18 C
Dhaka
Sunday, February 5, 2023

লিফট আটকে মৃত্যুর আশঙ্কা,আতঙ্কে যবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের লিফটে আটকা পড়ে মৃত্যুর আশঙ্কায় শিক্ষার্থীরা।একপ্রকার মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে ভবনের আড়াই হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দকৃত দুইটি লিফটই।দায়ভার এড়িয়ে যেতে ব্যস্ততার সীমা নেই দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের,সাথে রয়েছে দায় ছোঁড়াছুড়ি’র প্রতিযোগিতা।

প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে জানা যায়, ৯ মার্চ বুধবার দুপুর ০১ঃ৩০ ঘটিকা হতে ০২ঃ৩০ ঘটিকার মধ্যে উভয় লিফট চললাম অবস্থায় ৭-৮ বার বন্ধ হয়ে যায়। এতে আটকা পড়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে লিফটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকে শিক্ষার্থীরা।অনেকে আতঙ্কিত হয়ে মানসিক ভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

লিফটে আটকা পড়া বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী প্রিয়াঙ্কা সাধু বলেন, বুধবার ৫ম তলায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ৬জন বন্ধু বান্ধবীর সাথে লিফটে উঠি। লিফট যথারীতি ২ তলায় যাওয়ার পর হঠাৎ লিফট থেমে যায় ।লিফট তখন ২য় ও ৩য় তলার মাঝামাঝি জায়গায় আটকে আছে, আমি ও আমার বান্ধবী খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম। আমরা আমাদেরকে উদ্ধার এর জন্য লিফট এর অ্যালাম চাপি কিন্তু তাতে কোন শব্দ হয় না। আমরা সাহায্য এর জন্য কাউকে ফোন দিব বলে ফোন বার করি কিন্তু নেটওয়ার্ক ও পাচ্ছিল না। হালকা শ্বাস কষ্ট হচ্ছিল,তখন এক বন্ধু কোন উপায় না পেয়ে লিফটের দরজা খোলার চেষ্টা করে।সেখান থেকে কিছুটা বাতাস প্রবেশ করাই আমরা স্বস্তি অনুভব করি। তারমধ্যে ১০-১৫ মিনিট কেটে গেছে। কিছুক্ষণ পর ঈশ্বর এর অশেষ কৃপায় লিফট সচল হয় এবং আমরা উদ্ধার হয়।সবাই অসুস্থ বোধ করছিলাম, আমার এক বান্ধবী বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে আমরা তাকে মেডিকেলে নিয়ে যায়। এমন ঘটনা যেন ভবিষ্যতে কোন বড় দুঃঘটনায় রূপ না নেই, আমরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এর প্রতিকার চায়।

ফলিত বিজ্ঞান অনুষদের আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবু রায়হান বলেন, একসাথে ১০-১২ জন ছিলাম, লিফটে কারেন্ট যাচ্ছে আর আসচ্ছে। ভয়ে সবাই একসাথে ঘামছিলো,এ যে কি একটা অবস্থা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।প্রায়ই এমন হচ্ছে, প্রশাসন কানেই নিচ্ছে না।একজন মরলে হয়তো প্রশাসনের টনক নড়বে। আমার তো মনে হয়, আমি আর জীবনে লিফটে চড়বো কিনা সন্দেহ আছে। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হলে তাঁর দায়ভার তাহলে কি তাঁরা নিবে?

পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের ১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে বন্ধুরা একসাথে লিফটে ছয় তলায় উঠতেছিলাম,হঠাৎই লিফট বন্ধ হয়ে গেল।অনেকেই ওই সময়ে আতঙ্কে চিল্লিয়ে উঠলো, পরে আমরা সবাই বুঝলাম যে হয়তো বিদ্যুৎ চলে গেছে, পরে লিফটের মধ্যে এলাম বাজিয়েও কোন লাভ হয় নাই।আমার গত কয়েকবছর ধরে শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে,ঐসময় আমার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় এবং অনেকেরই শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।কিছুক্ষণ পরে যখন লিফট অন হবে ঠিক ওই সময়েই আবার বিদ্যুৎ চলে গেল । এভাবে অনেকটা সময় যাওয়ার পরে বিদ্যুৎ আসে এবং লিফট অন হয়।কোনো মতে লিফট থেকে বের হয়ে সবাই দীর্ঘশ্বাস ফেলি। এর মধ্যে অনেকেরই অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।তাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি আমাদের লাশ চাই! নাকি তাঁরা চাই যে, আমরা লিফট ব্যবহার না করি।

যবিপ্রবির প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায় , যবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ৫০০ কেভিএ ডিজেল জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হলে এই জেনারেটর দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনে থাকা বিভিন্ন বিভাগের গবেষণাগার, শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষকদের অফিস ও লিফটসহ সম্পূর্ণ ভবনে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব। কিন্তু তারপরও জেনারেটর চালু হচ্ছে না কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে যবিপ্রবির সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মিজানুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৮ টি লিফট, বিদ্যুৎ চলে গেলে তৎক্ষনাৎ সাপোর্ট দেওয়ার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অপারেটর নেই।বিধায় এসকল সমস্যার সমাধান করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অপারেটর দিলে এসমস্যা আর থাকবেনা।

এব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান বলেন, লিফটের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে গত চার বছর ধরে একটি ঝামেলার কারণে সার্ভিসিং ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনার ত্রুটি হচ্ছে।আসলে উর্ধ্বতন কর্মকতাদের এব্যাপারে বার বার অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো সমাধান মেলেনি।

শিক্ষার্থীদের ক্ষতির প্রসঙ্গে প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান আরো বলেন, এই সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে অবশ্যই তার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সমঝোতা হয়ে গেলে দ্রুত এসকল সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Leave a Reply

লেখক থেকে আরো