শিক্ষকেরা নিবে না ক্লাস ; সেশনজটে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

করোনা ভাইরাসের জন্য অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি)৷ সেশনজট এড়াতে এসময়ে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷

শিক্ষকদের আপগ্রেডেশনর দাবিতে গত ৬ এপ্রিল থেকে সকল ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমও বন্ধ ঘোষণা করে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। আর এ কারনে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন বশেমুরবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

অনলাইন ক্লাস বন্ধ থাকায় কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী মুকুল আহমেদ রনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে অনলাইন ক্লাস কিছুটা হলেও ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি করেছিলো। কিন্তু বর্তমানে অনলাইন ক্লাসও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছি।”

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শীষ মোহাম্মাদ তানিম বলেন, “আমাদের ২০২০ সালে অনার্স শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু করোনার কারণে দীর্ঘ সেশনজটের মধ্যে পড়ে গেছি। আমাদের বিভাগের শিক্ষকবৃন্দের আন্তরিক চেষ্টা ও শিক্ষার্থীদের তীব্র আগ্রহে আমরা ২য় সেমিস্টারের অনলাইন ক্লাস শুরু করেছিলাম। এক সপ্তাহ তীব্র গতিতে ক্লাস চললেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির আন্দোলনের কর্মসূচির কারণে আমাদের শিক্ষকগণ আমাদের ক্লাস নেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। এমতাবস্থায় আমরা আবারও হতাশা গ্রস্থ হয়ে পড়েছি। এমনকি আমাদের অনেক সহপাঠী পড়াশোনা পুরোপুরি বাদ দিয়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্য কোনো কাজ বেছে নিবে কিনা তা চিন্তা ভাবনা করা শুরু করেছে।”

শুধুমাত্র তারাই না পদোন্নতি সংক্রান্ত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শিক্ষকদের অনলাইন ক্লাস বর্জনের জেরে বশেমুরবিপ্রবির অধিকাংশ শিক্ষার্থী বর্তমানে হতাশা এবং শঙ্কা নিয়ে সময় পার করছেন।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ.কিউ.এম মাহবুব বলেন “আপগ্রেডেশনের জন্য রিজেন্ট বোর্ডের মিটিং প্রয়োজন। রিজেন্ট বোর্ডের মিটিং ব্যতিত আমার একার পক্ষে তো কিছু করা সম্ভব নয়। আগামী ২৪ তারিখ রিজেন্ট বোর্ডের মিটিং হবে। আমি শিক্ষক সমিতিকে বলেছিলাম ক্লাসে ফিরে যেতে এবং ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে। কিন্তু শিক্ষক সমিতি তাদের সিদ্ধান্তে অনড়।”

এসময় উপাচার্য আরও বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে শিক্ষা প্রদান করা, তাদের উন্নয়নে কাজ করা। কিন্তু যারা নিজেদের দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে তারা আদর্শ শিক্ষক কিনা এ বিষয়ে আমি সন্দিহান।

পারভেজ (বশেমুরবিপ্রবি) \ সত্যের সকাল।

পূর্ববর্তী খবরবগুড়ার সান্তাহারে চলছে সর্বাত্মক লকডাউন
পরবর্তী খবরঈশ্বরদীতে সর্বাত্নক লকডাউন পালনে গতরাতে পুলিশের মহড়া!

Leave a Reply