রাবির ১৭৫ নিয়োগ বাতিল ও বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞাসহ ৯ সুপারিশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহানের দেওয়া বিতর্কিত ১৪১ জন এবং আগের ৩৪ জন শিক্ষকসহ অবৈধভাবে দেওয়া মোট ১৭৫ জনের নিয়োগ বাতিলসহ ৯টি সুপারিশ দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কমিটি। রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ গত ৬ মে শেষ কার্যদিবসের আগের রাতে ৯ জন শিক্ষকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিভিন্ন পদে মোট ১৪১ জনকে নিয়োগ দেন ভিসি সোবহান। এর আগে ভিসি সোবহান উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নীতিমালা সংশোধন করে নিজের মেয়ে জামাতাসহ অবৈধ উপায়ে আরও ৩৪ জন শিক্ষককে নিয়োগ দেন। তদন্ত কমিটি এসব নিয়োগকে অবৈধ অ্যাখ্যা দিয়ে মোট ১৭৫ নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ দিয়েছেন।

কমিটির সূত্র বলছে, গত ১০ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিতর্কিত আরও ৩৪ জনের নিয়োগ বাতিলের জন্য চিঠি দিয়েছিল ড. সোবহানকে; কিন্তু তিনি তা করেননি।

রাবির ১৭৫ নিয়োগ বাতিল ও বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞাসহ ৯ সুপারিশ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের শেষ দিনে নিয়োগকে কেন্দ্র করে মহানগর ছাত্রলীগের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সংঘর্ষ হয়। ছবিটি বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে। ছবি: প্রথম আলো।

সর্বশেষ ১৪১ জনের নিয়োগকে কেন্দ্র করে গত ৬ মে রাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একাধিক বিবদমান গ্রুপসহ বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে ভিসি সোবহান কড়া পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এদিন বিকালে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ১৪১ জনের নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণার পর ইউজিসির সিনিয়র সদস্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীরকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. আবু তাহের, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব জাকির হোসেন আকন্দ ও ইউজিসির পরিচালক জামিনুর রহমান। কমিটিকে অবৈধ এসব নিয়োগে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়- সুপারিশ দিতে নির্দেশ দেন।

জানা গেছে, তদন্ত প্রতিবেদনে বিতর্কিত এসব নিয়োগ দিতে বিদায়ী ভিসি প্রফেসর সোবহান ও তাকে সহযোগিতাকারী একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও দুইজন সহকারী রেজিস্ট্রার এবং ভিসি জামাতাকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। নিয়োগ ঠেকাতে তৎপর না হওয়ায় দুই প্রো-ভিসিকেও দায়ী করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি ড. সোবহানের বিদেশ গমনের ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশসহ তিনি ও নিয়োগে সরাসরি জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে ড. সোবহান বাংলাদেশ ছাড়াও আরেকটি দেশের নাগরিক। এ হিসেবে তিনি দ্বৈত নাগরিক হিসেবে যে কোনো সময় বিদেশে চলে যেতে পারেন। এ কারণেই তার বিদেশ গমনের ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন তদন্ত কমিটির একাধিক সদস্য।

জানা গেছে, সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের শেষদিনে রোববার দুপুরে কমিটির সদস্যরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমানের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কমিটির প্রধান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, কমিটি গঠনের একদিন পর গত ৮ মে তারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনসহ বিতর্কিত এসব নিয়োগের নথিপত্র সংগ্রহ এবং এর সঙ্গে জড়িত ছাড়াও রাবির বিভিন্ন বিভাগের সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও প্রগতিশীল ও দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন।

কমিটি রাবি রেজিস্ট্রার প্রফেসর আব্দুস সালাম, বিদায়ী ভিসি ড. সোবহানসহ দুই উপ-উপাচার্য ড. আনন্দ কুমার সাহা ও ড. সিএম জাকারিয়ার বক্তব্য রেকর্ড করেন। জড়িত কর্মকর্তারা কমিটির কাছে দেওয়া বক্তব্যে নিজেদের বিতর্কিত নিয়োগে জড়িত নন বলে দাবি করেছিলেন। তবে ভিসি সোবহান এসব নিয়োগের সব দায় তার বলে নিজেই দায়িত্ব স্বীকার করেন।

পূর্ববর্তী খবরঈশ্বরদীতে পৌর যুবদলের ২৪ জন নেতা এক সাথে পদত্যাগ
পরবর্তী খবরঈশ্বরদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ জন, আহত – ৩

Leave a Reply