সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি উলিপুর বহুমুখী আলিয়া মাদ্রাসা!

কুড়িগ্রাম এর উলিপুরে গভর্নিং বডির সীমাহিন দুর্নীতি, লুটপাট, অবৈধ নিয়োগ বানিজ্য সিন্ডিকেট চক্রের কবলে পড়ে ধ্বংসের দারপ্রান্তে উলিপুর বহুমুখী আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যাবস্থা।

অনুসন্ধানে জানাযায়, গত ৩০শে ডিসেম্বর ২০২১ইং উলিপুর বহুমুখি আলিয়া মাদ্রাসায় গভর্নিং বডির পুর্নাঙ্গ কমিটি প্রকাশিত হয়। উক্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে মজিবুল আহসান রাজুর নাম আসে। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি তার নাম প্রকাশ হওয়ার পর কোন ধরনের মিটিং রেজুলেশন না করে, গত ০৭/০১/২০২২ ইং দৈনিক যায়যায় দিন পত্রিকায় ৫টি শুন্যপদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা আজিজ এর কাছে কমিটির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদক কে জানান, গত ৩০শে ডিসেম্বর কমিটি প্রকাশিত হয়েছে কিন্তু আজ অবধী পরিচালনা কমিটির কোন মিটিং কিংবা রেজুলেশন হয়নি। পত্রিকায় নিয়োগ প্রকাশিত হওয়ার ব্যাপারে তিনিও লোকমুখে শুনেছেন কারা তা প্রকাশ করেছে তিনি জানেন না।

সভাপতির বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি অনিয়ম ও নিয়োগ বানিজ্যর ব্যাপারে ব্যাপক অনুসন্ধান করে জানা যায়, মাদ্রাসার নৈশ প্রহরি পদে জনৈক ছালাম দীর্ঘদিন চাকরি করেছেন তাকে তাড়িয়ে ৬ লক্ষ টাকা নিয়ে মাষ্টার রোলে নৈশ প্রহরি হিসেবে চকিদার ফারুক কে চাকরি দেয় হয়েছে। 

পিয়ন পোষ্টে মজিবর হোসেন চাকরিরত থাকা অবস্থায় বিধিবহির্ভুত ভাবে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অন্য আরেকজন কে নিয়োগ দিয়েছেন সভাপতি। 

মাদ্রাসার ক্লার্ক পদের জন্য সভাপতি তার আপন ভাগিনা মাসুম আহাম্মেদের কাছে ২ কিস্তিতে নয় লক্ষ ষাট হাজার টাকা গ্রহন করেছেন, মাসুম আহাম্মেদ নিজেই এ ব্যাপারে প্রতিবেদক কে জানান তাকে চাকরি না দিয়ে একই পদে সভাপতির ভাইয়ের শ্যালক নাজমুল আকন্দকে উক্ত পদে চাকরি পাইয়ে দেবেন মর্মে তার কাছেও সাত লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা গ্রহন করেন।

মাসুম আহাম্মেদ টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টো তাকে মারধর করেছেন এ ব্যাপারে মাছুম থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানান।

এছাড়াও বিশ্বস্ত একটি সুত্রে জানা যায় সভাপতি মাদ্রাসার সামনের লিজ ভুক্ত দোকান থেকে প্রতিমাসে দোকান ভাড়া উত্তলন করে তা মাদ্রাসার কল্যান তহবিলে জমা না করে নিজ পকেটস্থ করেন। মাদ্রাসার পুকুর নিজেই চাষাবাদ করে দির্ঘদিন ধরে ভোগ দখল করে আসছেন।

এই সব অভিযোগ নিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি মজিবুল আহসান রাজুর দৃষ্টি আকর্ষন করলে তিনি প্রতিবেদক কে জানান, লোকমুখে শুনেছি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন এসেছে, কিন্তু আমি তা দেইনি, কে বা কারা দিয়েছে তা জানিনা। ভালকরে খোজখবর নিয়ে উক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রকাশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ পত্রিকায় দেবেন এবং কমিটির সভা করেছেন বলে জানান।

তিনি আরো বলেন, উক্ত প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি ও নিয়োগ বানিজ্যের একাধিক অভিযোগের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন কোন প্রার্থির টাকা নিয়েছি এমন প্রমান দেখালে প্রতিবেদক কে পুরস্কৃত করা হবে।

এহেন পরিস্থিতে সভাপতির একচ্ছত্র দাপটে মাদ্রাসার শিক্ষাব্যাবস্থা থেকে শুরু করে সকল কার্যক্রমে অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যেন দেখার কেউ নেই, এভাবে একটি সচল প্রতিষ্ঠান ধংস্বপ্রাপ্ত হলে শিক্ষানুরাগিরা মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা ব্যাবস্থা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল। তারা এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম-৩ আসন এর সংসদ সদস্য এম.এ. মতিনের হস্তক্ষেপ আশা করছেন এবং সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যাবস্থা নিতে যথাযথ কতৃপক্ষকে নির্দেশ দেবার ও এলাকার মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা ব্যাবস্থার সুষ্ট পরিবেশ বজায় রাখতে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।

 

পূর্ববর্তী খবর৪০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত
পরবর্তী খবরআফগান শিশুদের বাঁচাতে জরুরি সাহায্যের আবেদন ইউনিসেফের

Leave a Reply