লিভারের জন্য উপকারী খাবার

লিভারের জন্য উপকারী খাবার

লিভার মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির লিভারের ওজন ৩ পাউন্ড। দেহের এই লিভার অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজের সাথে জড়িত। যেমন- হজম শক্তি, মেটবলিজম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দেহে পুষ্টি যোগানো ইত্যাদি। সুস্থ লিভার দেহের রক্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রন করে, রক্ত থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দেয়, দেহের সকল অংশে পুষ্টি যোগায়। এছাড়াও লিভার ভিটামিন, আয়রন এবং সাধারণ সুগার গ্লুকোজ সংরক্ষন করে।

যেহেতু লিভার আমাদের দেহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ তাই যে কোন উপায়ে একে সুস্থ সবল রাখতে হবে। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন দেহের লিভারের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। ওজন বৃদ্ধি, হৃদরোগ, দীর্ঘ সময় ক্লান্তি অনুভব করা, হজমের সমস্যা, এলার্জি ইত্যাদি এই সমস্ত অসুখ দেখা দিতে পারে অসুস্থ লিভারের কারণে। তাই দেহ ও লিভার সুস্থ রাখার জন্য চিনে নিন এমন কিছু খাবার আছে যা সুস্থ রাখবে আপনাকে।

লিভারের জন্য উপকারী খাবার হলঃ লেবু, গ্রিন টি, আপেল, স্ট্রবেরি, রসুন, আখরোটে,ক্রুসিফেরাস সবজি, পেঁয়াজে, হলুদ, ডিম। আপনার লিভার ভালো রাখতে এই সব খাবার নিয়মিত খান।

লেবুঃ লেবুর মধ্যে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকে, একটা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা টক্সিনকে নিষ্ক্রিয় করে শরীর থেকে সহজেই বের করতে সাহয্যকারী গ্লুটাথয়োনি তৈরিতে সহায়তা করে। এটা তাছাড়াও ফ্ল্যাবনয়েড সমৃদ্ধ যা সম্ভবনাময় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভমিকা পালন করে সুস্থ লিভারের কোষের ক্ষতিকারী ফ্রি রাডিকেলককে প্রতিহত করে। এটা এছাড়াও পেরিস্টালিস (অন্ত্রের গতিবিধি) বাড়ায় যা পরিপাকনালী দিয়ে বর্জ পদার্থের যাতাযাত বজায় রেখে শরীর থেকে বের করে দেয়।

গ্রিন টিঃ গ্রিন টিয়ের মধ্যে ক্যাথেচিন নামক উদ্ভিজ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। এই যৌগ লিভারের কাজে সাহায্য করার সাথে টক্সিক উপাদানের ক্ষতি থেকে লিভারকে রক্ষা করে। এর মধ্যে তাছাড়াও পলিফেনল থাকে যা লিভারের মধ্যে জমে থাকা ফ্যাটকে আটকায় এবং ফ্যাটি লিভারের রোগ প্রতিরোধ করে।

আপেলঃ আপেল যেহেতু ভিটামিন, মিনারেল এবং ফ্ল্যাবনয়েডের মতন ফাইটোকেমিক্যালের উৎস যা লিভারকে ডিটক্সিফাই করতে পারে সেহেতু আপেল অন্যতম সেরা ডিটক্স খাবার। অসাধারণ এই ফল পেপটিন নামক দ্রবণীয় ফাইবারের উত্তম উৎস যা রক্তস্রোত থেকে ধাতু ও ফুড অ্যাডিক্টিভ দূর করে। আপেলের ভেতরের ম্যালিক অ্যাসিড ক্লিনজিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে যা রক্ত থেকে টক্সিন বের করে।

বেরিঃ ব্লুবেরি ও স্ট্রবেরি প্রাকৃতিক উত্তম খাবার কারণ এর মধ্যে ফ্রি রাডিকেলকে নিষ্ক্রিয় করবার মতন ফাইটোকেমিক্যাল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। এইসব ফলের মধ্যে অধিক পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, পলিফেনল, ফাইবার থাকে যা হজম পদ্ধতিতে স্ক্রাবার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করার পাশাপাশি শরীরে দূষিত পদার্থের মোকাবিলা করে, লিভারকে পরিষ্কার করে এবং যথাযথ কাজ করতে দেয়।

আখরোটঃ আখরোটের মধ্যে অধিক পরিমাণ গ্লুটাথিয়ন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যারা উভয়েই পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ার দ্বারা লিভারকে সহায়তা দেয়। এটা তাছাড়াও আরগানাইনের (অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিড) উৎস যা লিভারকে রক্ত থেকে অ্যামনিয়া বের করে সেটাকে ইউরিয়াতে পরিবর্তন করে শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে।

ক্রসিফেরাস সবজিঃ ব্রকোলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি খুব ভালো ক্রুসিফেরাস সবজি এবং গ্লুকোসিনোলেটের উপস্থিতিতে লিভার এনজাইম উৎপাদনে সাহয্য করে। এইসব এনজাইমগুলো শরীর থেকে টক্সিন বের করে শরীরকে বিশুদ্ধ করতে পারে। ক্রসিফারের মধ্যে ফ্ল্যাবনয়েড, ক্যারোটিনয়েড, সালফোরেফ্যান এবং আইডোলেসে মতন প্রয়োজনীয় ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট থাকে যা লিভারকে নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে। সাধারণত, সবজিতে অধিক পরিমাণ ডায়াটারি ফাইবার থাকে যা অতিরিক্ত কোলেস্টেরলকে প্রক্রিয়াজাত করে লিভারের চাপ কমায়। ডায়াটারি ফাইবার এছাড়াও লিভার সহ সারা শরীরের জ্বালা-যন্ত্রণা ও অক্সিডেটিভ চাপ কমায়। অতিরিক্ত হিসেবে, ফাইবার লিভার থেকে পিত্তের উৎপাদন বাড়ায় যা ফ্যাটের হজমে সহায়তা করে এবং লিভারের রোগ আটকায়।

পেঁয়াজঃ পেঁয়াজের মধ্যে বেশী পরিমাণে অ্যালিচিন (অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট) থাকে যা লিভার থেকে টক্সিক কমাতে সাহায্য করে। পেঁয়াজের মধ্যে মেথিওনিওন, সিস্টেইন এবং ভিটামিন সি-র মতন উন্নত মানের অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে যা পারদ, আর্সেনিক ও ক্যাডমিয়ামের মতন ভারী ধাতু থেকে শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে পারদর্শি।

রসুনঃ রসুন হল মাটিতে উৎপাদিত হওয়া অন্যতম ঔষধি খাবার যার মধ্যে অ্যালিচিন ও সেলেনিয়ামের মতন সালফার উপাদান থাকে। অ্যালিচিন শক্তিশালী অ্যান্টঅক্সিডেন্ট যা লিভারের জন্য উপকারী এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য বাড়ানোর মতন গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল হল সেলেনিয়াম। উভয় একসাথে টক্সিনের ক্ষতির হাত থেকে লিভারকে রক্ষা করতে পারে। রসুনের মধ্যে ভিটামিন বি৬ থাকে যা হোমোসিস্টেইনের মাত্রা কমানো্য সাহায্য করার সাথে লিভারের জ্বালা-যন্ত্রণা কমায়।

হলুদঃ সুস্থ লিভারের জন্য অপর একটা কার্যকারী খাবার হল হলুদ। এটা পিত্তের উৎপাদন বাড়াতে পারে। পিত্ত লবণ ছোট কণায় পরিবর্তিত করে বড় কণার পৃষ্ঠটান কমায়। এটা লিভারকে রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা আটকাতে সাহায্য করে এবং কোলেস্টেরল মেটাবলিজমের জন্য দায়ী এনজাইমদের নিয়ন্ত্রিত করে ফ্যাটি লিভারের রোগের ঝুঁকি কমায়। এর এছাড়াও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটারি বৈশিষ্ট্য আছে যা লিভারের ক্ষতিসাধনকারী অনেক কণা (বিলিরুবিন ও ট্রান্সপেপ্টিসাইড) সংখ্যা কমায়। হলুদ ফ্যাট মেটাবলাইজ ও বের করার জন্য পিত্তের উৎপাদন ও প্রবাহ বাড়ায়।

ডিমঃ লিভারকে পিত্ত উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার মতন প্রায় সবধরনের অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিড থাকার জন্য ডিম প্রথম শ্রেণীর প্রোটিনের তালিকাভুক্ত। পুষ্টি উপাদানে ভরপুর এই খাবার তাছাড়াও লিভারের সার্বিক স্বাস্থ্যর জন্য এবং লিভার ও অন্যান্য অঙ্গের কোলেস্টেরল অক্সিডেশান আটকানোর মতন লিচিথিনের (ফ্যাটি উপাদান) উৎপাদন আটকাতে সাহায্য করে।

পূর্ববর্তী খবর৯/১১’র হামলায় সৌদির জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দিলেন বাইডেন
পরবর্তী খবরদেশে করোনায় আরও ৬১ জনের মৃত্যু

Leave a Reply