স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে হাবিপ্রবি’র সাধারণ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন কর্মসূচি

করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান অবিলম্বে খুলে দিয়ে স্থগিত পরীক্ষা গুলো নেয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (২৪ মে) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সম্মুখ ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া, স্থগিত পরীক্ষাগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়ে নেওয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণী কার্যক্রম চালুসহ আরো বেশ কিছু দাবি নিয়ে তাঁরা এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, গত মার্চ মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে সারাদেশে যখন জোরালোভাবে আন্দোলন শুরু হয় তখন শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, ১৭ মে হল ও ২৪ মে ক্যাম্পাস খুলে শিক্ষা-কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে। কিন্তু আজ আমরা বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবিতে রাস্তায় মানববন্ধন করছি। এখন আমাদের ভবিষ্যৎ জীবন অনিশ্চয়তে পরে গেছে। শিক্ষার্থীদের বড় অংশই নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। শিক্ষাজীবন শেষে পরিবারের হাল ধরতে হয়। এভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুর্দশা চরমে পৌঁছেছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। দয়া করে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিয়ে সবার স্থগিত পরীক্ষা গুলো দ্রুত নিন।

তাঁরা আরও জানান, ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা না হলে আমরা শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান খোলার আন্দোলনকে আরও বেগবান করবো।

মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন শিক্ষার্থীরা।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে অনতিবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ব্যাচের আটকে থাকা সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা গ্রহণ করা, অতিদ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হল খুলে দেওয়া, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে করোনা ভ্যাক্সিনের আওতায় আনা ও সেশনজটের হাত থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষায় অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্বে থাকা উপাচার্য বলেন, ” আমরা শিক্ষামন্ত্রনালয়ের দিকে তাকিয়ে আছি। তারা প্রজ্ঞাপন দিলেই আমরা অতি অল্প সময়ের মাঝে ডীন কমিটির মিটিং এ বসে পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারবো। মন্ত্রানালয় যদি স্ব-শরীরে পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে সুপারিশ করে তবে স্ব-শরীরে পরীক্ষা নেয়া হবে। অন্যথায় যদি অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে সুপারিশ করে তবে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান থাকবে তারা যাতে লেখাপড়ার মধ্যেই থাকে। কারণ আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যাশা করছি দ্রুতই একটি সিদ্ধান্ত আসবে “।

দৈনিক সত্যের সকাল – আয়শা সিদ্দিকা (হাবিপ্রবি প্রতিনিধি)

পূর্ববর্তী খবরইতালিতে ক্যাবল কার বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ১৪
পরবর্তী খবরমুফতি আমির হামজা আটক

Leave a Reply