31 C
Dhaka
Thursday, September 29, 2022

রাষ্ট্রায়ত্ত বিআরটিসি বাসকে চলাচলে বাধা দেয়ার সাহস পায় কোথা থেকে?

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা। এর রয়েছে নিজস্ব যাত্রীবাহী বাস। বিআরটিসি বাসে অপেক্ষাকৃত কম ভাড়া ও ভোগান্তিহীন বলে যাত্রীসাধারণও স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে ভ্রমণ করেন। এতে বিভিন্ন সময়ে স্বস্তিও প্রকাশ করেন যাত্রীরা। তবে গত কয়েক বছর ধরে বিআরটিসি বাস চলাচলে বাধা দিচ্ছেন বেসরকারি পরিবহন মালিকরা। বিআরটিসি বাস, ডিপো ভাঙচুরসহ স্টাফদের  মারধরের ঘটনা ঘটছে অহরহ। এমনকি যাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে বাস থেকে নামিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

সরকারি সংস্থার বাস চালাতে প্রয়োজন হচ্ছে বেসরকারি পরিবহন সংগঠনগুলোর অনুমতি। অন্যথায় যাত্রীসহ বাস আটকে দিচ্ছেন তারা। প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা ঘটলেও নিশ্চুপ বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ।

আমার প্রশ্ন হল, পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা বিআরটিসি বাস বন্ধ করার সাহস পায় কোথায়?

আমি মনে করি তারা বিআরটিসি বাস বন্ধ করে সরকারকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে তারা। যাত্রীদের অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে। এতে যাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বেসরকারি পরিবহন মালিক সমিতি কি রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী?

বিআরটিসি বাস চালু থাকলে যাত্রীরা অল্প খরচে যাতায়াত করতে পারে। সেখানে অন্য পরিবহনে যাত্রীর পকেট কেটে টাকা নেয়। বিআরটিসি বাসে যাত্রীচাপ বেশি। এতেই মালিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে। এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি চাইলে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষকে আরও শক্তিশালী হতে হবে।

স্বাধীন গনতন্ত্রের দেশ আমাদের বাংলাদেশ। আর এই দেশে রাষ্ট্রের সরকারী পরিবহন বিআরটিসি বাস কে রাস্তায় চলাচলে বাধা দিয়ে তারা বহাল তবিয়তে থাকে কি করে? যুগের পর যুগ ধরে তারা এমন অন্যায় করে আসছে। কিন্তু কোথাও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানা যায় না। যেমনটা নেয়া হয়নি ফরিদপুর ও শরীয়তপুরে। উল্টা তাদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের আলোচনায় বসতে দেখা গেছে। তাদের অন্যায় আবদার রক্ষা করতে গিয়ে বিআরটিসির বাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, কিংবা সংখ্যায় কমিয়ে দেয়া হয়েছে পরিবহন সেবায় গুরুত্যপূর্ন ভুমিকা রাখা সরকারী এই বিআরটিসি বাস।

অভিযোগ আছে, পরিবহন মালিক নেতারা স্থানীয় ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় দেশের বিভিন্ন রুটে বিআরটিসি বাস চলাচলে বাধা দেয়া হচ্ছে। বাসে যাত্রী উঠানামা করতে দিচ্ছে না। এমনকি প্রশাসনের সামনেই বাস আটকে রাখছেন। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। সেই সুযোগে কমছে বিআরটিসি বাসের সংখ্যা। অন্যদিকে বেড়েই চলছে পরিবহন খাতের নৈরাজ্য।

আর সম্প্রতি ফরিদপুর ও শরিয়তপুরে ঘটে যাওয়া এমন ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জোর দাবি করছি এবং কোনভাবে যেন বিআরটিসির বাস বন্ধ হয়ে না যায় কিংবা বাসের সংখ্যা কমিয়ে দেয়া না হয়।

লেখকঃ উজ্জল হোসেন প্রধান, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী।

(বিঃ দ্রঃ সত্যের সকালের সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে লেখকের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির আইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে লেখকের, সত্যের সকাল কর্তৃপক্ষের নয়। লেখকের নিজস্ব মতামতের কোনো প্রকার দায়ভার সত্যের সকাল নিবে না)

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Leave a Reply

লেখক থেকে আরো