠেকাতে গেলে মেম্বর তাদেরকেও কুপিয়ে জখম করে।পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে নয়ন ও জহুরুলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

স্বজনরা রাত আটটার দিকে নয়ন ও জহুরুলকে জরুরি বিভাগে আনলে ডা. অমিয় দাস নয়নকে মৃত ঘোষণা করেন এবং জহুরুলকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

জরুরি বিভাগে ডা. অমিয় দাস জানান, হাসপাতালে আনার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নয়নের মৃত্যু হয়েছে। তার গলায় ও বুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পানিসারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশের আলী জানান, মেম্বর সরোয়ারের লোকজন বাক প্রতিবন্ধী ছেলে নয়নকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সামান্য বিরোধের জের ধরে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

ঝিকরগাছা থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নয়নকে কুপিয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আটকে চেষ্টা করছে পুলিশ।

সূত্র:- সময় নিউজ

পূর্ববর্তী খবরটোকিও অলিম্পিকে প্রথম সোনা জিতল ইরান
পরবর্তী খবরজাতীয় পতাকার গিনেস বুকে রেকর্ড আমাদের অহংকার

Leave a Reply