শুধু সমর্থক নয় সাকিও নিজেকে খুঁজছেন!

প্লে অফ নিশ্চিত হয়েছে আগেই। পাঁচ দলের টুর্নামেন্টে তারকায় ভরা জেমকন খুলনার জন্য সেটা খুব একটা কঠিন কাজ ছিলও না। তবু কাজটা সহজে করতে পারেনি তারা। প্লে অফের আগেও টানা দুই হার। তাতে কোয়ালিফায়ার ম্যাচ খেলা শঙ্কায় তাদের। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মাঠের ক্রিকেটে ফিরলেও পারফর্মার সাকিবের দেখা মেলেনি এখনও। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের গোটা প্রাথমিক পর্বে আশ্চর্যরকম নিষ্প্রভ এই অলরাউন্ডার। সাকিব বললেন ‘একটু বিপাকে আছেন’ তারা। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের আগে নিজেও চেষ্টা করবেন দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর।

গত মঙ্গলবার শেষ বলের রোমাঞ্চে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের কাছে হেরে যায় খুলনা। গতপরশু বেক্সিমকো ঢাকার সঙ্গেও পেরে উঠেনি তারা। এই দুই হার দিয়ে শেষ হয় লিগ পর্বে তাদের ৮ ম্যাচ। তাতে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে এখনো দুইয়ে আছে তারা। তবে এই অবস্থান অন্যদের ম্যাচে নড়ে যেতে পারে। তাতে প্লে অফ খেললেও সাকিবরা কোয়ালিফায়ারের বদলে খেলবেন এলিমিনিটের ম্যাচ।

এক বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষে এই টুর্নামেন্ট দিয়েই ফিরেছেন সাকিব। প্লেয়ার্স ড্রাফটে জেমকন খুলনা নিজেদের প্রথম ডাকেই দলে নিয়েছিল তাকে। তার কাছে প্রত্যাশা বরাবরের মতোই ছিল আকাশচুম্বি। কিন্তু তিনি এখনও পর্যন্ত পারেননি তা প‚রণ করতে। প্রাথমিক পর্বে ৮ ইনিংসে ৭৬ বল খেলে সাকিবের রান ৮২, গড় ১০.২৫। সর্বোচ্চ ইনিংস ১৫ রানের। বল হাতে ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন মাত্র ৫.৭৩। তবে ৮ ম্যাচে মোটে ৫ উইকেট তার নামের পাশে যথেষ্টই বেমানান। চারটি ম্যাচে ছিলেন উইকেটশ‚ন্য। দীর্ঘ বিরতির পর ছন্দ পেতে সময় লাগাটা অস্বাভাবিক নয়। তবে সাকিবের মতো একজনের ৮ ম্যাচেও জ্বলে উঠতে না পারা বিস্ময়কর বটে।

পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে বাজে ব্যাটিং করা সাকিব এদিনও হন ব্যর্থ। ১৮০ রান তাড়ায় তিনে নেমে ৭ বলে মাত্র ৮ রান করে ফেরেন তিনি। ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ হলেও বোলিং দিয়ে কিছুটা পুষিয়ে দিচ্ছিলেন আগের ম্যাচগুলোতে। এদিন সাকিবের বোলিং হয় যাচ্ছেতাই। প্রথম ওভারেই নাঈম শেখের হাতে ৪ ছক্কা খেয়ে ২৬ রান দেন তিনি। ৩ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে দেওয়ায় চতুর্থ ওভার আর করা হয়নি। ব্যাটে-বলে আরেকটি ব্যর্থ এই ম্যাচের পর নিজের পারফরম্যান্সের উন্নতির আশা সাকিব ছেড়ে দিলেন সময়ের হাতে, ‘জানি না… দেখি, কত দ্রুত কামব্যাক করা যায়। চেষ্টা থাকবে যেন ভালো করতে পারি। বাকিটা দেখা যাক…।’

সাকিব যে দলে খেলছেন, কাগজে-কলমে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে তারকাবহুল দল নিয়েও সেই খুলনা টুর্নামেন্টে অধারাবাহিক। শীর্ষ চারে থাকা নিশ্চিত হলেও প্রাথমিক পর্বে শেষ দুই ম্যাচই তারা হেরেছে। এই তারকা নিজেও জানেন, এভাবে হারতে থাকলে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মোমেন্টাম হারিয়ে ফেলবেন তারা। তবে সাকিবের আশা, কোয়ালিফায়ারে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন, ‘টি-টোয়েন্টি যেহেতু মোমেন্টামের খেলা তিন দিনের দুই হারে একটা প্রভাব পড়তেই পারে। সুতরাং আমরা আবার পুনর্গঠিত হয়ে নতুন করে শুরুর চেষ্টা করবো। যেহেতু একটা ম্যাচের ব্যাপার, আমরা যদি ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি তাহলে ভালো ফল সম্ভব।’

এদিন উইকেটও ছিল বেশ ভালো। বল ব্যাটে আসছিল ভালো গতিতে। আগে ব্যাট করে তাই ঝড় তুলে ঢাকা। এক সময় দুশো ছাড়িয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করেছিল তারা। খুলনা ১৮০ করতে গিয়ে সেই উইকেটেই বেশ ধুঁকেছে। সাকিব এজন্য দায় দিলেন টপ অর্ডারকে, ‘আমার মনে হয় উইকেট খুবই ভালো ছিল। দেখেন নিয়মিত উইকেট হারানোর পরও আমরা কত ১৬-১৭ রানে হেরেছি (ম‚লত ২০ রানে)। আমরা যদি একটা বড় জুটি গড়তে পারতাম বা শুরুটা ভালো করতে পারতাম যা আমরা পারিনি। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে আমরা ভালো ব্যাটিং করিনি। ওটা করতে পারলে ম্যাচটা আরও ভালো অবস্থায় যেতে পারতো শেষ দুই ওভারে আমাদের হাতে যদি উইকেট থাকতো।’

পূর্ববর্তী খবরনিম্নআয়ের দেশগুলো ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে;ড. মুহাম্মদ ইউনূস
পরবর্তী খবরমীর মাসুম যুব সমাজকে নষ্ট করেছে, ওর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি : হিরো আলম

Leave a Reply