রাজশাহীতে ‘লকডাউন’ ভেঙে মার্কেট খুললেন ব্যবসায়রা

সাজিরুল, বোয়ালিয়া (রাজশাহী):- নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলা রাখার জন্য রোববার (৪ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলন করে দাবি জানিয়ে ছিলেন ব্যবসায়ীরা। দাবি মানা না হলে আন্দোলনে যাবেন বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছিল।

কিন্তু সে দাবি না মানায় সোমবার (৫ এপ্রিল) সরকার ঘোষিত ‘লকডাউন’ ভেঙেই মার্কেট খুলেছেন ব্যবসায়ীরা। সকাল থেকে মার্কেট বন্ধ রাখলেও বেলা ১১টার দিকে ব্যবসায়ীরা মহানগরীর আরডিএ মার্কেটের সামনের সড়কে নামেন।

প্রথমেই তারা সড়ক অবরোধ করেন। পরে সড়কের ওপরই বিক্ষোভ শুরু করেন।

একপর্যায়ে পাশেই দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা সেখানে যান এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন।
কিন্তু আরডিএ মার্কেটের দোকান খোলার জন্য ব্যবসায়ীরা আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

এরই মধ্যে ভেতরে অনেকেই একটি দুইটি করে দোকান খোলা শুরু করেন। পরে বিক্ষোভ শেষে দায়িত্বরত পুলিশের হ্যান্ড মাইক নিয়ে সেখান থেকেই মার্কেট থোলার ঘোষণা দেন। এর পরপরই রাজশাহী মহানগরীর আরডিএ মার্কেটের দোকানপাট খুলতে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। তবে মার্কেটের বাইরের দোকানপাট বন্ধ আছে। জনসাধরেণর চলাচলে লকডাউনের তেমন প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সড়ক-মহাসড়কে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটের সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা, সিএনজি ও মোটরসাইকেলসহ হালকা যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আর এসব যানবাহনে কোনো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে না। আগের মত ঠাসাঠাসি করেই এসব যানবাহনে বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
এর আগে সকাল ৬টা থেকে করোনা সংক্রমণরোধে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী রাজশাহীতে ৭ দিনের লকডাউন শুরু হয়। এই লকডাউন চলবে আগামী ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত।

সকাল থেকে বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আগের তুলনায় রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা। তবে গণপরিবহন দেখা না গেলেও বিভিন্ন সড়কে অসংখ্য ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি ও রিকশা চলাচল করছে। এছাড়া পণ্য পরিবহনের ট্রাক ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক আছে। মহানগরীর নওদাপাড়া আমচত্বর, গোরহাঙ্গা রেলগেট, সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট, তালাইমারীসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ যানবাহন চলাচল সীমিত করার চেষ্টা করছেন। এছাড়া কোথাও গণজমায়েত ঠেকানোরও চেষ্টা করছেন। যারা মাস্কছাড়া বাইরে বের হলে সতর্ক করছেন। কিন্তু এরপরও মহানগরীজুড়ে অনেক মানুষের চলাচলও দেখা গেছে। কেউ অফিস কেউ ব্যক্তিগত কাজে ঘর থেকে বের হয়েছেন। অনেকে আবার সকালের নাস্তা ও বাজার করতে বের হয়েছেন। আবার অনেকে কেবল মহানগরীর লকডাউন পরিস্থিতি দেখার জন্যই বাইরে বের হয়েছেন। যদিও করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি মোকাবিলায় রাজশাহী জেলাকেও লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এরই মধ্যে লকডাউন ঘোষণা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেউ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮ অনুযায়ী রাজশাহী জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এ জেলার সঙ্গে অন্য জেলার প্রবেশ ও বের হওয়ার সব ধরনের রাস্তাঘাট বা অন্য কোনো পথে জেলার কেউ বাইরে যেতে পারবেন না কিংবা অন্য জেলার কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। এই নির্দেশনা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এ ক্ষেত্রে কেউ আইন লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব ধরনের গণপরিবহন, জনসমাগম বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি পরিষেবা, চিকিৎসাসেবা, কৃষিপণ্য, কৃষিকাজে নিয়োজিত সেবা, খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ ও সংগ্রহ ইত্যাদি এর আওতার বহির্ভূত থাকবে।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল জলিল জানান, সোমবার থেকে লকডাউন প্রশ্নে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। এর আওতায় সোমবার থেকে সাত দিন লকডাউনের কারণে রাজশাহীতে কেউ প্রবেশ বা জেলা থেকে বের হতে পারবেন না। লকডাউন কার্যকর করতে জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সকাল থেকে মহানগর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা উপজেলা পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। কোথাও আইনি ব্যবস্থার নেওয়ার প্রয়োজন হলে নিচ্ছেন।

এ সময় সরকারি নির্দেশনা মেনে জনসাধারণকে ঘরে থাকার পরামর্শ দেন। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্যও সবার প্রতি আহ্বান জানান।

পূর্ববর্তী খবরকেএমপি’র অভিযানে খুলনায় মাদকসহ আটক ৭
পরবর্তী খবরনাটোর সদর হাসপাতালে ৫০ শয্যার করোনা ইউনিট প্রতিষ্ঠার নির্দেশ

Leave a Reply