31 C
Dhaka
Thursday, September 29, 2022

হলে না থেকেও এবং পরিবহন সেবা না নিয়েও অতিরিক্ত ফি দিতে হচ্ছে ববি শিক্ষার্থীদের

আয়শা সিদ্দিকা উর্মি, ববি প্রতিনিধিঃ আবাসিক হলে না থাকলেও এবং পরিবহণ সেবা না নিলেও পরিশোধ করতে হচ্ছে হাজার টাকা ফি।হ্যা,এমনটাই দাবি করছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রকাশিত একটি নোটিশকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।নোটিশটিতে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ২য় বর্ষ ও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা এবং ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ৩য় বর্ষে(২য় সেমিস্টারে) ভর্তির ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা পরিবহন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস শনাক্তের ৯ দিনের মাথায় সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়,এরপর ধাপে ধাপে সেই ছুটি বৃদ্ধি করা হয়। দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় প্রশাসনিক, একাডেমিক, হল ও পরিবহণ খাতে আনুষঙ্গিক খরচ কমেছে। তবুও শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ভর্তি ফি কেন কমানো হয়নি এমন প্রশ্নই তুলছেন ববি শিক্ষার্থীরা।

ইতোমধ্যে ঢাবিসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার হল ও পরিবহণ ফি মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি পরিবহন ও হল ফি মওকুফ করা হোক।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, “করোনার প্রাদুর্ভাবে ক্যাম্পাস দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কোনো শিক্ষার্থী পরিবহন সার্ভিস ব্যবহার করেনি এবং আবাসিক শিক্ষার্থীরাও হলে অবস্থান করতে পারেনি। বৈশ্বিক এই মহামারির প্রভাবে অনেক শিক্ষার্থীর পরিবার অর্থনৈতিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবহন সেবা না নিয়েও ও আবাসিক হিসেবে না থেকেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক চাপিয়ে দেওয়া এই আর্থিক বোঝা বহন করা অযৌক্তিক এবং অনেকের জন্য অসম্ভব প্রায়। তাই শিক্ষার্থী হিসেবে আবাসিক হল ফি ও পরিবহন ফি মওকুফ চাই।”

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আলী হোসেন বলেন, “করোনা মহামারির কবলে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় দেড় বছর যাবৎ বন্ধ।এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের জন্যে ঘুরছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের চাকা, জ্বলছে না হলের বাতি, তারপরও দিতে হবে পরিবহন ও আবাসিক হল ফি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকাংশের পরিবার যেখানে করোনা প্রকোপে কর্মহীন, সেখানে ববি প্রশাসনের এরকম সিদ্বান্ত শিক্ষার্থীদের উপর জুলুম এবং শিক্ষার্থীদের জন্যে হতাশাজনক । আশা করি ববি প্রশাসন তাদের গৃহীত সিদ্বান্তকে বিবেচনায় নিয়ে একাডেমিক খরচসহ ধার্যকৃত যে সকল ফিগুলোর সাথে শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক ছিলো না সেগুলিকে বাতিল করবেন। এবং পরবর্তিতে যৌক্তিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্বান্ত গ্রহন করবেন।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোঃ খোরশেদ আলম বলেন, “শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের নিকট যৌক্তিকতা তুলে ধরে দাবি করলে সেটা নিয়ে আলোচনা হয়ে একটা সিদ্ধান্ত হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য যেটা ভালো হয় এবং শিক্ষার্থীদের যাতে কষ্ট না হয় সে বিষয়ে আমরা বিবেচনা করবো।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অ.দা) প্রফেসর ড. মো. মুহাসিন উদ্দিন বলেন, ” বিভিন্ন ফি মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স কমিটি ধার্য করে থাকেন যেটা পরবর্তীতে ইউজিসিতে যায়। ফি কমানোর বা বাড়ানোর এখতিয়ার আমার নেই। তাছাড়া ইউজিসি থেকে এখন পর্যন্ত পরিবহন ফি কমানোর বিষয়ে নির্দেশনা আসে নি। তবে কারো আপত্তি থাকলে সেটা লিখিতভাবে জানালে আমরা অবশ্যই বিবেচনায় আনবো।”

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Leave a Reply

লেখক থেকে আরো