রামেক হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর প্রতিবাদ করায় বাবাকে মারধর!

ছবি:- রাইসিং বিডি

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছে পরিবার। প্রতিবাদ করায় ওই শিশুর বাবা লিটন ও তার বন্ধু সাগরকে পিটিয়েছেন দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা। 

এ ঘটনায় দুই আনসার সদস্যকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

বাবা লিটন জানান, গত শুক্রবার (১২ মার্চ) বেলা ৩টার দিকে বুকের ব্যথা ও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় তার মেয়ে লামিয়াকে রামেক হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। ওয়ার্ডে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এক ঘণ্টা পর পর চিকিৎসককে ডাকতে বলেন কর্তব্যরত নার্সরা। রাত ১০টার দিকে লিটন ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ডাকতে গেলে তারা দুর্ব্যবহার করেন এবং কক্ষ থেকে বের করে দেন। 

লিটন জানান, চিকিৎসক না আসার কারণে অবহেলায় মারা যায় শিশু লামিয়া। এর প্রতিবাদ জানাতে তিনি আবারও চিকিৎসকের কক্ষে গেলে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা তাকে বেদম মারধর শুরু করেন।  এ সময় তার বন্ধু সাগর তাকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও পিটিয়ে জখম করা হয়। সাগর আহত অবস্থায় হাসপাতালেই ভর্তি হন। আর লিটন আহত অবস্থায় মৃত শিশুকে নিয়ে বাড়ি যান দাফনের জন্য।  

লিটনের দাবি, তিনি শুধু এমন মৃত্যুর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। আর এ কারণেই তাদের দুইজনকে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি এর বিচার চান। 

তবে রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌসের দাবি, লিটন ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন। সে সময় ‘একটু ধাক্কাধাক্কির’ ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, বিষয়টা মিমাংসা করে দিয়েছি। ঘটনার সময় যে দুইজন আনসার সদস্য দায়িত্বে ছিলেন তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। 

উল্লেখ্য, রামেক হাসপাতালে চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগ তুললেই ইন্টার্ন চিকিৎসক ও আনসার সদস্যরা রোগীর স্বজনদের পিটিয়ে থাকেন বলে আরো অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এক মুক্তিযোদ্ধা ও তার ছেলেকে পেটানো হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মারা গিয়েছিলেন অবহেলায়। প্রতিবাদ করায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তার ছেলেকে পিটিয়ে পুলিশের হাতেও তুলে দিয়েছিলেন। এ নিয়ে দুইপক্ষই থানায় দুটি মামলা করে। পরে অবশ্য জেলা প্রশাসক বিষয়টি মিমাংসা করে দেন।

সূত্র:- রাইসিং বিডি

পূর্ববর্তী খবরপশুপালন দিবস উপলক্ষে পবিপ্রবির আয়োজন
পরবর্তী খবরমিয়ানমারে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল; আরো ৫ জন নিহত

Leave a Reply