লিপিড প্রোফাইল কি এবং কেন?

লিপিড প্রোফাইল কি এবং কেন?

লিপিড প্রোফাইল হচ্ছে রক্তে কি পরিমাণ চর্বি আছে সেটি জানার জন্য রক্তের পরীক্ষা। কিন্তু কেন পরিক্ষা করাতে হবে? জি,হ্যাঁ উচ্চ রক্তচাপ, ACE Inhibitor (এঞ্জিওটেন্সিন কনভার্টিং এনজাইম ইনহিবিটর),  এন্টিওক্সিডেন্ট (ভিটামিন-এ, সি, ই), ফলিক এসিড, রক্তনালীর অসুখ। ভয় পাবেন না সমাধান আছে।

কোলেস্টেরল জমে রক্তনালীতে প্লাক তৈরি করার প্রক্রিয়াকে বলে এথেরোসক্লেরোসিস। সহজ ভাষায় বলে ব্লক। এটা হার্টে হলে হার্ট এটাক, ব্রেইনে হলে স্ট্রোক, ফুসফুসে হলে পালমোনারি ইনফার্কশন, পেটের মধ্যে হলে মেসেন্টারিক ইস্কেমিয়া, হাত পায়ে হলে লিম্ব ইস্কেমিয়া বা পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজ। এর ফলে যে জায়গায় রক্ত চলাচল ঠিক মত হয় না, সেসব জায়গা আস্তে আস্তে পচে যায়। হাত পায়ে হলে তা কেটে ফেলতে হয়। স্ট্রোক হলে শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যায়। কথা জড়িয়ে যায়, চোখ খুলতে পারে না। সিটি স্ক্যান করলে ধরা পরে।

বর্তমান সবচেয়ে ভয়ঙ্করী রোগ হার্ট এটাক হলে বুকের মাঝখানে চাপ লাগা ব্যাথা হয়, যা বাম হাতে, কাধে, ঘাড়ে, চোয়ালে, দাতে যেতে পারে। সাথে শ্বাস কষ্ট, শরীর ঘেমে যাওয়া ইত্যাদি হতে পারে। ইসিজি, ট্রপোনিন, ইকো করলে ধরা পড়ে।
ফুসফুসে হলে হঠাৎ করে প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট হয়। বুকের সিটি স্ক্যান করলে ধরা পড়ে। পেটে হলে হঠাৎ করে প্রচন্ড পেট ব্যাথা হয়। এক্স-রে বা আল্ট্রাসাউন্ড করে নরমাল পাওয়া যায়। তবে সিটি-এঞ্জিওগ্রাম করলে ধরা পরে মেসেন্টারিক ইস্কেমিয়া। হাত পায়ে হলে ডুপ্লেক্স/ ডপ্লার আল্ট্রাসাউন্ড করলে ধরা পরে।

ব্লকের চিকিৎসাঃ মূলত ব্লক অপসারণ। সেটা হতে পারে অপারেশনের মাধ্যমে, বা রিং পড়ানো/স্টেন্টিং এর মাধ্যমে। রক্তনালীর প্রদাহ হলে বলে ভাস্কুলাইটিস। ধমনিতে হলে বলে আর্টারাইটিস। এতে রক্তে ESR এবং CRP বেড়ে যায়। এর ফলে ঐ প্রদাহ ঘটিত জায়গায় অনুচক্রিকা, শ্বেত কনিকা, বিভিন্ন জমাট বাধা উপাদান এসে ভিড় করে হতে পারে ব্লক। এসব ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ভাল কাজ করে।
রক্তনালী বা এন্ডোথেলিয়ামের যত্ন কিভাবে নিবেনঃ
১. শারিরিক ব্যায়াম এবং কায়িক পরিশ্রম।
২. ওজন নিয়ন্ত্রন। (এরা আপনার রক্তের গতি ঠিক রাখবে, খারাপ কোলেস্টেরল কমাবে, ভাল কোলেস্টেরল বাড়াবে)
৩. ডায়েট/খাবারঃ খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য একটা বিষয়। এর সাথে বহু অসুখ বিসুখ জড়িত। তাই খাবার কে করতে হবে সুন্দর এবং ব্যলান্সড। চিনি, চর্বি, লবন এবং শর্করা যেমন ভাত কম খেতে হবে। খাবার তেলের মধ্যে বিশেষ করে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বাদ দিতে হবে। আনস্যাচুরেটেড তেল/ ফ্যাট (মুফা, পুফা) দিয়ে রান্না করতে হবে। এটা বেশি থাকে সামুদ্রিক মাছে (সালমন, ইলিশ)।
রান্না তেলঃ অলিভ অয়েল। অমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড খেতে হবে।
ফলঃ ফলে প্রচুর পরিমাণে এন্টিওক্সিডেন্ট এবং ফলিক এসিড থাকে। টক জাতীয় ফল। যেমনঃ লেবু, কমলা, বাতাবি লেবু, আমড়া, কামড়াঙ্গা, কাচা আম।

আরজিনিন যুক্ত খাবার/নাইট্রেট যুক্ত খাবার, যা রক্তে নাইট্রিক অক্সাইড বাড়ায়। যেমনঃ বাদাম, বিভিন্ন সব্জির বিচি যেমনঃ শীম, কাঠাল ইত্যাদি। লেটুস পাতায় থাকে।
ব্যায়াম করলেও রক্তে নাইট্রিক অক্সাইড বাড়ে।৬-৮ ঘন্টা নিবিড় ঘুম। ঘুম ভাল হলে রক্তনালীতে প্রদাহ হয় না।
গ্রীন টি। এতে প্রচুর এন্টি অক্সিডেন্ট আছে।
প্রচুর পরিমানে পানি (২-৩ লিটার) পান করতে হবে।
শরীরে ম্যাসেজ এবং ত্বকে ড্রাই ব্রাশ করা। এতে রক্ত চলাচল বাড়ে।
ধুমপান এবং মদ বর্জন করা।
স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখা। এর জন্য মেডিটেশন বা রিল্যাক্সেশন করা। দমের ব্যায়াম করা।
প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট শোয়া অবস্থায় পা উচু করে রাখা। এতে শিরা ভাল থাকবে।
নিয়মিত অন্তত এক কাপ চা/কফি খাওয়া।

উপসংহারঃ সুস্থ রক্তনালী এবং স্বচ্ছ রক্ত (অতিরিক্ত সুগার, কোলেস্টেরল মুক্ত) দীর্ঘ জীবনের মূল মন্ত্র। মানুষের মৃত্যু ঘটে মূলত হটাৎ করে হার্ট এটাক বা স্ট্রোকের মাধ্যমে। আর এসব অসুখের প্রধান কারন হল ওই নির্দিষ্ট অঙ্গের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা রক্তনালীর অসুখ সমূহ। তাই রক্তনালীর গুরুত্ব অনুভব করে আজ থেকেই যত্ন নেওয়া উচিৎ। আপনার রক্তনালী সুস্থ মানে আপনি সুস্থ। রক্তনালী সুস্থ মানে প্রত্যেকটা অঙ্গ যেমনঃ হার্ট, ব্রেইন, লিভার, ফুসফুস, কিডনী ইত্যাদি সুস্থ।

তথ্যসুত্রঃ বিভিন্ন মাধ্যম
লেখকঃ মোঃ আব্বাস আলী
সহকারী অধ্যাপক (ব্যবস্থাপনা বিভাগ)
জি, টি ডিগ্রী কলেজ, কোটচাঁদপুর। ঝিনাইদহ।

(বিঃ দ্রঃ সত্যের সকালের সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে লেখকের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখাটিরআইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে লেখকের, সত্যের সকাল কর্তৃপক্ষের নয়। লেখকের নিজস্ব মতামতেরকোনো প্রকার দায়ভার সত্যের সকাল নিবে না)

পূর্ববর্তী খবরসিএমপির বিশেষ উদ্যোগে যুক্ত হলো পেট্রোল কার।
পরবর্তী খবরআঙ্কারায় বঙ্গবন্ধুর-ঢাকায় আতাতুর্কের ভাস্কর্য বানাবে তুরস্ক।

Leave a Reply