শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে পাবিপ্রবি ও পাবনা জেলার শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

অবিলম্বে হল-ক্যাম্পাস খুলে শিক্ষা-কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবিতে অদ্য ২৪-০৫-২০২১ ইং তারিখে পাবনা শহরে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পাবনা জেলার সাধারন শিক্ষার্থীরা।

গত ২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০১৯ এর শেষদিকে করোনা সংক্রমণ কমে এলে অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুললেও বিভিন্ন অজুহাতে এখন পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঝুলছে তালা। গত দুই বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেশন জটে হুমকির মুখে হাজারো শিক্ষার্থীদের আগামীর কর্ম জীবন।

এর পূর্বে শিক্ষা মন্ত্রী ড. দীপু মনি সংবাদ সম্মেলনের ১৭ ই মে ২০২১ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর হল এবং ২৪ মে পর্যায়ক্রমে ক্লাস পরীক্ষা শুরু করার আশ্বাস প্রদান করে। কিন্তু সুত্র হতে পাওয়া সম্প্রতি ইদ উল ফিতর এর ছুটি শেষ হওয়ার পর পুনরায় বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা ও লকডাউন শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে অনলাইন ক্লাস এর পাশাপাশি পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দেন।বিভিন্ন সমস্যা সীমাবদ্ধতার কারনে গ্রহনযোগ্যতা পাচ্ছে না অনলাইন পাঠদান ও পরীক্ষা। দীর্ঘদিন যাবৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিশাল অনাকাঙ্ক্ষিত সেশন জটের আশঙ্কায় আছে পাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা।

এমতবস্থায় দেশের সকল সাধারন শিক্ষার্থীদের মতের সাথে মতানৈক্য পোষণ করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত নেই পাবিপ্রবি এর শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন সফল করার লক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন জায়গায় ঐক্য গড়ে তোলা হয় এবং তারই প্রেক্ষিতে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের থেকে বাচাতে মানববন্ধন এর মাধ্যমে সরকারের অযৌক্তিক ভাবে হল -ক্যাম্পাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে বয়কট করেন।

উক্ত মানববন্ধনে পাবিপ্রবি সহ, পসরকারি এডওয়ার্ড কলেজ (পাবনা) , সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রেস ক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে পাবিপ্রবি ও পাবনা জেলার শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

মানববন্ধন এ শিক্ষার্থীদের দাবি গুলো মধ্যে উল্লেখযোগ্য গুলো হলো-

অবিলম্বে হল-ক্যাম্পাসগুলো খুলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের টিকাদান নিশ্চিতকরণ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো নিতে হবে।কেউ করোনা সংক্রমনের জন্য পরীক্ষা না দিতে পারলে তাকে পরে পরীক্ষায় বসার সুযোগ প্রদান। রিভিউ ক্লাস/এক্সট্রা ক্লাস বা ব্যাকলগ ক্লাস, ওপেন ক্রেডিট ইত্যাদি সুবিধা এর মাধ্যমে লকডাউন কালীন ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া। লকডাউনের সমপরিমান সময় সরকারি চাকরির জন্য বৃদ্ধি করা।

এসকল দাবির প্রতি ১৬ একরের পাবিপ্রবির সকল শিক্ষার্থীরা সম্মতি জানিয়ে লকডাউন কর্মসূচীকে সফল করেন এবং শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে যেন প্রানের ক্যাম্পাস পদচারণা মুখর হয়ে উঠে এটাই সবার প্রত্যাশা।

দৈনিক সত্যের সকাল – আশিকুজ্জামান (পাবিপ্রবি)

পূর্ববর্তী খবরমুফতি আমির হামজা আটক
পরবর্তী খবরবগুড়ার আদমদীঘিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য নবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন

Leave a Reply