রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু

ঈশ্বরদী প্রতিনিধিঃ নির্মাণাধীন ঈশ্বরদী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে দেশব্যাপী করোনা মহামারি পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতির কারনে কর্মরতদের জরুরী ভিত্তিতে করোনার টিকা প্রদান (১৪ জুলাই) বুধবার থেকে শুরু হয়েছে।

রাশিয়া সরকারের সহযোগীতায় ‘’ টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।
বুধবার দুপুরে মন্ত্রী বলেন, রাশিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই আমাদের সাহায্য করছে। প্রকল্পের কাজ নিরুদ্বিগ্নভাবে এগিয়ে নেয়ার জন্য রাশিয়ানদের সাথে সাথে কর্মরত বাংলাদেশীদেরও টিকা প্রদানে রাশিয়া সরকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। এজন্য তিনি রাশিয়া সরকারকে অভিনন্দনের সাথে সাথে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রকল্পে কর্মরত পরমাণু শক্তি কমিশনের ৭৫০ জনকে টিকাদান শুরু হলো।

এছাড়াও প্রকল্পের বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাঙ্গালি যারা কাজ করছেন, তাদেরও ক্রমান্বয়ে টিকা দেয়ার জন্য রাশিয়া সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে আমরাও সহযোগীতা করবো। এই টিকাদানের ফলে সকলের মনোবল বৃদ্ধি পাবে এবং প্রকল্পের কাজ আরো দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে। এসময় মন্ত্রী টিকা প্রয়োগে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আসমা খান ও তার টিমকে সহযোগিতার জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর জানান, প্রকল্পে কর্মরত সকলকেই করোনার টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে রাশিয়ানসহ বিদেশীদের টিকাদান শেষ পর্যায়ে। বাংলাদেশীদেরও টিকা প্রদান আজ শুরু হলো।
পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশী যারা প্রকল্পে কাজ করছে তাদেরও শতভাগ টিকা দেয়া হবে। প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম জানান, রাশিয়ার ‘স্পুটনিক ভি’ টিকা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়া হচ্ছে। প্রথমদিনে ৫২ জনকে টিকা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, প্রথমে বাঙ্গালি ডাক্তার-নার্স এবং যারা ২৪ ঘন্টা সিভিল কন্সট্রাকশন কাজের সাথে জড়িত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের টিকা দেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সরকারের সুরক্ষা আ্যাপসে রেজিষ্ট্রেশন করে আমরা এই টিকার ব্যবস্থা করেছি। রাশিয়ান এটমষ্ট্রয় এক্সপোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেক্সি ডেইরি, রাশিয়ান চিকিৎসক মরোজভ, প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস এসময় উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত: সাম্প্রতিক সময়ে করোনা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় রূপপুর প্রকল্পের কাজ চলমান রাখার স্বার্থে প্রকল্পে কর্মরত দেশী-বিদেশী সকলকে জরুরী ভিত্তিতে করোনার টিকা প্রদানের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়াও গ্রীণসিটিতে একটি বহুতল বিশিষ্ঠ ভবনে আইসলেশন সেন্টার খোলা এবং প্রকল্প এলাকায় কর্মরতদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার জন্য আরো কঠোর অনুশাসনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই রাশিয়া থেকে রোসাটমের উচ্চ পর্যায়ের একটি বিশেষজ্ঞ টিম এসে প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনের পর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর নের্তৃত্বে দেশীয় বিশেষজ্ঞদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রূপপুর প্রকল্পের কর্মরত সকলকে জরুরী ভিত্তিতে টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

পূর্ববর্তী খবরনওগাঁয় লকডাউনের শেষ দিনেও চলছে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা
পরবর্তী খবর৬ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে হিলি বন্দরে

Leave a Reply