হবিগঞ্জ ল্যাব-এইড হসপিটালে অনিয়ম ; এস.কে ঘোষ ডাঃ নয়-একজন কসাই?

মাহফুজুর রহমান সোহাগ, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:- হবিগঞ্জ শহরের ল্যাব এইড প্রাইভেট হাসপাতাল লিমিটেডের কর্তব্যরত চিকিৎসক গাইনী কনসালটেন্ট ডাঃ এস কে ঘোষ ও একই প্রতিষ্ঠানের আলট্রাসনো বিশেষজ্ঞ ডাঃ এস. এম তারেক এমবিবিএস এর বিরুদ্ধে ভূয়া রিপোর্ট প্রদান ও জরায়ুর টিউমার চিকিৎসার নাম করে মোটা অংকের টাকা দাবী সহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে এক রোগী।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী ও-ই রোগী বি-বাড়িয়া জেলার বিশ্বরোড কুট্টাপাড়া এলাকার মৃত মোঃ আনিসুর রহমান ও মৃত মোছাঃ রাবেয়া বেগম এর কুমারী কন্যা মোছাঃ রুমানা আক্তার রুনা (১৯)। বর্তমানে লস্করপুর এলাকায় বসবাস করেন এবং হবিগঞ্জ ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পার্ক ‘প্রান-আরএফএল’ গ্রুপে চাকুরী করে অসহায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।

হবিগঞ্জ ল্যাব-এইড হসপিটালে অনিয়ম ; এস.কে ঘোষ ডাঃ নয়-একজন কসাই?
রোগীর কাছ থেকে সংগৃহীত রিপোর্ট এর ছবি।

এ ব্যাপারে পিতা-মাতা হারা এতিম রাবেয়া বেগম ডাক্তার নামক কসাই কর্তৃক প্রতারিত ! ভুক্তভোগী রুনা জানায়, গত ০৪-১২-২০২০ইং তারিখে পেটে ব্যাথা ছিলো তাই আমি চিকিৎসার জন্য শহরের বেবীষ্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত ল্যাব-এইড প্রাঃ হসপিটাল লিমিটেডে চিকিৎসার জন্য কর্তৃপক্ষের লোক আমার কাছ থেকে ভিজিটের টাকা নিয়ে হাতে একটি রিসিট ধরিয়ে দিয়ে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকতে বলে এবং জানায় হবিগঞ্জের সবচেয়ে বড় ডাঃ এস. কে ঘোষ আমার চিকিৎসা করবেন।

বেশ কিছুক্ষন পর আমার নাম ধরে ডাক দিয়ে আমায় ভিতরে যেতে বললে, আমি ভেতরে যাওয়া মাত্র ডাঃ কি সমস্যা জানতে চাইলেন কিন্তু বলার সুযোগ না দিয়েই তিনি টেবিলে থাকা প্রেসক্রিপশন লিখে দিয়ে বললেন আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষাটি তাড়াতাড়ি করিয়ে রিপোর্ট-টা আমাকে দেখাবেন। আমি ওনার কথা মতো বের হওয়ার সাথে সাথে একটি লোক এগিয়ে এসে বললেন আলট্রা করতে হবে তাই এখানে টাকা জমা দিন এবং দিয়ে আমার সাথে চলুন আমি তার কথা মতো টাকা জমা দিয়ে ওনার সাথে আলট্রা রুমে গেলে আলট্রা করে কিছুক্ষণ পর রিপোর্ট দেয়।

আমি তা নিয়ে ডাক্তারকে দেখালে, ডাঃ এস. কে ঘোষ জানান আমার জরায়ু তে,টিউমার হয়েছে? শীঘ্রই এ-র অপারেশন লাগবে এবং অপারেশন ২০/২৫ হাজার টাকায় হয়ে যাবে। অপারেশন না করালে ইনফেকশন হয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে কোনদিন মা হতে পারবেন না। পরে প্রেসক্রিপশনে- ক্যাপসুল-‘ডক্সিন’২-বেলা ৭.দিন। ট্যাবলেট-‘এ্যালজিন’ ২-বেলা, ৫-দিন) উক্ত ঔষধ লিখে দিয়ে এবং আপাতত এগুলো খেতে বলেন এবং অতি দ্রুত টাকা যোগাড় করে ওনার সাথে যোগাযোগ করিতে বলেন।

আমি খুব ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে চিন্তায় পড়ে গেলাম, এতো টাকা কোথা থেকে কি ভাবে যোগাড় করবো! ভাবতে ভাবতে হসপিটালের বাহিরে আসা মাত্র একটি লোক আমার গতিরোধ করে জানায় ডাঃ তারেক স্যার পাঠিয়েছেন এবং বলছেন আপনার আলট্রাসনো পরীক্ষার রিপোর্ট ও চিকিৎসাপত্র গুলো দিতে তখন আমার কিছুটা সন্দেহ হওয়ায় অনীহা করি। এসময় লোকটি থাবা মেরে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। লোকটির আচরণে আমি ক্ষিপ্ত হওয়ার সাথে সাথে দৌড়ে চলে যায়। পরে বিষয়টি আমার পরিচিত লোকেদের সাথে আলোচনা করলে।

তারা অন্যত্র চিকিৎসা ও আলট্টাসনো করার জন্য পরামর্শ দেয় কিন্তু ব্যয় বহুল খরচের কথা ভেবে সাহস করতে পারছিনা। এদিকে শরীরে জটিল রোগ রয়েছে- মনে করে কঠিন দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। এক পর্যায়ে পরিচিত এক আত্বীয়ের পরামর্শে, সীমিত খরচে অপারেশন ও চিকিৎসার জন্য ডাঃ এস.কে ঘোষের চিকিৎসাপত্র ও রিপোর্টের রেফারেন্সে গত ০৭-১২-২০২০ইং তারিখে রাত্র সাড়ে ৮ঘটিকায় হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে গাইনী ওয়ার্ডে ভর্তি হলে পরের দিন ০৮-১২-২০২০ইং তারিখে গাইনী কনসালটেন্ট ডাঃ আরশেদ আলী দৈনন্দিন রুটিনে হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে রোগী পর্যবেক্ষণে এসে, ধারাবাহিক ভাবে আমাকে দীর্ঘ সময় নিবিড় ভাবে দেখার পর প্রসাব পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, হরমোন পরীক্ষার সাথে, বিশিষ্ট রেডিওলজিষ্ট ডাঃ পরেশ চন্দ্র দেবনাথ এর নিকট আলট্রা করানোর নির্দেশ দেন। ওনার নির্দেশনায় শহরের বেবীষ্ট্যান্ড মোড়ে আপন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এসে আলট্রা করার পর ডাঃ পরেশ চন্দ্র দেবনাথ জরায়ুতে টিউমারের কোন আলামত না পাওয়ায় দু’টানায় পড়ে যান। এ সময় তিনি পরিপূর্ণ রিপোর্ট প্রদান না করে-পায়খানা নরম ও ক্লিয়ার হাওয়ার জন্য রাতের খাবারের পর, শুয়ার পূর্বে “ডুরালাক্স” নামীয় দুটি ট্যাবলেট সেবন করার পরামর্শ দেন এবং পরামর্শ অনুযায়ী পরের দিন ০৯-১২-২০২০ইং তারিখে পুনরায় আলট্রা করার পর টিউমার না থাকার বিষয় নিশ্চিত হয়ে। পূর্নাঙ্গ রিপোর্ট প্রদান করেন। পরে ১০-১২-২০২০ইং তারিখে সমস্ত পরীক্ষার রিপোর্ট যাচাই করিয়া জরায়ুতে কোন প্রকার টিউমারের আলামত না পেয়ে ওই দিনই হাসপাতাল থেকে রিলিজ প্রদান করে ডাঃ আরশেদ আলী জানান, ভয় পাওয়ার কোন কারন নেই, আপনি সম্পূর্ণ নিশ্চিত থাকুন। ল্যাব-এইড হাসপাতাল ও চিকিৎসক কর্তৃক প্রতারিত হওয়ার সুষ্ঠু বিচার দাবী করিয়া, আর্তনাদ করিতে দেখে

উল্লেখিত, অভিযোগের সত্যতা কি.?
জানতে চাইলে, রুনা সমস্ত চিকিৎসাপত্র গুলো প্রমান হিসেবে তুলে ধরেন।

হবিগঞ্জ ল্যাব-এইড হসপিটালে অনিয়ম ; এস.কে ঘোষ ডাঃ নয়-একজন কসাই?
রোগীর কাছ থেকে সংগৃহীত রিপোর্ট এর ছবি।

রুনার প্রদানকৃত চিকিৎসাপত্র ও রিপোর্টের যাচাই বাছাই করে ডাঃএস. কে ঘোষ এর সাথে যোগাযোগ করিলে অপারেশন এর কথা বলে, কখন কিভাবে করাতে হবে, কতটাকা খরচ লাগবে জিজ্ঞেস করিলে, তিনি খুব মিষ্টি স্বরে জানান, দেখুন এসব জটিল বিষয়ে দেরী করা ঠিক নয়। আপনি টাকা পয়সার কথা না ভাবিয়া, যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে ভর্তি করিয়ে অপারেশন করান। পরে যখনই বলা হলো যে ডাঃ আরশেদ আলী রোগীর চিকিৎসা করে, ও ডাঃ পরেশ চন্দ্র দেবনাথ এর আলট্রা রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে জানিয়েছেন রোগীর জরায়ুতে কোন টিউমারের আলামত পাওয়া যায় নাই।

তাহলে এখন কি করবো?

ওহহ, আচ্ছা ঠিক আছে আমি একটা মিটিংয়ে আছি, মিটিং শেষ করে আপনাকে কল দিচ্ছি বলিয়া এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় অনুরোধক্রমে সময় চাহিয়া, কোন আলট্রা টি সঠিক, কোনটি ভূয়া জিজ্ঞেস করিলে তিনি জানান, দেখুন ডাঃ তারেক সাহেব আলট্রা করে রিপোর্ট দিয়েছেন, আমি রিপোর্টের ভিত্তিতে অপারেশন এর কথা বলেছি। বলিয়া ফোনটি রেখে দিয়েছেন। পরে ডাঃ তারেকের সাথে যোগাযোগ করিতে বহু চেষ্টা করে সম্ভব হয় নাই। আর সম্ভব হলেই বা কি করতে পারবে রুনারা ??

প্রতিদিন এমন শত শত রুনা, এসব ডাক্তার নামক কসাই সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে জবাই হচ্ছেন। আদৌ কি পাবে রুনা- তার সাথে ঘটে যাওয়া প্রতারণার সঠিক বিচার??

পূর্ববর্তী খবরনবীগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে প্রাইভেটকার ও গাজাসহ আটক-৩
পরবর্তী খবরঈশ্বরদীতে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশনের কার্নিভাল অনুষ্ঠান সম্পন্ন

Leave a Reply