সূর্যমুখী চাষে ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন বুনছেন শেরপুরের কৃষকেরা

সেলিম রেজা, শেরপুর (বগুড়া) থেকেঃ সূর্যমুখী ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে শেরপুরের কৃষকরা। কৃষকদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের মালিহাটা গ্রামের ফুল চাষি মিলন এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, প্রথমবারের মতো আব্দুর রউফ জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ শুরু করেছেন। সূর্যমুখী ফুলের বাম্পার ফলনের আশা করছেন মিলন, আব্দুর রউফ সহ শেরপুরের কৃষকরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রণোদনার মাধ্যমে মিলন এ বছর ১ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করছে। অন্য ফসলের চেয়ে কম পরিশ্রমে বেশি আয় হয় জানিয়ে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন কৃষক মিলন। ইতিমধ্যেই সূর্যমুখী গাছে ফুল এসেছে। আর এই সূর্যমুখী ফুল দেখতে দর্শনার্থীদের পদচারণা বেড়েছে ঐ এলাকায়। তারা ফুল তোলে সেজন্য পাহারা দিতে হয়। যেন কেউ ফুল তুলতে না পারে।

মিলন আরও জানান, অল্প সময়ে কম পরিশ্রমে ফসল উৎপাদন ও ভালো দাম পাওয়া যায় সেজন্য সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ মাত্র ৫ হাজার টাকা হবে। মাত্র ৮৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে বীজ বপন থেকে শুরু করে উৎপাদন করা সম্ভব। প্রতি বিঘাতে খরচ বাদ দিয়ে ১৩থেকে ১৮ হাজার টাকা লাভ হওয়ার সম্ভবনা। যা অন্য কোন ফসলের চেয়ে কম পরিশ্রমে ভালো আয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আশা করছেন ভালো আয় হবে।

শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শারমিন আক্তার বলেন, সূর্যমুখী ফুল আমাদের শেরপুর উপজেলায় তেমন চাষ হয়না তবে এবার কুসুম্বী, গাড়িদহ, শাহ্ বন্দেগী, মির্জাপুর, সুঘাট ইউনিয়নে অল্প অল্প করে ১০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ছয় থেকে ৭ মন সূর্যমুখী ফুলের বীজ পাওয়া যাবে। সূর্যমুখী ফুলের চাষ করলে ফুল থেকে তৈল, খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়। এই তেল সর্বনিম্ন বাজার মূল্য ২৫০টাকা। কৃষকদের স্বাবলম্বী করতেই সূর্যমুখী ফুল চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। যদি সফল হওয়া যায় তা হলে আগামীতে সূর্যমুখী ফুল চাষ বেড়ে যাবে।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার প্রত্যান্ত পল্লী গ্রাম মালিহাটা, চন্ডেশ্বর রাস্তার সাথে সূর্যমুখী ফুলের মৌ মৌ ঘ্রান। জমিতে সবুজ পাতার মধ্যে হলুদ ফুল উঁকি দিচ্ছে, বাতাসে দোলছে। সূর্যমুখী ফুল দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত দর্শনার্থী ভীর করছে নিভৃত পল্লী মালিহাটা গ্রামে। সূর্যমুখী ফুল দেখে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মালিহাটা রাস্তার পাশে মিলনের জমিতে দৌল খাচ্ছে ফুল। ফুল যেন হাসিমুখে সূর্যের আলো ছড়াচ্ছে। চারিদিকে হলুদ ফুল আর সবুজের অপরুপ দৃশ্য। এ সৌন্দর্য দেখতে আশপাশের অনেকেই ভীড় জমাচ্ছেন অনেকেই। কেউ কেউ আবার প্রমান রাখতে ফুলের সাথ দাঁড়িয়ে ছবিও তুলছেন।

উপজেলার পার ভবানীপুর থেকে আশা দর্শনার্থী লাবণ্য জানান, সূর্যমুখী ফুল চাষ এখন দেখতেই পাওয়া যায়না। এখানে চাষ করেছে জানতে পেড়ে দেখতে এসেছি। খুব ভালো লাগছে এই ফুলের বাগানে এসে। বগুড়া পলিটেকনিক্যাল কলেজের ছাত্র সিয়াম, নাঈম মোস্তফা জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেড়ে আমরা তিন বন্ধু এখানে সূর্যমুখী ফুল দেখতে এসেছি। ফুলের মৌ মৌ ঘ্রান মৌমাছির ভো ভো শব্দ আর ফুলের সৌন্দর্যে খুব ভালো লাগছে। সূর্যমুখী ফুল যেন হাসিমুখে সূর্যের আলো ছড়াচ্ছে।

পূর্ববর্তী খবরআমার সময়-সুযোগ থাকলে আমি কুবির ছাত্র হয়ে পড়ালেখা করতাম: অর্থমন্ত্রী
পরবর্তী খবরফরিদপুরের সালথায় বিনামূল্যে পাট বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের উ‌দ্বোধন

Leave a Reply